Header Ads

বাংলদেশে হিন্দু বিরোধী জেহাদ

-:অতঃ বাংলাদেশ কাহিনি:-
 
  প্রতিবেদক- বিজয় চক্রবর্তী
    সাধারন সম্পাদক 
    অসম নাগরিক মঞ্চ।


আমাদের প্রতিবেশী, লক্ষ লক্ষ ভারতীয় বাঙালির পিতৃ-মাতৃ ভূমি,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার বাংলা আবারও কট্টর হিন্দু বিদ্বেষী ইসলামি  মৌলবাদী জমায়েত ইসলামি ও রাজাকার নিয়ন্ত্রিত বেনামি সামরিক সরকারের অধীনে। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত তথা সংবিধান স্বীকৃত শেখ হাসিনার সরকার আরবীয় বসন্ত প্রবাহে ও সামরিক চাপে পদত্যাগ করে প্রাণ বাঁচাতে ০৫ ই আগষ্ট, ২০২৪,  তাঁর পিতৃ -মাতৃ ভূমি  তথা জন্ম ভূমি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সঙ্গে আছেন তাঁর সহোদর ছোট বোন, অভিবাসী বাংলাদেশি, শেখ রেহেনা। তাঁর দেশ ছাড়া মাত্র সমগ্র বাংলাদেশে নজির বিহীন অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে যা প্রকাশিত হচ্ছে তা দেখে মনে হয় বাংলাদেশ যেন লুণ্ঠন কারি দাঙ্গাবাজ, অসভ্যদের দের ভূ স্বর্গ।১৯৭১ এর স্বাধীনতা পর্বের মত নির্বিবাদে চলছে হিন্দু নির্যাতন, মট মন্দির ভাঙ্গা, অগ্নী সংযোগ।
         বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা দেখে রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের একটি প্রেস নোটের কোথা মনে পড়ে গেল। মুখপাত্র মারিয়া জাখা রোভা ২৩/১২/২৩ সে লিখেছিলেন যে, শেখ হাসিনা যদি আগন্তুক সাধারন নির্বাচনে পুণরায় ক্ষমতায় আসেন তাহলে আমেরিকা তার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে হাসিনা সরকারকে উচ্ছেদ করবে। হলোও তাই, হাসিনা পদত্যাগ করলেন , প্ৰাণ  বাঁচাতে দেশত্যাগী হলেন। তাহলে কি গণ অভ্যুত্থান নামক সামরিক অভ্যুত্থানের নেপথ্য নায়ক আমেরিকা? ছোট বাংলাদেশর নির্বাচিত প্রধান শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর আমেরিকার কোন্ বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছেন যে তাঁকে আমেরিকার প্রতিশোধ স্পৃহার বলী হতে হয়েছে? 
সত্য সন্ধ্যানে ৬০ বৎসর পিছিয়ে যেতে হবে। 
    ইতিহাস বিমুখ নব প্রজন্মের কাছে অজানা স্বধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম কাহিনী। বাংলা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম ধাপ ছিল উর্দুর স্থলে বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা করার আন্দোলন। নেতা ছিলেন তৎকালীন ছাত্র নেতা , মওলানা ভাসানির অনুগত শিষ্য শেখ মজিবুর রহমান। ছালামদের রক্তের বিনিময়ে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা "বাংলা " পাকিস্তান সরকার  মঞ্জুর করতে বাধ্য হয়। প্রথম দফার আন্দোলনের সফল  সমাপন হয় ২১ সে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সনে। এই দিনটি বাংলা ভাষার প্রথম শহীদ দিবস হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস হিসাবে পালিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষা রক্ষার আন্দোলন বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। কারন নিজের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য বাঙালিরাই এই গ্রহে প্রথম প্রাণ দিয়েছিল, এখনো দিচ্ছে। আজ'ব্দী কত প্রাণ হলো বলিদান। পূর্ব পাকিস্তানে ছালামদের বাংলা ভাষা প্রয়োগের আন্দোলনকে পাকিস্তানি সংসদে সিংহ গর্জ্জনে উত্থাপন করেছিলেন পূর্ব পাকিস্থান থেকে নির্বাচিত হিন্দু বাঙালি পাকিস্তানি সাংসদ  শহীদ ধীরেন্দ্র লাল দত্ত। সে এক অন্য ইতিহাস। সেই শুরু। ক্রমান্বয়ে ছাত্র আন্দোলন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র দাবী অন্দোলনের রূপ পায়। নেতা শেখ মজিবুর রহমান।
