Header Ads

ভারত বাংলা দেশ উৎসব

*ভারত- বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব কল্যানীতে* 
 নয়া ঠাহর প্রতিনিধি : কলকাতা:বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদ,ভারত কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে এবং বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদ, নদীয়া দক্ষিণ জেলা সংগঠন ও কল্যানী পৌরসভার সহযোগিতায়  পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কল্যানী শহরের ভাষা উদ্যানে অনুষ্ঠিত  হলো  পাঁচদিনের দ্বিতীয়  ভারত- বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব। গঙ্গা- পদ্মা- রূপসা- জলঙ্গী-চূর্ণী এই পাঁচ  নদীর জল ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পীরা মাথায় নিয়ে সম্প্রীতি ও নদী বাঁচাও পরিবেশ বাঁচাও এই বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে দুই বাংলার জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে ভাষা শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে দুই বাংলার জাতীয় ফুল পদ্ম ও শালুক ফুলে পঞ্চনদীর মিলন ঘটিয়ে  কল্যানী গীতবিতান ও নদীয়া দক্ষিণ জেলার শিল্পীবৃন্দের সমবেত সংগীতের আবহে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে  উৎসবের সূচনা করেন বাংলাদেশ ডেপুটি হাই-  কমিশনের কাউন্সিলর জনাব রিয়াজুল ইসলাম, কল্যানী পৌরসভার উপ- পৌরপ্রধান বলরাম মাঝি, বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদের  খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক জনাব এনামুল হক বাচ্চু, সাংস্কৃতিক সংগঠক গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন আমলা আকুম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদ ভারত  কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নৃত্য শিল্পী স্বাতী ব্যানার্জী দাস, সাধারণ সম্পাদক আশিস সরকার
ঢাকার সংগীত শিল্পী মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশের সমাজকর্মী  খায়রুল আলম,  সমাজসেবী বিদ্যুত দাস সুদীপ হালদার ও  শিল্পপতি মদন সিংহ বাচিক শিল্পী ও প্রাবন্ধিক সত্যকাম বাগচী, ঢাকার কবি সোহেলী মল্লিক প্রমুখ।  বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদ  শান্তিনিকেতন শাখার কনিনীকা নৃত্য, মন্দির সৃষ্টি নৃত্য গোষ্ঠী, তনুষ্কা নৃত্য গোষ্ঠী, প্রদীপ্ত ড্যান্স একাডেমি, ডমরু ড্যান্স একাডেমি, ব্লেজ নৃত্য একাডেমি, সাগর ড্যান্স একাডেমি, বাংলাদেশের খুলনা জেলার আব্বাসউদ্দীন একাডেমি ও নৃত্যবিহার সহ সাতটি নৃত্যদলের শতাধিক  নৃত্য শিল্পী নৃত্য পরিবেশন করেন  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। উপনিষদের স্তোত্র পরিবেশন করেন শান্তিনিকেতনের সাধারণ সম্পাদক সোমা সিংহ । 
 পাঁচদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কল্যানী পৌরসভার পৌরপ্রধান ড. নীলিমেষ রায়চৌধুরী, কল্যানীর মহকুমা শাসক ড. অভিজিত সামন্ত, বিশ্বমৈত্রী সংস্কৃতি পরিষদ ভারত কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর কার্যকরী সভাপতি সংগীত শিল্পী  অনুশীলা বসু, উপদেষ্টা মন্ডলীর সাধারণ সম্পাদক শিল্পী সরমা সেন, দেবীপ্রসাদ বসু বাংলাদেশের সংগীত শিল্পী নাঈমা বিন্তি সহ আরো বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ। উৎসবের শেষদিনে এই বছর  ত্রিপুরা সরকার কর্তৃক  লালন পুরষ্কারে ভূষিত লোকসংগীত শিল্পী ড. উত্তম কুমার সাহা এবং বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী ও  গবেষক শুভেন্দু মাইতিকে বিশেষ সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়। বিশ্বজুড়ে বাঙালির মন ও মননের বন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা তিন বছরের এই সংগঠন শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সারা বছর জুড়ে সমাজকল্যাণ মূলক কাজ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য সচেতনতা শিশু কিশোর কিশোরীর নারীদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত কাজ করে চলছে বলে জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ সরকার। পাঁচদিনের এই বাঙালির মিলনোৎসবে বাউল শিল্পী গৌতম দাস বাউল ও শম্পা দাস বাউল 
 লোকসংগীত শিল্পী নির্ঝর চক্রবর্তী,আসামের শিলচর, বাঁকুড়া, চট্টগ্রাম, খুলনা, ঢাকা, নড়াইল, শান্তিনিকেতন, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, উঃ২৪ পরগনা, দঃ২৪ পরগণা ও কৃষ্ণনগরের প্রায় তিন শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে  সম্প্রীতির মিলনোৎসবে পরিনত হয়।  অনুষ্ঠানে হুগলী জেলার কিশোরীদের মহিলা ব্যান্ড লাইটনিং স্টার এবং নদীয়া উত্তর জেলা সংগঠনের শিল্পীরা দুই বাংলার লোকগানের ডালি নিয়ে তাদের পরিবেশনায় মাতিয়ে তুলে উৎসব প্রাঙ্গণ। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে অগ্নি নিরাপত্তা ও নির্বাপণ সচেতনতা ও  সাইবার ক্রাইম বিষয়ে  আলোচনা করেন  সাইবার ক্রাইম স্ট্রেটেজিস্ট ঋত্বিকা ব্যানার্জী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন নদীয়া দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং আকাশবাণীর আরজে  দেবনিষ্ঠা জানা, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের দিলরুবা খানম ছুটি ও  আলোকদ্যুতি নন্দী।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.