Header Ads

সুন্দরবনে মাত্র ১০৭টি বাঘ আছে বেঙ্গল জোন এ বাঘ নেই।সুন্দরবন সুন্দর মনোরম অভিজ্ঞতা



অমল গুপ্ত:   সুন্দর বন থেকে সুন্দর স্মৃতি নিয়ে ফিরে এলাম।   সুন্দর বনের আগের গ্ল্যামার নেই তবে পর্যটকদের  থাকা খাওয়া দাওয়ায় এলাহি ব্যবস্থা,সুন্দর রাতে থাকার ব্যবস্থা । সুন্দর  বন গাছের শিকড় ধরে রাখার ম্যানগ্রোভ গাছ প্রায় ধংস, কিছু আখরোট,  গরাইগাছ সুন্দরী গাছ ,বুনোঝোপ ছাড়া কিছু দেখা গেল না। বালিয়াড়িতে , ঘাস ,দূরে তাল খেজুর লোনা জলে কাদা মাটি , তীরে । ম জমুত দেওয়াল দেওয়ার কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং  মহকুমা  অন্তর্গত  বারুই পুর  জেলার সুন্দর বনের মুড়ি নদী  প্রায় অর্ধেকটা বাংলদেশে পড়েছে। ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার  সুন্দর বনের ৬০ শতাংশ  বাংলদেশে পড়েছে। বাঘের সংখ্যা  বাংলদেশে  প্রায়  ২০০ বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতের অংশে ১২০০ মত লঞ্চের  ৫০০মত চলে।  লোনা জলের দেউ  সুদূর সাইবেরিয়া  থেকে আসা বিপন্ন প্রজাতির সারস , মেঘ মুক্ত উজ্জ্বল আকাশ কে রাঙিয়ে দিয়েছে।  নদী কিনারে খাল বিল  থাকা স্থানীয় কটেজ মালিক উৎপল  জানান   সুন্দরবনে ১২০ টি বাঘ আছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি ১০৭ বেশি নেই।দোকানদার রেখা জানান মাঝেমধ্যে নদী পেরিয়ে বাঘ  সাঁতার  কেটে আসা বাঘ দেখা গেছে। খাটাস , বানর, সাপ দেখা গেছে। অন্য জন্তু নেই। দুরাত্রী তিন দিনের  খাওয়া দেওয়া তালিকা দেওয়ার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না।  কান্দি থেকে বাসে ৪০০ কিলোমিটার বাসে কষ্টকর সফর ।তারপর সেবা আর সেবা ।বাস থেকে  বাবা সুরেন্দ্র নামে লঞ্চে চেপেই গরম গরম  লুচি আলুর দাম ,জয়নগরের মোযা ,দুপুরে মাছ ,চিঁড়ি ,পোলাও ,  কমলা লেবু , মাছ ভাজা   ,রাতে  চিকেন পাকুড়ি , চা কফি,চিলি ,চিকেন, সাদা পোলাও। আদিবাসীদের ঝুমুর নাচ ,বাউল  প্রদর্শন করা হয়। দিনভর লঞ্চ গুলি নদীতে  ঘুরছে।  ,গোসাবা - পাখিররালয় ,সজনেখালি  পর্যন্ত লঞ্চে ঘুরতেই থাকলাম ৩০,৩৫ জন পর্যটক। রাতে লঞ্চের  নিচে রুম  বিছানা  সব ভালো ব্যবস্থা । চিত্রা,পায়েল ,সুভাষ কর্ণ  আমরা ৫জনের মাথাপিছু   টুর  পাকেজ লেগেছে তিন হাজার ৬০০ টাকা।  গতকাল একজোড়া বর্ণময় মাছ রাঙা পাখির  ছবি তুলতে দুই  বিদেশি সংবাদিক লঞ্চ থেকে অনুসরণ করতে  দেখলাম। অন্তিম দিনে সব   কুয়াশা ভরে গেছে।সাধনা , কল্পতরু  , বিনায়ক, পূর্ণিমা প্রত্যেকটি লঞ্চের যাত্রীদের সজনেখালী নিয়ে গেল।   কচ্ছপ একটি কুমির ছাড়া  কিছু  নেই, এক বনে বনবিবির প্রতীমা । বাঘের অভিভাবক  বাঘ যাতে দেখা না যায় তার প্রার্থনা ও পুজো করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানান সুন্দর বনে  ৪৮ টি  প্রজাতির গাছ আছে।