  ১৯৭o সনের পাকিস্থান সংসদের সাধারন নির্বাচনে মজিবুর রহমানের দল আওমী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা সত্বেও পাকিস্থানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান পাকিস্তান পিপল পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোকে প্রধান মন্ত্রী করার জন্য মজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওমী লীগকে সরকার গঠন করতে সুযোগ দেন নি। পূর্ব পাকিস্তানে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ক্ষেপে যায় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণ।শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় স্বাধীন বাংলা দেশ গঠনের গণ আন্দোলন। শ্লোগান ছিল "জয় বাংলা।"  ক্ষুব্ধ হয়ে ২৫/৩/৭১ এর রাতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ঢাকা শহরে ব্যাপক গণ হত্যা চালায়। ক্ষুব্ধ শেখ মজিবুর রহমান সেই রাতেই বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করেন। ফলশ্রুতিতে দেশ দ্রোহিতা র অপরাধে পাকিস্তানের সামরিক আদালত শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যায়। বিচারের নামে প্রহসন করে সামরিক আদালতের বিচারক ব্রিগেডিয়ার রহিম উদ্দিন তাঁকে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত করেন।  কথায় আছে রাখে হরি মারে কে -শেখ মজিবুর রহমানের  মৃত্যু দন্ড কার্যকরী হয় নি- তিনি সৌ ভাগ্যবান।  ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মজিব ঘোষিত স্বাধীন বাংলা দেশে মুক্তি বাহিনীর নেতৃত্বে ও ভারতের আর্থিক, সামরিক সাহায্যে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের সশস্ত্র সংগ্রাম । এই সংগ্রামকে নিঃশেষ করার জন্য পাকিস্তান সরকারের মদতে জমায়েত ইসলামি একটি ঘাতক বাহিনীর জন্ম দেয়- নাম রাজাকার বাহিনী। রাজাকার বাহিনী পাকিস্তানি সৈন্যদের চর ছিল। রাজাকার বাহিনী ই হিন্দুদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়েছে, মা বোন দের ইজ্জত লুটেছে, বাঙালি মা বোনদের পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে তুলে দিয়ে আনন্দে আটখানা হয়ে আনন্দ উল্লাসে নিজের জাত চিনিয়ে বিভীষিকার সৃষ্টি করেছিল। রাজাকার ও পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনীর হাতে কমেও দুই লক্ষ বাঙালি মহিলা ধর্ষিতা হয়েছিলেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মাতৃ ভাষা ও মাতৃ ভূমি প্রেমী বাঙালি প্রাণ দিয়েছিলেন।  তাই রাজাকার মানে জীবন্ত বিভীষিকা।রাজাকারদের জন্য হাজার হাজার বাঙালি মা বোন পাকিস্তানি সৈন্যদের ভোগ্য পণ্যে পরিণত হতে হয়েছিল। তবু বাঙালি হাল ছাড়েনি। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁদের " মুখে হাঁসি বুকে বল তেজে ভরা মন"ছিল । তাঁরা পণ করেছিল ধর্ষিতা, নির্যাতিতা, মাতৃভূমি বঙ্গের স্বাধীনতা। দৃঢ়তার সঙ্গে কবির কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে তাঁরও গাইছিল " তুর ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি, শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি।"  