অসমে প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দপ্তর বন্টন
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা শপথ গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৩ জন মন্ত্রীর দপ্তর বন্টন করে রেকর্ড গড়লেন। আরেক রেকর্ড অসমে এই প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসাবে অজন্তা নেওগকে গুরু দায়িত্ব দেওয়া হল। কংগ্রেস দল থেকে বিজেপিতে গিয়েই সর্বোচ্চ পুরস্কার পেলেন। সমাজ কল্যাণ বিভাগ ও তার হাতে রাখা হয়েছে। সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোভিড যুদ্ধের মুখ্য সেনানী হিমন্তবিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে অগপর কেশব মহন্তর ওপর আস্থা রাখলেন তাকেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের দায়িত্ব দিলেন। বিজ্ঞান তথ্য প্রযুক্তির দায়িত্ব ও দেওয়া হয়েছে। উপজাতি আন্দোলনের এককালের নেতা ভালো ডাক্তার রনজ পেগুকে শিক্ষা বিভাগের মত গুরুত্তপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা ঝুঁকি নিলেন না কি? তিনি সামাল দিতে পারবেন তো? এই দায়িত্ব ভালোভাবে সামলিয়ে ছিলেন হিমন্ত। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা তার হাতে থাকা অর্থ, স্বাস্থ্য বিভাগ ছেড়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পূর্ত্ত বিভাগ রেখেছেন। পার্সোনেল বিভাগও রেখেছেন। গতিশীল মূখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা হাতে কিছু সময় রাখলেন সরকারের কর্মদক্ষতা যাচাই করা যাবে। যে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর আকাশ ছোয়া দর। আগের মন্ত্রী ফনি ভূষণ চৌধুরী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলেন। বাজারে আগুন, সেই সঙ্গে ব্যাপক ভেজাল। মাছে ইউরিয়া সার, মাংসে হরমোন সহ বিষ ইনজেকশন খারুপেটিয়া বরপেটা অঞ্চলে কেমিক্যাল মিশিয়ে সবুজ সব্জি উৎপাদন করা হয়, আম-কলাতে কার্বাইড, পানীয় জলে বিষ। রঞ্জিত দাস পারবেন কি এই আমজনতাকে ভেজালের হাত থেকে রক্ষা করতে? বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাসকে গ্রাম পঞ্চায়েত, জনস্বাস্থ্য সঙ্গে খাদ্য ও সরবারাহ বিভাগের কঠিন দায়িত্ত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এই মন্ত্রী সভার দ্বিতীয় ব্যক্তি যাকে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ অর্পণ করা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে আছেন অগপর অতুল বরা তাকে
কৃষি, প্রাণী সম্পদ, পশুপালন, অসম চুক্তি ও সীমান্ত উন্নয়নের ভার দিয়ে পাশে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বরাকের প্রতিনিধি পরিমল শুক্ল বৈদ্যকে বন, আবগারি, মৎস্য ও পরিবেশ উন্নয়নের মত সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির বিভাগ দেওয়া হয়েছে। আগেই পরিমল সফলতা দেখিয়েছেন। আবগারি থেকে রেকর্ড আয় করে কোষাগারকে ভরিয়েছেন। শরিক দলের ইউ পি পি এলের উর্খাও গৌরা ব্রাহ্মকে হস্ত শিল্প, ভূমি সংরক্ষণ, বিটিসির সমতল উপজাতি উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ত্ব দেওয়া হয়েছে। চন্দ্র মোহন পাটোয়ারীকে আগের বিভাগে রাখা হয়েছে। পরিবহন, শিল্প বাণিজ্য স্কিল ডেভেলপমেন্টের দায়িত্বে থাকবেন। গুয়াহাটি উন্নয়নের দায়িত্ব ছাড়াও সেচ, শহর উন্নয়নের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক সিংহল, যোগেন মোহন পেয়েছেন রাজস্ব, পার্বত্যঞ্চলে উন্নয়ন, দুর্যোগ প্রশমন ও খনি। পীযুষ হাজারিকাকে সংসদীয় বিষয়ক, জল সম্পদ, তথ্য ও জন সংযোগ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকেও বন্যা সমস্যার মত দায়িত্বে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা পীযুষ হাজারিকার মত করোনা সেনানীর দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন। বিমল বরাকে স্পোর্টস, যুব কল্যাণ, বিদ্যুত্, পর্যটন বিভাগের ভার দিয়ে এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। নতুন মুখ কি সফলতা দেখাতে পারবেন কি? বিদ্যুত্ বিভাগ সাধারণ বিভাগ নয়। তিন কোটি মানুষের দৈননন্দিন সমস্যার সঙ্গে জড়িত বিদ্যুত্। সঞ্জয় কিষাণকে চা বাগান উন্নয়ন আর শ্রমবিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।










কোন মন্তব্য নেই