করোনায় আক্রান্তদের জন্য বেড অপ্রতুল, হোটেলগুলিকে হাসপাতাল বানানোর উদ্যোগ
নয়াদিল্লি : করোনা
রোগিদের জন্য সুখবর। এবার হয়ত নির্দিষ্ট শয্যার জন্য হাসপাতাল থেকে ফেরত যেতে হবে
না তাঁদের। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর বিশেষ ব্যবস্থা করেছে দিল্লি প্রশাসন। শহরের
কোভিড হাসপাতাল সংলগ্ন হোটেলগুলিকে হাসপাতাল বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে আম আদমি
পার্টি সরকার।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রশাসন জানিয়েছে দিল্লির
ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। বুধবার এই
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভিন্ন হোটেলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে দিল্লি
প্রশাসনের তরফে। তাদের সাথে কথা বলেই তৈরি হয়েছে একটি তালিকা, যেখানে সেই সব হোটেলগুলির নাম দেওয়া হয়েছে, যেগুলিকে হাসপাতালের বর্ধিত রূপ দেওয়া
হবে।
মোট ২৩টি হোটেল এই তালিকায় রয়েছে। ২১১২টি শয্যা
বাড়ানো যাবে এর মাধ্যমে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। প্রথম দফয়া ২১১২টি ও দ্বিতীয় দফায়
২৮২টি শয্যা বাড়ানো হবে। এতে বেশ সুবিধায় হবে করোনা রোগিদের বলেই মনে করা হ্চ্ছে।
দুদিন আগেই ১৪টি হোটেলকে সম্পূর্ণ কোভিড
হাসপাতালের মর্যাদা দেয় দিল্লি সরকার। এর পরে আরও হাসপাতালকে এই তালিকা ভুক্ত করা
হয়।
এদিকে, সংক্রমণের শিখরে দিল্লি। রাজধানীতে করোনার
সংক্রমণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিল। একদিনে দিল্লিতে করোনা আক্রান্ত প্রায় সাড়ে
১৩ হাজার। দিল্লিজুড়ে হু হু করে বড়ছে সংক্রমণ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিশেহারা দশা
কেজরিওয়াল সরকারের। এখনও পর্য়ন্ত এটাই দিল্লিতে করোনার দৈনিক সর্বোচ্চ সংক্রমণ।
করোনার সেকেন্ড ওয়েভ তাণ্ডব চালাচ্ছে দেশজুড়ে।
দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যের পাশাপাশি রাজধানী দিল্লিতেও লাগামছাড়া সংক্রমণ। একদিনে
রাজধানীতে করোনা আক্রান্ত হলেন ১৩ হাজার ৫৬৮ জন। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে
এটাই দিল্লিতে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ।
কদিনে দিল্লিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ৮১
জনের। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর দিল্লিতে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ ৮২ জনের মৃত্যু
হয়েছিল। তারপর এই প্রথম একদিনে ৮১ জন করোনার বলি হলেন। এই মুহূর্তে রাজধানীতে
করোনা অ্যাক্টিভ কেস ৪৩ হাজার ৫১০। দিল্লির ৬ হাজার ৮৫২টি এলাকা করোনার হটস্পট বলে
চিহ্নিত করেছে সরকার। সেই জায়গাগুলিতে কোভিড প্রোটোকল মেনে চলার ব্যাপারে বাড়তি নজরদারি
চলছে।
মাত্রাছাড়া সংক্রমণের জেরে দিল্লিতেও কঠিন
চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। এই মুহূর্তে ২১ হাজার ৯৫৪ জন
দিল্লিতে হোম আইসোলেশনে আছেন। রাজধানীর ৬ হাজার ১৭৫টি এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন
হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই এলাকাগুলিতে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে কোভিড টেস্ট করাচ্ছেন
স্বাস্থ্যকর্মীরা।









কোন মন্তব্য নেই