ভারত সরকারের সামরিক ,সামাজিক মানবিক ও আর্থিক সহায়তায় নয় মাস তুমুল লড়াই এর পর আসে ঐতিহাসিক ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সন ,যেই দিন পাকিস্তানি বাহিনী ভারতের সামরিক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র জন্ম গ্রহণ করে। সেই দিন সারা বিশ্বের বাঙালি আনন্দে আপ্লুত হয়ে গেয়ে উঠেছিল বিশ্বকবি গুরুদেব রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত গান "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।" বাংলা দেশের মুক্তি যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্য বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল মানিক শাহ। প্রাধান মন্ত্রী ছিলেন ভারতের লৌহ মানবী, বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের প্রিয় দর্শীণী, প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী,ভারত রত্ন প্রায়ত অটল বিহারী বাজপেয়ির "মা দূর্গা", জহর-কমলা নন্দিনী, ভারত রত্ন ইন্দিরা গান্ধী। এইটি ধ্রুব সত্য,ইন্দিরা গান্ধীর জন্যই বিশ্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। বাংলাদেশের বর্তমান নারকীয় জঙ্গল রাজ দেখে বিশ্ববাসী লৌহ মানবী ইন্দিরা গান্ধীর অভাব অনুভব করছেন।
   
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমেরিকার ভূমিকা:- বাংলা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে আমেরিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভাবেই সমর্থন করে নি, করেছে পাকিস্তানকে।পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের দুরত্ব ২০০০ (দুই হাজার) কিলোমিটারের উপর, তাও ভারত বর্ষের উপর দিয়ে। তাই, পূর্ব পাকিস্তানে অর্থাৎ বাংলাদেশে সৈন্য/ সমরাস্ত্র পাঠানো শুধু পাকিস্তানের জন্য শুধু ব্যয় বহুল ছিল না  কষ্ট সাধ্যও ছিল। ভারত রত্ন ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার ভারতের ভূ ভাগ ও স্থল ভাগ পাকিস্তানকে ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। একমাত্র জলপথে সৈন্য পাঠানো যেত যা ব্যয়বহুল, কষ্টকর। পাকিস্থানের নৌ বহরও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। পাকিস্তানকে যুদ্ধে সহায় করতে আমেরিকা তার সর্ব বৃহৎ সামরিক নৌ বহর (নবম নৌ বহর নামে খ্যাত) ভারত মহাসাগর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়ে নোঙর করে ছিল। আমেরিকাকে আটকাতে ভারতের লৌহ মানবী প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনুরোধে কমিউনিষ্ট রাশিয়া তখনকার USSR তাদের সর্ব বৃহৎ নৌ বহর দিয়ে আমেরিকার নৌ বহর কে ধাওয়া করায় বাংলা দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তি সহজ হয়ে ছিল। আমেরিকা আজও ৬০ বৎসর পূর্বের সেই অপমান ভুলে নি। সুযোগ সন্ধানী আমেরিকা সূযোগ পেলেই প্রতিশোধ নিচ্ছে। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত শেখ হাসিনা উচ্ছেদ সদা গনতন্ত্রের বুলী আওড়ানো আমেরিকার সেই প্রতিশোধেরই অঙ্গ।
      
   
V
 আমেরিকার প্রথম প্রতিশোধ:- বাংলাদেশের জনক, রাষ্ট্রপতি শেখ মজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনির বাংলাদেশ  স্বাধীনতা বিরোধী তথা পাকিস্তান পন্থী একটি গুষ্টির দ্বারা অতি গোপনে এবং কৌশলে, নিজে ধোঁয়া ছোঁয়ার বাইরে থেকে ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট শেষরাতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ মজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা। কিন্তু, কথায় আছে- "রাখে হরি মারে কে - মারে হরি রাখে কে?" " তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে।" "ভাগ্যিস সেই অভিশপ্ত রাতে মজিব কন্যা দ্বয় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা বাংলাদেশে ছিলেন না , ছিলেন বিদেশে।  