কোভিড যুদ্ধর অন্যতম সেনানী স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, আজ মুখ্যমন্ত্রী
অমল
গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসমে প্রতিদিন
প্রায় ৫ হাজার
আক্রান্ত হচ্ছেন। ২৪ ঘন্টায় ৫০ জনের
বেশি মারা গেছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হিমন্তবিশ্ব শর্মা অতিমারিকে পরাভূত করতে দিনরাত
নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকৃত করোনা
সেনানী এবার তার মহৎ কাজের স্বীকৃতি পেলেন। রাজ্যের মসনদে বসার সুযোগ পেলেন। এইবার এই
মারাত্মক সংক্রমণ কমাতে তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
রাজ্যবাসী সেই আশা করতেই পারে। এছাড়া, তার হাতে থাকা বিভাগ, পূর্ত্ত, শিক্ষা, অর্থ বিভাগ যার হাতেই থাকবে
গতি পাবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলে রাজ্যের ১ কোটি ১০ লাখ মুসলিম
সম্প্রদায়ের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি যেন নেতিবাচক
না হয়, কারণ এই সাম্প্রদয়ের
একজন প্রতিনিধিও বিজেপি দলে নেই। রাজ্যের সব জনগোষ্ঠীর প্রতি তার
দৃষ্টিভঙ্গিতে যেন সমতা থাকে। বাঙালি হিন্দুদের এন আর
সি নামে, ডিটেনশন
ক্যাম্পের নামে
ডি ভোটারের নামে নানাভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে। সেদিকে যেন বিশেষ দৃষ্টি দেন ডায়নামিক
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ
সনোয়াল বরাককে
বিশেষ গুরুত্ত দিয়েছিলেন। হিমন্ত যেন ৪০ লাখ বরাকবাসীর বাংলা
আবেগ, অস্মিতাকে গুরুত্ত দেন। বরাকের ভাষা শহিদদের উপযুক্ত মর্যাদা দেন। অসমে উগ্র কা আন্দোলনের সময় অসমের বাঙালি
হিন্দুদের শত্রু হিসাবে গণ্য করা
হচ্ছিল, অনেক
এলাকায় লাঞ্ছিত হতে হয়ে ছিল। ডিটেনশন ক্যাম্পে বিনা অপরাধে যে সব
সংখ্যালঘু হিন্দু মুসলিম মানুষ জেল খাটছেন তাদের
অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা
করতে হবে। রাজ্যের বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়গুলো রক্ষা
করতে হবে। অসমে বাঙালি হিন্দুরা আজ নয়, যুগ
যুগ ধরে বসবাস করছে। অসমের
আর্থ সামাজিক রাজনৌতিক জীবনে বহু অবদান
আছে। কিন্তু এই ৫০/৬০ লাখের
জনগোষ্ঠীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর গোষ্ঠী হিসাবে পিছনের
সারিতে রাখা হয়। আর কেউ না জানুক হিমন্তবিশ্ব শর্মার অন্তত জানা আছে
আসাম যখন মুসলিম লীগের হাত ধরে পূর্ব পাকিস্থানে সামিল হওয়ার সব চক্রান্ত চলছিল
সেই সময় কংগ্রেস দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নেতাজি
সুভাষ চন্দ্র বসু এখানে এসে অসমের
কংগ্রেস নেতা গোপী নাথ বরদলৈকে পাশে
নিয়ে মুসলিম লীগে বিভাজন ঘটিয়ে গভীর
চক্রান্ত ভেস্তে দিয়ে পূর্ব পাকিস্থানের হাত থেকে
আসামকে রক্ষা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছিলেন গোপী নাথ বরদলৈ।
সবার প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তা
স্মরণ করিয়ে দিলাম।








কোন মন্তব্য নেই