আজ  সকালে চা বিস্কুট ,লুচি  আলুর দম,আর খেজুর গুরের মিষ্টি ,যাবার বেলায়  খাসির মাংস  বাসমতি   চালের গরম গরম ভাত রাতেও মাছ ভাত। সন্ধ্যার সময় লঞ্চ গুলি থেকে জাতীয় পতাকা নামিয়ে নেওয়া হল।আর সবুজ রঙের আলো জ্বালানো হল। এই সময় প্রচুর সাগর পাখি সি গার্ল  দলে দলে ভাসতে দেখা গেল। এক বন রক্ষী জানান   এখন ক্যামেরা বসিয়ে বাঘ গণনা করা হয়।  বাঘের গায়ের ডোরা দেখে গণনা।মুরগি ,খাসি , মাছের সঙ্গে এক  রাসায়নিক মিশিয়ে এক খাদ্য তৈরি করে ক্যামেরার কাছে রাখা হয়।তার গন্ধে বাঘ ছুটে আসে  ক্যামারা তে ধরা পড়ে।তিনি জানান জঙ্গলে হরিণ আর বানরের বন্ধুত্ব আছে।বাঘ এলেই সতর্ক করে দুই বন্ধু।জানান হেটাল গাছে বাঘের কালো রংয়ের মত রং থাকতে বনের বাঘ ওই গাছের আড়ালে  গা ঢাকা দেয়। ৪ জানুয়ারি থেকে আমরা সুন্দরবনে লঞ্চে ঘুরে ঘুরে  জঙ্গলে কিনারে গেলাম। কাদা মাটিতে গাছের ভিড়ে কি তিনি আমাদের রয়েল বেঙ্গল টাইগার লুকিয়ে আছে ? পর্যটকদের সবার জোড়া চোখ  কে হতাশ করলো। লঞ্চ  তিনঘন্টা র পর মোহনা পাঁচটি নদী মুখে পৌঁছালো, বিশালতায় গভীর সাগর রঙের ফারাক ঘটেছে। বঙ্গোপসাগরের সূচনা   দূরে জঙ্গল আর গভীরে  , কিছু তীরবর্তী এলাকাতে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে।বাঘ যাতে সাঁতরে সাগরে ঢুকে যেতে না পারে তাই সতর্কতা।    নদীতে পর্যটকদের কাছে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ,মদ খাওয়া   অনুমতি নেই।  লঞ্চ চালকরা জানান লঞ্চ ইঞ্জিন চালাতে প্রায় ঘণ্টা তে তিন লিটার ডিজেল কেরোসিন লাগে।প্রতিদিন প্রায় ৫০০; চললে ডিজেলের কার্বন বিষ ছড়াচ্ছে নদীতে জল দূষণ হচ্ছে।  কাজিরাঙ্গা রাষ্ট্রীয় উদ্যানে প্রতিদিন ৩০০ করে জীপ সাফারি চলে।ওখানে প্রতি  ঘণ্টায় ৫লিটার ডিজেল লাগে।বিশাল পরিমাণ কার্বন বিষ ছড়াচ্ছে।সবুজ কচি পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে।সেখানে জাতীয়   সড়কে ২৪ ঘণ্টা  গাড়ি চলে।গাড়ির শব্দ জীপ সাফারির বিকট শব্দ বিপন্ন প্রজাতির গণ্ডার শান্তিতে ঘুমাতে পারে না।ডিজেলের বদলে ব্যাটারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছি।সুন্দরবন সবুজ প্রকৃতি বাঁচানো যেতে পারে।  সব তীর ছেড়ে এসে সুন্দরবনের তীরে   এঙ্কর ফেলে নৌকা আটকালাম   সূর্যদয় থেকে  সূর্যাস্ত জীবনের জীবন যন্ত্রনা  সব অর্ঘ লিলাম সুন্দরের কোলে আপার শান্তি জীবন বোধ  সংখ্যার  ভালবাসার তীরে   ভাসিয়ে ফিরে এলাম।






। আর চোখের জল ফেলা বিদায়  সম্ভাষণ আর মনোরম সুখ স্মৃতি  যা ভোলা যাবে না। বুবাই ট্রাভেল  নাম বুদ্ধ নায়েক   এই লঞ্চ গুলি চালাচ্ছে। মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে ৯৬০ ৯৩৮ ৩৭৭২.

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.