দুই বোন প্রাণে বেঁচে গেলেন। বেঁচে গেলেন পিতা বঙ্গ বন্ধু শেখ মজিবের  স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার জন্য। হয়ত ঈশ্বরই তাঁদের দু'বোনকে  গোকুলে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কংস (রাজাকর) বধের জন্যই। ভারতের আশ্রয়ে দুই বোন বড় হয়েছেন। মজিব হত্যার সামরিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনির দ্বীতিয় শ্রেণীর বারোজন আধিকারিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।আধিকারিকদের অন্যতম নেতা ছিলেন কর্নেল সৈয়দ ফারুক, কর্নেল খোন্দকার রশিদ, মেজর এ, কে মহিবুর। অনুমান করা হয় তাদের সঙ্গে তিন শতাধিক সাধারন সৈন্য ছিল। উভুত্থানে অংশ গ্রহণ করা প্রায় সকলেই পাকিস্তান পন্থী ও উগ্র ভারত বিদ্বেষী ছিল। মুক্তি যুদ্ধে তাদের ভূমিকা সন্দেহের উর্দ্ধে ছিলনা। শেখ মুজিবুরের হিন্দু প্রীতি ও ভারত প্রীতি অভ্যুত্থানের মুল কারন বলে অনেকে দাবি করেন।
দ্বিতীয় প্রতিশোধ হাসিনা উচ্ছেদ।

হাসিনা উচ্ছেদের পটভূমি:- দীর্ঘ দিন শাসনে থাকার সুবাদে সরকার এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরে দূর্নীতি, স্বজন পোষণ, ভীষণ আকারে গাকরে উঠেছিল। আওমী লীগের একশ্রেনীর নেতা মন্ত্রীর অহংকারী ও ঔদ্ধত্য আচরনে সাধারন নাগরিক বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। শেখ হাসিনার উদাসীনতায় দূর্নীতি, স্বজন পোষণ, অন্যায়, অত্যাচারের মাত্রা মানুষেরা সহ্য সীমা অতিক্রম করে ছিল। হুহু করে বাড়ছিল বেকারত্ব। মানুষ দূর্বিষহ অবস্থা থেক মুক্তি চাইছিল। উৎ পেতে থাকা সুযোগ সন্ধানীরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে  অসংগঠিত ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া "কোটা" বিরোধী আন্দোলনকে হাতিয়ার করে এগুতে থাকে।
 "কোটা" কি:- ১৯৯৭ সনে শেখ হাসিনার শাসন কালে মুক্তি যুদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য বাংলাদেশ সরকার আইন করে সরকারি , অর্ধ সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ ব্যাবস্থা চালু করেছিল। "কোটা" প্রথার জন্য বাংলাদেশের বহু হিন্দু অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারি, অর্ধ সরকারি চাকরিতে নিযুক্তি পাচ্ছিলেন। কট্টর মৌলবাদী মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দুর চাকুরি মেনে নিতে পারছিলেন না। আওয়াজ উঠে "কোটা"প্রথা বাতিলের । ২০১৮ সনের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা স্বতস্ফূর্ত ভাবে কোটা প্রথা বাতিলের আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে।আন্দোলনে হিন্দুরাও অংশ গ্রহণ করেছিল। শিয়ালি বুদ্ধিতে দক্ষ আমেরিকা এই সুযোগকে কাজে লাগাতে তার গোপন এজেন্ট জমায়েত ইসলামির ছাত্র সংগঠনকে কাজে লাগায়। "কোটা"বিরোধী আন্দোলনকে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে বিএনপির ছাত্র সংগঠনও ঝাঁপিয়ে পড়ে।আন্দোলন ভারত বিরোধী শ্লোগানে মুখরিত হতে থাকে। অবস্থা সামাল দিতে শেখ হাসিনার সরকার ২০১৮ সনের অক্টোবর মাসে কোটা প্রথা বাতিলের নির্দেশনা জারি করেন। এতেও অন্দোলন দমলো না।
