যদি বরাক উপত্যকাকে আসামের অংশ বলে মনে করে তবে সীমান্তে মিজো আগ্রাসন ঠেকাতে অবিলম্বে কার্যকরী ব্যবস্থা নিক রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় প্রশাসন - বিডিএফ মূখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায়
শিলচর ঃ মিজো আগ্রাসী দের দ্বারা সম্প্রতি ধলাই সমষ্টির খুলিছড়া অব্দি রাস্তা নির্মাণ ও বন ধ্বংশের ঘটনা নজরে এসেছে এবং এটা পরিষ্কার যে রাজ্যের নির্বাচনী ব্যাস্ততার সুযোগ নিয়ে এইসব দুস্কর্ম চালানো হয়েছে। সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলে থাকা মিজো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর মূখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায়।
এক রেকর্ডেড প্রেস বার্তায় তিনি বলেন যে সম্প্রতি অন্যান্য সংগঠনের সাথে বিডি এফ এর এক প্রতিনিধি দল ধলাই সীমান্তে গিয়ে সেখানকার অবস্থা সরেজমিনে দেখে এসেছেন। তাদের বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে আসাম পুলিশ তথা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই কাছাড় জেলায় রাস্তা অব্দি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে এইসব দুস্কৃতকারীরা। তিনি বলেন যে গত দুই বছর ধরে এইভাবে বারবার আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে মিজোরাম সরকারের পরোক্ষ মদতে। দুস্কৃতিকারীরা জমি দখল করে চাষ আবাদ নষ্ট করছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করছে, অত্যাচার করছে, ঘর বাড়ি , রাস্তা ইত্যাদি বানাচ্ছে অথচ রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার নির্বিকার ভুমিকা পালন করে চলেছেন। যেখানে খোদ জেলাশাসক এবং পুলিশ আধিকারিকের সীমান্ত সফরের পরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তাই সরকারি তরফে ইচ্ছাকৃত ভাবে ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। পার্শ্ববর্তী অরুনাচল প্রদেশে চীন দ্বারা আগ্রাসন হলে যেখানে সেনাবাহিনী শক্ত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম সেখানে ধলাই সীমান্তে এইসব ক্রমাগত আগ্রাসন প্রমান করছে যে হয় আসাম সরকার বরাক উপত্যকাকে রাজ্যের অংশ হিসেবে মনে করছেন না নতুবা তারা ভাবছেন যে এই উপত্যাকা যেহেতু আসাম থেকে ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নই হয়ে যাবে ফলে এই ব্যাপারে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। এসবের মাধ্যমে বরাকের নাগরিকদের ধীরে ধীরে আসাম থেকে মানসিক ভাবে বিযুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিডিএফ মূখ্য আহ্বায়ক এদিন বলেন যে রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় প্রশাসন যদি সত্যি এই উপত্যাকাকে আসামের অঙ্গ বলে মনে করে তবে সীমান্ত আগ্রাসন রোধে অবিলম্বে কার্যকরী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে তার প্রমাণ দিক ।অন্যথা জনগন যদি এসবের প্রতিরোধে হাতে অস্ত্র তুলে নেন তবে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবেন তারাই।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।









কোন মন্তব্য নেই