উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল রাজ্য গঠনের দাবির পর বাঙালি স্থান গঠনের দাবি উঠল
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বিজেপির সাংসদ জন
বার্লার পর বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর বাংলা ভেঙে
বাঁকুড়া-পুরুলিয়া-জঙ্গলমহল নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠনের মন্তব্যের বিরোধিতায় "বাঙালি
ছাত্র যুব সমাজ"এর পক্ষ থেকে ২২ জুন ২০২১ ভার্চুয়াল আলোচনা
সভার আয়োজন করা হয়। সেই ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সচিব
তপোময় বিশ্বাস, পশ্চিমবাঙলার উত্তরের জেলাগুলির থেকে
প্রতিনিধিত্ব করে সদস্য- পার্থ রায়, রাঢ় অঞ্চল তথা জঙ্গলমহলের প্রতিনিধিত্ব করে
সৌরভ মালিক। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে কৌস্তভ বিশ্বাস।
ছাত্র-যুব সচিব তপোময় বিশ্বাস বলেন, ঔপনিবেশিক
সাম্রাজ্যবাদের ভিত মজবুত করতে ছোট ছোট রাজ্যের দরকার, তাই হিন্দী
সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী বাংলার খনিজ-বনজ সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপুল
সম্পদের ওপর লুঠপাট চালাতেই বাঙলাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলার কুচক্রান্তের
ক্রমাগত উস্কানি দিচ্ছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পদলেহনকারী হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী
গোষ্ঠীরও বাংলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে। স্বাধীনতার পর
থেকেই বাংলা-বাঙালিদের প্রতি চরম লাঞ্ছনা-বঞ্চনা চলছে। বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাব
হেতু দেশভাগের বলি প্রত্যেকটি পঞ্জাবীকে পুনর্বাসন দিলেও একটি বাঙালিকে পুনর্বাসন
দেওয়া হয়নি, তাদের নিয়ে রাজনীতি করেছে বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাসীন
রাজনৈতিক দলগুলি। কখনো বাঙালিকে শুনতে হচ্ছে বিদেশী, কখনো বা রাষ্ট্রহীন হওয়ার
ভয়ে মৃত্যু বরণ করতে হচ্ছে! তাই এদের বাংলা ভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে
সর্বস্তরের বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরব হতে হবে। আমরা আলোচনায় বলেছি, বঙ্গভঙ্গের
চক্রান্তের একমাত্র সমাধান- ব্রিটিশ দ্বারা ভঙ্গবঙ্গকে সংবিধান অনুসারে সংযুক্তি
করে বাঙালির নিজস্ব বাসভূমি "বাঙালিস্তান" রাজ্যের দাবী। বাঙালিস্তানের
আন্দোলন কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয়। বৃহৎ বাংলার যে অঞ্চলগুলি ব্রিটিশের কেটে
নেওয়া এবং বাঙালি অধ্যুষিত যে অঞ্চলগুলো ভারত ভূখন্ডে রয়েছে (ঝাড়খণ্ডের অধিকাংশ, বিহার, ওড়িশার পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া কিছু অংশ, অসমের কিছু অংশ, সমগ্র ত্রিপুরা, আন্দামান-নিকোবর
দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ) এই
অংশগুলিকে নিয়ে ভারতীয় সংবিধান মেনে "বাঙালিস্তান" রাজ্য গঠন করা। যে
অর্থে পঞ্জাবীদের পঞ্জাব, তামিলদের তামিলনাড়ু, রাজপুতদের রাজস্থান হবহু সেই একই অর্থে বাঙালিদের
"বাঙালিস্তান" বললে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না বরং ওই নামই বাঙালিদের
মাতৃভূমি এই পরিচিতি বহন করবে। বাঙালিস্তানে কোন বাঙালিকে এন আর সি'র ভয়, নাগরিকত্বহীনের ভয়- আতঙ্কে
মরতে হবে না।









কোন মন্তব্য নেই