অন্যদিকে ''কোটা "প্রথা বাতিলের সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে মুক্তি যুদ্ধা পরিবারের হয়ে মো: অহিদুল্লা ইসলাম সহ সাতজন মুক্তি যুদ্ধা  পরিবারের সন্তান বাংলাদেশ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন।৪/১২/২০১৮ তারিখে হাইকোর্টের দুই জন বিচারপতির খণ্ড বিচার পীঠ রায় দান করে "কোটা" প্রথা বহাল রাখতে সরকারকে নির্দেশ দেয়। বিচারক দ্বয় ছিলেন বিচারপতি কে, এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াত। হাই কোর্টের রায় আন্দোলনে ঘৃতাহুতির কাজ করে। ছাত্র আন্দোলন আরও জোরদার  হয়ে উঠে। বাধ্য হয়ে হাসিনার সরকার হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে ২০২১ সনে আপিল   করে। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রীম কোর্ট  ২১/৭/২০২৪তারিখে হাই কোর্টের রায়কে খারিজ করে মাত্র ৭% পদ মুক্তি যুদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রেখে বাকি ৯৩% পদ মুক্ত করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। সুপ্রীম কোর্টের রায়কে সম্মান জানিয়ে হাসিনা সরকার পূর্বের অধিসূচনা  খারিজ করে নতুন অধিসূচনা জারি করে। সুপ্রীম কোর্টের রায়েও তথাকথিত ছাত্র আন্দোলন বন্ধ হলো না বরঞ্চ বিএনপি, জামায়েত ইসলামী ও অন্যান্য সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রভাবে ও আমেরিকার গোপন আর্থিক সাহায্যে "কোটা"বিরোধী আন্দোলন হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়ে হিংসাশ্রয়ী হয়ে উঠে। পুলিশ মিলিটারি দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পরিস্থিতি উপভোগ করতে থাকে। প্রশাসন হাসিনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ছাত্রদের সঙ্গে হাজার হাজার সরকার বিরোধী জনতার অংশ গ্রহণে আইন শৃঙ্খলা তলানিতে ঠেকে। শেখ হাসিনা আলোচনায় বসতে চাইলেও বিএনপি ও জামাতের ছাত্র সংগঠনের উস্কানিতে আন্দোলনকারী ছাত্র নেতৃত্ব আলোচনায় বসার পরিবর্তে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান গ্রহণ করে। এমতাবস্থায় ৫ই আগষ্ট আন্দোলন কারি নেতৃত্ব বঙ্গ ভবন ও গণ ভবন ঘেরাও এর ডাক দেয়ায় হাজার হাজার মানুষ বঙ্গ ভবন ও গণ ভবন ঘেরাও করে। নিরুপায় হাসিনা। গণ বন্দী জাতির জনক শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা ,বাংলাদেশর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশাসন, পুলিশ মিলিটারি তাঁর নাগালের বাইরে। কিম কর্ত্তব্য রহিত। এমনি সময় বাংলাদেশের সেনা প্রাধান সেনাপতি মো: ওয়াক্কারোজ জামান এক বার্তা যোগে শেখ হাসিনাকে জানান ৪৫ মিনিটের মধ্যে জানাতে হবে তিনি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করবেন কি না! বাকি টা ইতিহাস।
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস তাঁর পোষা বিড়াল তাঁকে ই করছে মেউ। ওয়াক্কারোজ জানান কে ২৩/৬/২০২৪ শেখ হাসিনা সেনাপতি পদে আসিন করেছিলেন , নিকট জন ভেবে। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ না করলে তাঁর দশাও তাঁর পিতার মত হত। গণ অভ্যুত্থানের মোড়কে সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁরও মৃত্যু হত। ওয়াক্কারোজ জামান সেনা প্রাধান পদে আসিন হওয়ার পর ছাত্র আন্দোলন অতিরিক্ত অক্সিজেন পেয়ে বলশালী হয়ে উঠেছিল।
