Header Ads

১৯শে মে উপলক্ষ্যে

আজ ঊনিশ যাদের


ঊনিশ ছিল চেতনার এক সূর্য

ছিল কেন বলছি?

আছে তো আজও আছে! 

কোন এক অজ গ্রামের ইস্কুলে 

নাহয় অশিক্ষিতা মায়ের রাতদুপুরে।

 যেখানে আজও একটু কানপাতলেই শুনতে পাবে নাইনটিন নয় শুধুই ঊনিশ।

সুরধরে আজ ও চলে 

অ আ ই ঈ উ ঊ তথা ঋ।

আজ ও শিখে খোকা অ তে অজগরটি আসছে তেড়ে,

আ এ আমটি আমি খাবো পেড়ে।

সেখানে অবশ্য নেই, কোন উনিশের তাড়না।

 সেখানে মে জুনের হিসেব কেউ রাখে না।

সেখানে না আছে কোন ডে-র বাহার।

না আছে উইক এন্ডিং এর কোন ভাবনা। 

যা আছে তা আছে  শুধু কালবৈশাখী র ঝড়। 

ঝড় থামলেই আমের তলায় আম কুড়াবার কন্ঠস্বর।

জৈষ্ঠের রোদ্দুরে দীঘির জলেতে তপ্ত শরীর জুড়ায়। 

আষাঢ়ের মেঘ আসলে পরেই মৎস্য ধরিবারে যায়।

শ্রাবণের ধারা উপচে পরে ভাঙ্গা টিনের চালে। 

সেই সুরেতেই সুর মিলিয়েই পদ্মপুরান বাজে সুর তানে। 

বানের জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় অনেক বর্নবোধ। 

ভাদর মাসের রোদে শুকায় সকল বইয়ের স্তুপ। 

আশ্বিন আসলেই মা আসার বাদ্য  বাজে কানে।

কার্তিকের ওই হিমেল ছোঁয়ায় মাঠ সাজে রাখাল গানে।

অগ্রানে নুতন চালের গন্ধে খোকা পড়ে ধারাপাত।

তাই না শুনে মায়ের মনে আশার আলো চাঁদ।

পৌষ মাসেতে খোকা খুঁজে বেড়ায় মেড়ামেড়ির খড়‌।

পৌষ সংক্রান্তি শেষ হলেই শীতল মাঘে কম্পতনু থরথর।

সেই ছোঁয়াতেই পায় খোকা বাগদেবীর বর।

ফাগুন এলেই আগুন সাজে খোকারা সব মাতে। 

হোলির রং এ রাঙিয়ে দুপুর নদীর ঘাটে ছোটে। 

চৈত্র মাসের চড়ক পুজায় মনটা থাকে ছেয়ে।

আসছে আবার বছর ঘুরে

ওই সাল পয়লা কিছুদিন পরে  

এভাবেই গ্রামবাংলায় আজও 

মাসের হিসেব চলে।

বাংলা মায়ের আঁচল পাতা ওই মাটিতেই ঝরে।  

হটাৎ একদিন খোকা এসে বায়না ধরে মাকে

আজ আবার কিসের ঊনিশ

চল না মা দেখি গিয়ে।

গ্রাম্য বধু জানেনা কিছুই কিসের এতো মিছিল।

বলল খোকাকে যাস না ওদিকে। 

পা পড়বে তোর পিছিল। 

হটাৎ বধুর মনে হলো, সেই ছোট্ট বেলার কথা। 

দাদুর মুখে শুনতে পাওয়া পাঁচ ই জৈষ্ঠের আত্মকথা।

তবে কি আজ জৈষ্ঠ্য মাসের পাঁচ তারিখটি পরে। 

তাহলে তো জৈষ্ঠ্য সংক্রান্তির কর্মপুরুষের খৈ ভাজতেই হবে। 

টেনে আনে খোকাকে ঘরে, শুধায় পাশে বসে।

দেখ না খোকা তারিখটা কি আজ পাঁচ জৈষ্ঠ্য পরে?

খোকা অনেক খেটে খুটে দেখায় পাঞ্জি খুলে।

না গো মা আজ চার ই জৈষ্ঠ্য ইংরেজি ঊনিশ পরে। 

যাক গে বাবা পড়তে বসো, ধারাপাতটা ধরে।

বাংলা বারো মাসের নামটা না হয় আজ তুমি শিখো।

 

 

কবি পরিচয় : শর্মিষ্ঠা দেব পুরকায়স্থ

                      অসমের কাছাড় জেলার ডলু নিবাসী


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.