বাঙালি হিন্দুদের নিরাপদ ঠাঁই নয় বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গেও মার খেতে হবে?
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : নিজেদের দোষে নয়, দেশ বিভাজনের বলি অত্যাচারিত, নির্যাতিত বাঙালি হিন্দুরা সাবেক পূর্ব-পাকিস্তান, বাংলাদেশ ত্যাগ করে প্রাণের ভয়ে একদিন পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন রাজ্যে মাথা গোঁজার মত একটু ঠাঁই করে নিয়েছিল। আজও লাঠি ঝাঁটা খেয়ে মান সম্মান খুইয়ে কোনো রকম বেঁচে বর্তে আছে। অসমে এন আর সি নামে ডিটেনশন ক্যাম্পের নামে তথাকথিত ‘কা’ নামে যেভাবে অত্যাচারিত হয়েছে তার তুলনা নেই। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের সময় বেশি অত্যাচারিত হতে হয়েছে। লিয়াকত, নেহরু, ইন্দিরা, লালকৃষ্ণ আদবানি, মনমোহন সিং, অটল বিহারী বাজ পেয়ীরা সংসদে বারবার বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের অভয় দিয়েছিলেন। ভারতে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের নাগরিকত্ব প্রদানের সব ব্যবস্থা করা হবে। বাঙালিদের আপন জন বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত সবাই আশ্বাস দিয়েছিলেন বা দিচ্ছেন। তবে কেন অত্যাচার করা হচ্ছে ক্ষুদিরাম, সুর্য্য সেন নেতাজির বাঙালিদের? এই জাতির কি কোথাও নিরাপদ ঠাঁই নেই? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় বার ক্ষমতায় এলেন প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা মমতাকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি কেন বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন বন্ধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছেন না বাঙালি হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করার কঠোর ব্যবস্থা নিন। নিজের দেশেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? তিনি কি ভারত বিরোধী জেহাদীদের ভয় পাচ্ছেন? গতকাল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে সেদেশের জাতীয় হিন্দু মহাজোট পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের নিন্দা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পুড়িয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশে মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক বলেছেন, একটু শান্তির জন্যে বাঙালি হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গে ঠাঁই নিয়েছিল। আর
দূর্ভাগ্য সেখানে হিন্দুদের
বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষণ হত্যাকাণ্ডের
মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। তৃণমূলের হামলায় হাজার হাজার মানুষ অসমে গিয়ে ঠাঁই
নিয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক বিবেকবান মানুষ বিচলিত না হয়ে পারে না। বলেন, ৭০ শতাংশের বেশি হিন্দুরাষ্ট্রে
গিয়েও হিন্দুদের জীবন জীবিকার নিরাপত্তা নেই। মহাসচিব হিন্দুদের নিরাপত্তা প্রদানে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অভিযোগ করেন করোনা
দুর্যোগের মধ্যে বাংলাদেশে ও হিন্দুদের নিরাপত্তা নেই। তিনি একাধিক বাঙালি হিন্দু
নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন। ভোলায় দুই ভাই তপন
সরকার, দুলাল সরকার জমি বিক্রির টাকা চাইলে ভূমির
দালালরা তাদের দুজনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। ঝিনাইদহের শৈল্যকুপাইতে
রেখারানীকে নৃশংসভাবে হত্যা, লালমনিরহাটে হারাধন রায় ও তার স্ত্রী
স্মৃতিরানীকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা, তাদের জমি দখলে বাধা
দেওয়ার অপরাধে। শরীয়তপুরে মিলন মন্ডল, নোয়াখালীর
হাতিয়ায় কেশব বাবু, সুবর্নচড়ে উৎপল মজুমদার, বগুড়ায়
নিখিল চন্দ্র বর্মন, চট্রগ্রামের আনযারাতে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ,
নব করুণা পুরে ভাঙচুর ভান্তে সহ ৪ জনকে পিটিয়ে
জখম, ঝালকাঠিতে পানের বরজ পুড়িয়ে ছাই, কক্সবাজারে
ঈদগাহ এলাকায় হামলা ৩০ জন আহত,
সিরাজগঞ্জে মন্দিরের ঠাঁই দখল টয়লেট স্থাপন, ময়মনসিংহ
ও দিনাজপুরে মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, হাবিগঞ্জে
৯ টি বাড়ি ভাঙচুর, বোয়ালবাড়িতে শ্মশানের জমি দখল প্রাচীন নির্মাণ
ধ্বংশ সহ শতাধিক ঘটনার কথা জানান। এই বিক্ষোভ সভাতে বক্তব্য রাখেন
মহাজোটের কার্যনির্বাহি সভাপতি দীনবন্ধু রায়, সহ
সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, বিজয় কৃষনো ভট্টাচার্য,
লাকি বাছাড়, নরেশ হালদার, সাগরিকা
মন্ডল, তাপস বৈরাগী, তুলন
চন্দ্র পাল, চয়ন বাড়ৈ, অখিল
বিশ্বাস, শ্যাম কুমার ঘোষ, প্রদীপ শঙ্কু প্রমুখ।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার, আলিপুর
দুয়ার থেকে তৃণমূলের হাতে মার খেয়ে কয়েক হাজার বাঙালি
হিন্দু অসমের ধুবুড়ি
কোকড়াঝাড়ে পালিয়ে এসেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হিমন্তবিশ্ব শর্মা, ইউ পি পি এলের প্রধান প্রমোদ বড়ো
প্রতিবাদ করেছেন। অসম সরকার তাদের থাকা
খাওয়ার ব্যাবস্থা করে দিয়েছে। বাঙালি
হিন্দুদের ব্যাকবনে বড় ধরণের চিড় ধরে গেছে। দেহে রক্ত নেই। তাই
প্রতিবাদ করার নেতা নেই। সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছে।
শুধু নেতাজির, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথকে ভাঙিয়ে আর কতদিন চলবে?










কোন মন্তব্য নেই