    "কোটা"আন্দোলনে শেখ হাসিনার দোষ কোথায়? তাঁর অপরাধ তিনি তাঁর পিতার পদ অনুসরণ করে কক্স বাজারে সন্নিকটে থাকা বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিন নামক ছোট দ্বীপটি আমেরিকার সামরিক বাহিনীর নৌঘাঁটি বানাতে লিজ দেন নি। তাঁর দোষ তিনি আমেরিকার চোখ রাঙানি কে তোয়াক্কা না করে ভারত এবং চীনের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন। তিনি ইসলামিক মৌলবাদী,বাংলাদেশর স্বাধীণতা বিরোধী জমায়েত ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জেলে পাঠিয়েছেন নির্দ্বিধায়। ছাড়েন নি খালেদা জিয়ার বিএনপি নেতাদেরও। মজিব হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন।বাংলাদেশ ঘোষিত ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ না হওয়া সত্বেও তিনি সকল ধর্মাবলম্বী জনগণকে একই নৌকার সওয়ারী করে দেশ চালাচ্ছেন। তাঁর আমলে হিন্দুর জনসংখ্যা বাড়ছে। তাঁর যন্ত্রনায় দুর্নীতিবাজরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত, নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড: ইউনুসকে ও তিনি ছাড় দেন নি। তাই   আরবীয় বসন্ত প্রবাহে হাসিনা উচ্ছেদ।
 
আরবীয় বসন্ত :-
 আরব ভূ খণ্ড মরুভূমি। মরুভূমিতে বসন্ত কালের আবির্ভাব হয় না।২০১০ সনে পশ্চিমী কূটনৈতিক সাংবাদিকগণ "আরবীয় বসন্ত "শব্দ যুগলের জন্ম দিয়েছেন। আরব ভূ খণ্ডের বিভিন্ন দেশে ২০১০  সন থেকে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম অবস্থায় ছাত্রদের নেতৃত্বে অসংগঠিত আন্দোলন শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল অন্দোলনের পুরোভাগে চলে আসে। এই সব আন্দোলনকে সশস্ত্র আন্দোলনে উন্নীত করতে আমেরিকার নেতৃত্বে NATO ভুক্ত ইউরোপিয়ান কিছু দেশ অস্ত্র সস্ত্র ও টাকা পয়সা দিয়ে গোপনে সাহায্য করতে  শুরু করে।অন্দোলনের প্রথম সূচনা হয় তিউনিশিয়ায়।২০১০ থেকে ২০১২ র মধ্যে আন্দোলনের এই প্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে মিশর, লিবিয়া,সিরিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনে।  পতন/ উচ্ছেদ হয়  প্রতিটি দেশের প্রতিষ্ঠিত সরকারের । উল্লেখযোগ্য নেতা মিশরের হুসনি মুবারক, লিবিয়ার গাদ্দাফি। তাঁরা সকলেই আমেরিকা বিরোধী বলে পরিচিত।যে আশায় আন্দোলন শুরু হয়েছিল অদ্যাপি সেই আশা আশা ই থেকে গেছে, লাভের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে লক্ষ লক্ষ মনুষ্য নামক জীব (উভয় পক্ষ মিলে)। আন্দোলনের এই প্রবাহ আরব ভূখণ্ডের অন্যান্য দেশেও মৃদু বেগে বয়ে চলেছে যেকোনো মুহূর্তে ঝড় উঠতে পারে। আরব ভূমিতে আমেরিকা বিরোধী  সরকার উচ্ছেদের আমেরিকা সৃষ্ট এই ধরনের আন্দোলনের প্রবাহকে পশ্চিমী কুটনৈতিক সাংবাদিক মহল আরবীয় বসন্ত নামে আখ্যায়িত করেছে।
   রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি সমীক্ষায় প্রকাশ আরবীয় ঝড়ে উল্লিখিত দেশগুলোর আর্থিক অবস্থার যেমন অবনতি ঘটেছে তেমনি মানুষের গড় আয়ুও কমেছে। হাসিনা বিহীন বাংলাদেশেরও বর্তমান  আর্থিক অবস্থা  বেসামাল হয়ে বঙ্গোপসাগরে তলিয়ে যাচ্ছে। কলকারখানা ক্রমশ বন্ধ হচ্ছে, কর্ম হীনতাও বেকারত্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আকাশ ছোঁ'তে যাচ্ছে ।নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি অনাহারে সংকেত দিচ্ছে। যা ঘটেছিল আরব ভূমের উল্লেখিত দেশ গুলোতে। সময়ই বলবে বাংলাদেশকে আরবীয় বসন্ত কোথায় পোঁছে দেবে। 
  আরব ভূ খণ্ডের বিভিন্ন দেশের গণ বিদ্রোহের স্রষ্টা আমেরিকা ও তার তাবেদার NATO ভুক্ত ইউরোপিয়ান কিছু দেশ। উদ্দ্যেশ্য আমেরিকা বিরোধী সরকারের উৎখাত পশ্চিমী বাজার বান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা। আরবীয় বসন্ত এখন অব্দি  আমেরিকা বিরোধী সরকার উৎখাতে সফল।বাংলাদেশেও সফল।
 
 হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগ পরবর্তী বাংলাদেশ:- হাসিনার পদত্যাগ করা মাত্র বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর প্রধান , সেনাপতি ওয়াক্কারোজ জামান ক্ষমতা দখল করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে সামরিক শাসনের কথা জানিয়ে দেয়া মাত্র বাংলাদেশে শুরু হওয়া জঙ্গল রাজ, অরাজকতা ।ড: ইউনূসের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরও অরাজকতার অবসান ঘটে নি, ঘটার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।উপরন্তু অরাজকতা সর্বকালের নজীর সৃষ্টি করেছে। সামরিক শাসন বর্বরের শাসনে পর্যবসিত হয়েছে। প্রথমেই ছাত্র রূপী চুর ডাকাতরা বঙ্গ ভবন, গণ ভবন, প্রাধান মন্ত্রীর সরকারী বাড়ির দখল নেয় । সামাজিক মাধ্যমে ভাইরেল হওয়া এসব দৃশ্য অবলোকন করে তালিবানরাও হয়ত লজ্জা পেয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী অস্তিত্ব কোথাও দেখা যায়নি এখনো সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। ছাত্র রূপী লুন্ঠন কারি চুর ডাকাতরা চুরি ,লুণ্ঠন , ভাংচুর করেই ক্ষ্যান্ত থাকে নি নারীর অন্তর বাস নিয়ে যে উদ্দাম নৃত্য করেছে তা দেখে মনে হয়েছে তারা অন্য গ্রহ থেকে আমদানীকৃত অ যোনিজ প্রাণী। তাদের আচরণ বিপ্লব, বিক্ষোভ, অন্দোলনের  কলঙ্ক। প্রশ্ন ওঠেছে ইসলাম কি এই প্রথাকে সমর্থন করে? বাংলার শিক্ষিত সমাজও কি এই নারকিয়তায় বিশ্বাসী? জামাত, সামরিক প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসক, মানব অধিকার সমিতি, নারী অধিকার সমিতি, সম্মানীয় বিচারকগণ ,বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়গণ, সর্বোপরি মাননীয় রাষ্ট্রপতি মহাশয়, ছাত্র রূপী অ যোনিজ প্রাণীদের নারী অন্তর্বাস নিয়ে উদ্দাম নৃত্য কি সমর্থন করেন? জানতে চায় বিশ্বের সুশীল সমাজ।
     বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নতুন কিছু নয়।১৯৪৭ সনের ১৫ ই আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া অত্যাচার আদৌ বন্ধ হয় নি, হবে কি না দেব না জানতি। শেখ মজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার শাসনে হিন্দু নির্যাতন প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল কিন্তু হাসিনা বিহীন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের পারদ তরতরিয়ে বাড়ছে। অগ্নি সংযোগের লেলিহান শিখা থেকে রক্ষা পায়নি দেশ গৌরব ক্রিকেটার লিটন দাস ও প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী অর্জুন আনন্দের বাস গৃহও -  পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সমস্ত কিছু।এবারের ছাত্র আন্দোলনে দ্বিজেন্দ্র লাল রায় বিরচিত  রাহুল আনন্দের কন্ঠে গীত " এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সে যে আমার জন্মভূমি" গেয়ে গেয়েই আন্দোলনকে চাঙ্গা রাখতে হয়ে ছিল তাই না ? ছি,কি লজ্জ্বার ! সেই রাহুলের বাড়ি পুড়িয়ে দিতে আন্দোলনকারী রূপী ধর্মীয় উন্মাদ দের   বিবেকে বাঁধলো না!!??বাংলাদেশের বর্তমান রূপ দেখেও বলতে হচ্ছে এমন দেশটি কোথাও খোঁজে পাবে নাকো তুমি।
আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কি হিন্দু মুক্ত বাংলা দেশ গঠন? হয়ত তাই। তা নাহলে কেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের মূর্তি ভাঙ্গা হলো? বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি " পরিবর্তনেরই দাবী উঠছে কেন? কেনই বা ইস্কনের সন্যাসি চিন্ময় স্বামী কে গ্রেপ্তার করা হলো? কেন বলপূর্বক চাকরিতে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হিন্দুদের চাকরি ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে না?     
