মুসলিম ভোটাররা ভোট দেয় নি তাই বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সমিতি ভঙ্গ
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসমে ১ কোটি ১০ লাখ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। বাংলা মুলের সংখ্যা বেশি। বাংলা মুলের এআই ইউ ডি এফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল বাংলাভাষী হলেও রাজনৈতিক মুনাফা লাভের লক্ষ্যে অসমীয়া ভাষাকে মাতৃ ভাষা হিসাবে মেনে নিচ্ছেন। ১৬টি আসনে জিতে ৯.২৯ শতাংশ ভোট আদায় করেছে। তারা বাংলাভাষী একজন হিন্দুকেও প্রার্থী করেনি। মাত্র একজন হিন্দুকে টিকিট দিয়ে জিতিয়ে এনেছে। কংগ্রেস দলে মোট ২৯ জন জিতেছে। তার মধ্যে ১৬ জন মুসলিম প্রার্থী জিতেছেন। বিজেপি ৮ জনকে প্রার্থী করেছিল। জনিয়া, জলেস্বর, বাঘবর, দক্ষিণ শালমারা, বিলাসিপাড়া পশ্চিম, লাহরিঘাট, রূপহিহাট এবং বরাকের সোনাই প্রার্থী দিয়েছিল। সোনাই ডেপুটি স্পিকার আমিনুল হক লস্কর ইউ ডি এফের কাছে হেরে গেলেও মুসলিম ভোটাররা তাকে ভোট দেননি, যেটুকু ভোট পেয়েছিল হিন্দুদের। বাকি ৭টি আসনে ১০ শতাংশ ভোটও পায়নি। বিজেপি শরিক অগপ চেঙ্গা, দল গাঁ, যমুনামুখ, মানকাচার কেন্দ্রে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই করে গো হারাভাবে হেরেছে মুসলিম প্রধান কেন্দ্রগুলোতে। আরেক শরিক ইউ পি পি এলে কোন মুসলিম প্রার্থী ছিল না। অগপ-র মুসলিম প্রার্থীরা হেরে গেছেন। বিজেপি দলের একজনও জিতলেন না। মুসলিম ভোটের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোটারদের এক সম্পর্ক ছিল। এর মূলে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এই ‘কা’ লাগু হলে মুসলিমদের বাংলা ছাড়তে হবে। অসম ছাড়তে হবে, সেকথা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বামেদের বন্ধু মুসলিম সংগঠন আই এস এফ মিলে-মিশে অসমে ব্যাপক প্রচার করেছিল। বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি মুক্তার হোসাইন দলকে বোঝাতে পারেননি। সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ডের সভাপতি মমিনুল আওয়াল মুসলিম জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে লাখ নয়, কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছেন। তার পরিবর্তে ১০ শতাংশ ভোটও পেলেন না। একজনকেও জিতিয়ে আনতে পারলেন না। ভোট পাবে না জেনেই তিনি অসমীয়া ভাষী খিলঞ্জীয়া মুসলিমদের নিয়ে পৃথক এন আর সি তৈরি করার উদ্যোগ শুরু করে ছিলেন। মুসলিম ভোটাররা পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম নেতাদের নির্দেশ মেনে বিজেপিকে বঙ্গেও ভোট দেয়নি অসমেও ভোট দেয়নি। অসমে ভবিষ্যতে বিজেপি থেকে মুসলিম ভোটাররা দূরে থাকবে। বঙ্গেও দূরে থাকবে। কা লাগু হলে দেশ থেকে মুসলিমদের বিতারণ করা হবে এই একটি ইস্যুতে বিজেপি হেরে গেল। তাই বলে তাদের শিক্ষা দিতে তাদের উন্নয়নে গঠিত সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য, জেলা, মন্ডল কমিটি ভেঙে দিয়ে বিজেপি বিরাট ভুল করল। ১ কোটি ১০ লাখ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষ বরাবর দূরে সরে গেলে বিজেপি বিরাট ধাক্কা খাবে। বিজেপি দলের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার রাজদীপ রায় গত ৫ মে আর জে পি এপি/জি এস, ডি আর আর/২০২০-২৩, এল ৩৯ নম্বর পত্র যোগে অসম প্রদেশ সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য, জেলা মন্ডল কমিটিগুলি ভেঙে দেয়। তিনি রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত দাসের নির্দেশ মেনে এই অর্ডার দেন। বড় লজ্জার কথা, পত্রে বলেই দেওয়া হয়েছে মুসলিম ভোটাররা ভোট না দেওয়ার জন্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সবার স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার আছে। ভোট দেয়নি তাই শাস্তি দেওয়া হলে বুমেরাং হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে বিজেপিকে একথা।









কোন মন্তব্য নেই