Header Ads

অসমে ,ত্রিপুরাতে বাঙালি বিরোধী চক্রান্ত চলছে

 গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল ,আগরতলা :১০ ই সেপ্টেম্বর ২১ ইং **সাংবাদিক সম্মেলন** সম্প্রতি, সারা অসম ছাত্র সংস্থা 'আসু' দ্বারা গঠিত অসম জাতীয় পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত একটি সম্মেলনে উপস্থিত তিপ্রামথা দলের ম্যানেজার প্রধান প্রদ্যুৎ কিশোর দেব্বর্মণ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে, অসমের অহমিয়ারা যদি ঐক্যবদ্ধ না হয় তো অসম নাকি ত্রিপুরা হয়ে যাবে। তার বক্তব্যের মর্মার্থ হলো, ত্রিপুরার উপজাতিদের মতো অসমীয়ারাও নাকী অসমের ভূমিপুত্র। প্রদ্যুৎবাবুর মতে,ত্রিপুরাতে বাঙালীরা নাকি উপজাতিদের সমস্ত অধিকারের উপর যেভাবে হস্তক্ষেপ করেছে একইভাবে অসমের বাঙালীরাও অহমীয়াদের উপর তা-ই করেছে। তাই প্রদ্যুতবাবু চান- তিপ্রা মথার মতো অসমেও উপজাতি ঐক্য গড়ে তুলে বাঙালীদের বিতাড়নের রাস্তা পাকাপোক্ত করতে অসমীয়ারা যেন বাঙালীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। ত্রিপুরাতে তো গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের নামে বাঙালীদের চরম সর্বনাশ তথা ত্রিপুরা থেকে বিতাড়নের জন্যে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে প্রদ্যুৎবাবু বাঙালীদের বিরুদ্ধে লাগাতর প্ররোচনামূলক বক্তব্য রেখে চলেছেন। এখন অসমে গিয়েও তিনি অসমীয়াদেরকে বাঙালীদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেবার জন্যে খিলঞ্জিয়া তথা উপজাতি ঐক্যের শ্লোগান তুলেছেন। প্রদ্যুৎবাবুর হয়ত ইতিহাস জানা নেই যে, ত্রিপুরাতে যেমন মঙ্গোলীয় রক্তের উপজাতিরা মাত্র ৫/৬ শ বছর আগে মুচাংফার নেতৃত্বে মায়ানমার থেকে বাঁচার তাগিদে ত্রিপুরাতে এসেছিল তেমনি সপ্তদশ শতাব্দীতে অহমীয়ারা পাশের দেশ থেকে অসম তথা ভারতে পদার্পন করে। কাজেই ঐতিহাসিক বিচারে অসম-ত্রিপুরার সমস্ত উপজাতিরাই বহিরাগত,বিদেশী বললেও বাঙালীরাই ভূমিপুত্র।একসময় ত্রিপুরা যেমন ছিল বাংলার অঞ্চল, নাম ছিল শ্রীভূম তেমনি ১৮৭৪ সালের আগে বর্তমান অসম রাজ্যের কোন অস্তিত্বই ছিল না। এটা ছিল অতীতে বাংলার কামরূপ ও শ্রীহট্ট জেলার অংশবিশেষ। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান অসমের ৭৮ হাজার ব.কিমির মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার ব. কিমি ই বাংলার অঞ্চল।
       
     আসলে ত্রিপুরার মতোই অসমে বাঙালী বিরোধী ষড়যন্ত্র তথা বিতাড়নের চক্রান্ত চলছে সেই পঞ্চাশ-ষাটের দশক থেকেই। ত্রিপুরাতে ৮০-র জুনের গণহত্যার পর নেলীর বাঙালী গণহত্যা, এন আর সি-র মাধ্যম ২০ লক্ষাধিক বাঙালীকে বিদেশী-রাষ্ট্রহীন চিহ্নিতের পর অসমে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরী করা ও সম্প্রতি ২৭ লক্ষ বাঙালীর নাম আঁধার কার্ড থেকে বাতিল করা ইত্যাদি বাঙালী বিরোধী চক্রান্তের কয়েকটি জ্বলন্ত উদাহরণমাত্র। কিছুদিন আগে 'লাচিত সেনা' ও অসমিয়া যুব মঞ্চ নামক দুটি বাঙালী বিরোধী দল ও শৃঙ্খল চালিহা একজন উগ্রবাদী নেতা প্রকাশ্যে ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়ে বাঙালীদের অসম ছাড়ার নির্দেশ দেবার পর তিপ্রামথার নেতা প্রদ্যুৎবাবুর বক্তব্য যে একই সূত্রে বাঁধা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘটনাদৃষ্টে এটা এখন পরিস্কার যে, অসম-ত্রিপুরা তথা সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলসহ সারা ভারতজুড়ে বাঙালী জাতিকে সমূলে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। এমতাবস্থায়, তথাকথিত দলীয় রাজনীতির আত্মঘাতি প্রক্রিয়া বন্ধ করে বাঙালী জাতির অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার জন্যে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.