নাকি বাংলাদেশের জাতির জনক,বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও তৎ কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি রাগের অন্যতম কারন কক্স বাজারে সন্নিকটে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন নামক ছোট একটি দ্বীপ যেটি আমেরিকা  লিজে নিতে চায় তার সামরিক নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি স্থাপন করার জন্য- যা'তে খুব সহজেই চীন এবং ভারতের উপর নজরদারি করতে পারে। দ্বীপটি পেতে আমেরিকার সকল কৌশল ও চেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে।।অন্যদিকে চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বও আমেরিকা মেনে নিতে পারছিলনা। তাই কৃত্রিম আরবীয় বসন্ত প্রবাহে শেখ হাসিনা উচ্ছেদ।আমেরিকার রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা পলাতক অর্থনীতিবিদ আধ্যাপক ইউনূস সাহেবের নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকারের পরামর্শদাতা কমিটি।
 
বাংলাদেশ--ভারত ও ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল:- পরামর্শ দাতা কমিটির প্রধান অধ্যাপক  ড: ইউনূস সহ আরও কয়েকজন অভ্যুত্থানের নেপথ্য নায়ক আমেরিকার রাজনৈতীক আশ্রয়ে ছিলেন। আজ তাঁরা ক্ষমতার অলিন্দে। আমেরিকা  যদি  আবারও কক্স বাজারের সন্নিকটের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে তাদের নৌসেনা ঘাঁটি স্থাপনে সচেষ্ট হয় তাহলে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা কি হবে? ভারত সরকারের ভূমিকাই বা কি হবে? নৌ ঘাঁটি চীন ও ভারতের উপর আমেরিকার দাদাগিরির ঘাঁটি যে হবে না তা কি হলপ করে বলা যায়?  BNP নেত্রী,প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (সাজা প্রাপ্ত আসামী) এবং জামাত ইসলামীও  আমেরিকার তাবেদার রূপেই পরিচিতি। ভারত ও হিন্দু বিদ্বেষ তাদের শিরায় শিরায়। 
  হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর পরই জেল  বন্দী খালেদা বেগম ও জামাত নেতাকে মুক্ত করে দেয়া কিসের ইঙ্গিত? ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সন্ত্রাসবাদীদের বিশেষ করে ULFA কে অস্ত্র সরবরাহ করতে গিয়ে ধরা পড়ে আমেরিকার রাজনৈতীক আশ্রয়ে থাকা তারেক আনোয়ারও এখন বাংলাদেশে । খালেদা জিয়ার শাসন কালে ULFA র আশ্রয় স্থল ছিল বাংলাদেশ ।বর্তমান আধ্যাপক ইউনূস সাহেবের পরামর্শে চলা বাংলাদেশের সামরিক সরকার যদি পুণরায় ULFA কে আশ্রয় দেয় তাহলে ভারত সরকারের অবস্থান কি হবে? ভেবে দেখো দরকার।
      RSS ঘনিষ্ট বাংলাদেশের হিন্দু মহা সংঘের নেতা গোবিন্দ পারমানিক জাতীয় কিছু বাংলাদেশি হিন্দু নেতা বলেছেন যে আওমীলীগ পন্থী হিন্দুদের বাড়ীতে অত্যাচার হয়েছে, সামগ্রিকভাবে  হিন্দুর উপর নয়। তাহলে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর কি আওমীলীগ পন্থী ছিলেন যে তাঁর মূর্তি ভাঙ্গা হলো? বিভিন্ন মট মন্দির যে ভাঙ্গা হলো, সেগুলি কি আওমীলীগ কার্যালয় ছিল ? উত্তর পাওয়া যাবে কি? ইস্কন কি আওমী লীগের ধর্মীয় সংগঠন? চিন্ময় স্বামী কি আওমী লীগ নেতা?

উপ সংহার:- বউ কিলিয়ে মার উপর ঝাল মেটানো। বাংলা দেশের ঘটনা প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে আমেরিকা বউ কিলিয়ে মার উপর ঝাল মেটালো। চীনের ক্রম বর্ধমান আমেরিকা বিরোধী স্থিতি, চীন ভারত, বাংলা দেশের বাণিজ্যিক মৈত্রী, সমরাস্ত্র বাণিজ্যে চীনের অগ্রগতি, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে ভারতের স্থিতি আমেরিকার দুশ্চিন্তার কারনেই  বাংলাদেশে আরবীয় বসন্ত প্রবাহ!

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.