Header Ads

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রেসিডেন্ট স্বামী রঙ্গনাথা নন্দ মহারাজের স্মরণে

*রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ত্রয়োদশ প্রেসিডেন্ট স্বামী রঙ্গনাথানন্দ মহারাজের আজ শুভ জন্মদিবস।*  _স্বামী রঙ্গনাথানন্দ (পূর্বাশ্রমের নাম শঙ্করণ কুট্টি) কেরালার ত্রিচূর-এর কাছে ত্রিক্কূর নামক গ্রামে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।_

     একটি বারো-তেরো বছরের নিতান্ত বালক একদিন তার মায়ের সামনে তার এক বন্ধুকে কিছু খারাপ কথা বলে। *মা তক্ষুনি সস্নেহ ধমকের সুরে তাকে বলেছিলেন, "বাবা, তোমার জিহ্বাতে সরস্বতী বা বাণীর অধিষ্ঠান। অপরকে খারাপ কথা বলে সে স্থান অপবিত্র করো না। সরস্বতী যে বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী; সে স্থানকে অপবিত্র করা মানে দেবী সরস্বতীকে অবমাননা করা।"* _সেই বালক পরবর্তিকালে জীবনসায়াহ্নে উপনীত হয়ে বলেছিলেন, "সেদিনের সে উপদেশ সরাসরি আমার মস্তিষ্কে ও হৃদয়ে প্রবেশ করেছিল এবং গত সাত-আট দশক ধরে তা আমাকে প্রভাবিত করে রেখেছে।"_
_শঙ্করণের জন্ম সম্বন্ধে বেশ মজার কাহিনি আছে। ছয়টি পুত্র সন্তানের পর মা-বাবার বড় সাধ একটি কন্যা সন্তানের। সেসময় তাঁরা বেড়াতে গেছেন ব্যাঙ্গালোর। কাছেই শঙ্কর মঠ। নিত্য সেখানে গিয়ে দেবতার কাছে পূজা দেন। কাতর প্রার্থনা জানান মনোবাসনা পূরণের। ক্রমে লক্ষ্মীকুট্টী আম্মা গর্ভবতী হন এবং আশ্চর্য ব্যাপার -আবার জন্ম দেন এক পুত্র সন্তানের। মা-বাবার বিশ্বাস, ভগবান শঙ্করের ইচ্ছায় এবার তাঁদের পুত্রলাভ। অতএব পুত্রের নাম রাখেন শঙ্করণ। ..._

     *সেদিনের সেই বালক আর কেউ নন, পরবর্তিকালের স্বামী রঙ্গনাথানন্দ -রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের ত্রয়োদশ সঙ্ঘাধ্যক্ষ।* _জীবনের অঙ্কুরোদগমের মুখে তাঁর মা যেভাবে ছোট্ট বীজটির মধ্যে বিশাল মহীরুহ হয়ে ওঠার দিগনির্দেশ করেছিলেন, তা তাঁর জীবনে মূর্ত হয়ে উঠেছিল প্রায় ঠিক সেইভাবেই। যথার্থই স্বামী রঙ্গনাথানন্দজীর জিহ্বাতে ছিল সরস্বতী বা বাণীর অধিষ্ঠান। সেই বলেই বলীয়ান হয়ে তিনি যেন ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে সমগ্র পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বারবার ছুটে বেড়িয়েছেন এদেশের সনাতন আধ্যাত্মিকতা, ধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতির প্রচারক এবং আধুনিক জীবনের প্রেক্ষাপটে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের সুমহান বাণীর বার্তাবহ হয়ে। সে কাজে তিনি লব্ধপ্রতিষ্ঠ এবং অত্যুচ্চ সম্মানের বিরল অধিকারী।_

 শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অন্যতম পার্ষদ স্বামী শিবানন্দজীর থেকে ১৯৩৩ সালে দীক্ষাগ্রহণ করেন। ৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ তিনি প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী ১৬ বছরে কমপক্ষে ষাট হাজার ভক্ত তাঁর থেকে দীক্ষা লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে "ইন্দিরা গান্ধী আওয়ার্ড ফর নেশনাল ইন্টিগ্রেশন" এবং ১৯৯৯ সালে "গান্ধী শান্তি পুরস্কার" লাভ করেন এবং সেগুলি তাঁর নির্দেশানুসারে রামকৃষ্ণ মিশনকে ভূষিত করা হয়। ২০০০ সালে ভারত সরকার তাঁকে "পদ্মবিভূষণ" প্রদান করেন কিন্তু যেহেতু মিশনের পরিবর্তে এটি তাঁর ব্যক্তিগত নামে দেওয়া হয়েছিল, সেজন্য তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাঁর জন্মশতবার্ষিকী স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেন। 

এই পূন্যদিবসে  জানাই ভূলুণ্ঠিত প্রণাম।🙏

=====================

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.