Header Ads

জাতীয় লোক সংস্কৃতি পরিষদের অধিবেশন

নয়া ঠাহর প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারী : লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির চর্চা, প্রসার, সংরক্ষন ও গবেষনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে গড়ে উঠা   জাতীয় লোকসংস্কৃতি পরিষদের দুইদিনের তৃতীয় বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হল কুমারঘাটের  পঞ্চায়েতীরাজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সন্ধ্যায় অধিবেশনের উদ্বোধন করেন মৎস্য  মন্ত্রী সুধাংশু দাস। বিধায়ক ভগবানচন্দ্র দাস, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক কিশোর ভট্যাচার্য, লোকসংস্কৃতি গবেষক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মাইতি,অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রমাকান্ত দাস, মেঘালয়ের তুরা সরকারি মহাবিদ্যালয়ের  অধ্যাপক, লোকসংস্কৃতি গবেষক অলক সাহা, অসমের  নিলামবাজার কলেজের অধ্যাপক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক ড.অনির্বান দত্ত,রাজ্যের  লোকসংস্কৃতি গবেষক অশোকানন্দ রায়বর্ধন,  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৃষ্ণেন্দু দে,  সাহিত্যিক সৌম্যদীপ দেব, সাহিত্যিক ও আইনজীবী হৃষিকেশ নাথ, লোকসংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড.অমিত চট্টোপাধ্যায প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। লোকসংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রমাকান্ত দাসকে যজ্ঞমনি রিয়াং স্মৃতি সম্মান এবং লোক গবেষক অশোকানন্দ রায়বর্ধনকে  কবি ও নাট্যকার শঙ্কর দেবনাথ স্মৃতি সম্মান, লোকসঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য শান্তিনিকেতনের লোকসঙ্গীত শিল্পী চৈতি বিশ্বাসকে 
প্রমোদ-সুধা-প্রভাবতী স্মৃতি সম্মান সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৬ জন গুনীকে বিভিন্ন সন্মান প্রদান করা হয় অধিবেশনে। শনিবার অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে পয়েটস ইউনিট মঞ্চে
শিলচরের শাদ্বল -  পত্রিকার সম্পাদক রানা চক্রবর্তী ও ত্রিপুরার সাহিত্যিক ও আইনজীবী  হৃশিকেশ নাথের পৌরাহিত্যে  লোকসাহিত্য বিষয়ক আলোচনাচক্রে অংশ নেন মেদিনীপুরের কবি ও সাহিত্যিক অরূপকুমার ভূঁইয়া, মুর্শিদাবাদের  লোকসংস্কৃতি গবেষক ডাঃ তাপসী ভট্টাচার্য,অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লোকসংস্কৃতি গবেষক ড.রমাকান্ত দাস, লোকসংস্কৃতি গবেষক অশোকানন্দ রায়বর্ধন, কলকাতার লোকসংস্কৃতি গবেষক ড.চিত্তরঞ্জন মাইতি, ভূতত্ত্ববিদ সুমন মাইতি ও  সাহিত্যিক সৌম্যদীপ দেব প্রমুখ। আলোচনাচক্র শেষে অদ্বৈত চরন দাস স্মৃতি মঞ্চে  আন্ত: রাজ্য কবি সম্মেলনে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন ৭৮ জন কবি। গৌহাটির কবি বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ও ধর্মনগরের  কবি নিবারন নাথ   পৌরাহিত্য করেন কবি সম্মেলনে। কবি সম্মেলনে গুণীজনদের হাত ধরে প্রকাশিত হয় নিবারণ নাথ সম্পাদিত নীলকন্ঠ, নিভা চৌধুরী সম্পাদিত  বহ্নিশিখা, গোপাল চন্দ্র দাস  সম্পাদিত মনুতট, জগদীশ দেবনাথ সম্পাদিত ঊনকোটি 
আলাল উদ্দিন সম্পাদিত ফোয়ারা  ও অমিশা দাস সম্পাদিত পারমিতা লিটল ম্যাগাজিনের। জাতীয় লোকসংস্কৃতি পরিষদের মুখপত্র অমিত চট্টোপাধ্যায়, মন্টু দাস এবং অহীন্দ্র  দাস সম্পাদিত লোকজ ও গোপাল চন্দ্র দাসের গল্প সংকলন গফিসা, হৃষিকেশ  নাথের ছড়া সংকলন ধুৎতেরিকি ও গানের লিরিক -  রৌদ্রস্নাত গোধূলি চুম্বন এবং  নিবারণ নাথের একগুচ্ছ কবিতা আগনের উঠোন ' রও মলাট উন্মোচন হয় কবি সম্মেলনে।অধিবেশনে কবিতা পাঠে অংশ নেন কলকাতার দেবিকা বন্দোপ্যাধায় ও অনন্যা চক্রবর্তী। অধিবেশনের দ্বিতীয় সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন লোক শিল্পী চৈতি বিশ্বাস সহ আগরতলা ও কুমারঘাটের শিল্পীরা ধামাইল, বাউল ও রবীন্দ্রনাথের গান পরিবেশন করেন। অধিবেশনে  উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শাশ্বতী দাস ও  সহশিল্পীরা।  স্বাগত ভাষণ রাখেন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কবি গোপালচন্দ্র দাস। লোকসংস্কৃতি বিষয়ক সর্বভারতীয় এই  অধিবেশনে  বিভিন্ন রাজ্যের গবেষক  ও কবি, সাহিত্যিকদের উপস্থিতি  ত্রিপুরাকে গৌরবান্বিত করেছে বলে মন্তব্য করে জাতীয় লোকসংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি কবি মন্টু দাস বলেন,এই অধিবেশন  শুধু লোকসংস্কৃতি গবেষণা নয়, ত্রিপুরার সাহিত্য চর্চার ইতিহাসেও এক মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.