৭৭ বিধায়ককে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অমিত শাহের
নয়া দিল্লি : সদ্য সমাপ্ত ভোটে জয়ী
বিজেপির ৭৭ বিধায়ককেই কেন্দ্রীয় সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল অমিত শাহের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সোমবার হেস্টিংসে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের সময়েই এই
সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে উপস্থিত দুই
নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ ও ভূপেন্দ্র যাদব। ৭৭ বিধায়কের মধ্যে অবশ্য বিরোধী দলনেতা
শুভেন্দু অধিকারী,
মুকুল রায়, নিশীথ প্রামাণিক সহ ১৩ বিধায়ক
দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
রাজ্যে গত লোকসভা ভোটের আগে থেকেই বিভিন্ন দল থেকে এসে গেরুয়া
চোলা পরার পুরস্কার হিসাবে নেতা-নেত্রীদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেছে
অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পাড়ায় কিংবা মহল্লায় যাদের কেউ চেনে না কিংবা যারা
নানা অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত তাদেরও সিআরপিএফ জওয়ানদের নিরাপত্তা
দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেকেই কেন্দ্রীয় সুরক্ষা
পাওয়ার লোভে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ যে বিষয়টি ভাল চোখে মেনে নেননি
সদ্য সমাপ্ত ভোটেই তার প্রমাণ মিলেছে। কেন্দ্রীয় সুরক্ষা পাওয়া বিজেপি
নেতা-নেত্রীদের ঘাড় ধাক্কা দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগেই নজিরবিহীনভাবে পদ্ম
শিবিরের ২৯৩ জন প্রার্থীকেই জনগণের টাকার আদ্যশ্রাদ্ধ করে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা
দিয়েছিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আজ সোমবার অর্থাত্ ১০ মে ওই নিরাপত্তা
প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে অমিত শাহের কাছে আর্জি
জানানো হয়, আরও কিছুদিন যেন বিধানসভা ভোটে পরাজিত প্রার্থীদের কেন্দ্রীয়
নিরাপত্তা রেখে দেওয়া হয়। সেই আর্জিও মেনে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত হয়েছে, সব দলীয় বিধায়ক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসলে কেন্দ্রীয় সুরক্ষার অছিলায় দলীয় বিধায়কদের গতিবিধির উপরে
নজর রাখতে চাইছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কেননা, অনেক বিধায়কই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন এমন আশঙ্কায় ভুগছেন বঙ্গ
বিজেপি নেতৃত্ব। কোন-কোন বিধায়ক দলের মধ্যে থেকে ফের বিভীষণের ভূমিকায় অবতীর্ণ
হচ্ছেন, তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করছেন তা যাতে
নখদর্পণে থাকে তার জন্যই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।









কোন মন্তব্য নেই