Header Ads

লামডিঙের রেলওয়ে বিদ্যালয়ে বাংলা তুলে দেওয়া হল,বাঙালিরা তাই চাইছিল


অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসমের বাংলা মাধ্যমের  প্রাথমিক ও মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়গুলো সব  অসমিয়া  মাধ্যম করার প্রক্রিয়া বহু বছর আগে থেকে শুরু হয়েছে।এখন বাঙালি পরিবাররা চাইছেন না তাদের সন্তানরা বাংলা  মাধ্যমের   বিদ্যালয়ে পড়ুক। ইংরেজি বিদ্যালয়ে পরে  সন্তানদের চোস্ত ইংরেজি পড়া সায়েব  করতে চাই, যারা ভবিষ্যতে ভাল ভাল চাকরি জোগার করে বিদেশে বসে  জন্মদাতা  বাবা-মার খোঁজ নেবার প্রয়োজন বোধ করবে না। বৃদ্ধাবাসে পাঠাবে, আর  মানি অর্ডার করবে।  মা বাবা দিন ভোর ছেলেদের সুখ্যাতি করবে যন্ত্রণায় ভুগবেন। এই হচ্ছে  বাঙালি যাদের সোনালী অতীত ছাড়া  কিছুই অবশিষ্ট নেই। একবার পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকান।   যারা অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে না। বাংলা ভাষা কে  বিসর্জন দেয়  তাদের  কোনো ভবিষ্যৎ থাকতে পারে না।  বাংলা ভাষ্য কৃষ্টি  ধ্বংসের জন্যে অন্য জাত কে দোষারোপ করা যায় না। আমরা মধ্য অসমের রেল  শহর  লামডিঙকে বাংলা কৃষ্টি সংস্কৃতির  শহর বলে জানতাম এই শহরের প্রতি জন মানুষ  বাংলা ভাষার প্রতি  শ্রদ্ধা  ভালোবাসা আছে। এই সংস্কৃতি মনস্ক  শহরের বাঙালি দের অনুমোদন নিয়ে ১৯৪৮ সালের লামডিং রেলওয়ে উচ্চ মাধ্যমিক  বিদ্যালযের  বাংলা মাধ্যম তুলে দিয়ে বিদেশী ভাষা ইংরেজি করা হল। এই  ঐতিহ্যমণ্ডিত বিদ্যালয়ের বহু ছাত্রছাত্রী বাংলা পড়ে দেশ বিদেশে  উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছেন। গুয়াহাটি পল্টন বাজারের বাংলা মাধ্যমের  উচ্চ  মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি  জীবনের শেষ দিন গুনছে। এই  বিদ্যালয়ের  কৃতি ছাত্ররা রাষ্ট্র সংঘ পর্যন্ত গিয়েছে। শুনলাম লামডিং  এর মানুষ বেজায় খুশি  এবার ডন বক্সের  মত ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে বেশি টাকা দিয়ে ছেলেকে ভর্তি করতে হবে না। কম পয়সাতে রেল ওয়ে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারবে,  ইংরেজী পড়ে ছেলে বড় চাকরি পাবে  টাকা কমাবে। বিদেশে যাবে।  সেই আনন্দ বাংলাবাসী শহর   লামডিং মশগুল।  এই  শহর থেকে বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরিতোষ পাল চৌধুরী এই শহরে  থাকতেন, সমাজসেবী  নেতাজি প্রেমী বিজন সিংহ  জোট বেঁধে এই  আন্দোলন কে বরাক উপত্যকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে দেন। আগামী ১৯ মে সেই দিন আসছে বাংলা ভাষা  বাঁচাতে গিয়ে ১১ জন তর-তাজা যুবক-যুবতী প্রাণ আহুতি দেন। সারা বিশ্ব সে কথা জানে।লামডিং বাসী হয়ত জানেন না। এই ১৯ মে বিজেপি সরকার  মাধ্যমিক  পরীক্ষার দিন ধার্য্য করেছে। প্রতিবাদে কাজ হয়নি।  সারা রাজ্যের  সঙ্গে উজান অসমের  মাকুমের  সুরজ বালা মেমোরিয়াল হাইস্কুল  বাংলা ভাষা বাদ দিয়ে অসমীয়া বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। সেই একই কারণে বাঙালিরা আর  সন্তানদের রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের  বাংলা ভাষা  পড়াবেন না। গুয়াহাটি রাজধানী লাগোয়া বাংলা মাধ্যমের  এল পি  প্রাথমিক বিদ্যালয় কিশলয় বিদ্যাপীঠ ছাত্রের অভাবে  মৃত্যু পথ যাত্রী।  হাই স্কুলটি ছাত্রের অভাবে  প্রায় বন্ধ, কারণ সেই এক  বাংলা  মাধ্যমে আর কেউ পড়াচ্ছেন না। বাঙালিরা তাদের সোনালী অতীত ভুলে আজ অবক্ষয়ের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.