Header Ads

প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ১৯ শে মের পরীক্ষা কর্মসূচি বাতিল হলনা, বরাকবাসীর আবেগকে মূল্য দিলনা দিশপুর প্রশাসন - প্রতিবাদ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত বরাক ডেমোক্রেটিক যুব ফ্রন্টের


শিলচরঃ সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর কতৃক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার যে রুটিন প্রকাশিত হয়েছে তাতে ১৯শে মে ২০২১ সকাল বেলা ম্যাট্রিক এডভান্স মনিপুরী ও একাদশ শ্রেণীর কম্পিউটার সায়েন্স এবং দুপুরবেলা দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে অর্থাৎ উচ্চতর শিক্ষা সংসদ বাংলা পরীক্ষার তারিখের পরিবর্তন করেননি। এই ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল বরাক ডেমোক্রেটিক যুব ফ্রন্ট।

বিডিএফ অস্থায়ী কার্যালয়ে আহুত এক সভায় এই ব্যাপারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুব ফ্রন্টের মূখ্য আহ্বায়ক কল্পার্নব গুপ্ত বলেন যে এটি প্রথম ঘোষিত হবার পর বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কর্মকর্তারা এর প্রতিবাদে উচ্চতর মাধ্যমিক সংসদের আধিকারিকদের কাছে স্মারকলিপি দেন । তখন আলোচনা ক্রমে এইদিন পরীক্ষা কর্মসূচি বাতিল করা হবে বলে‌ আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক নোটিশ থেকে পরিস্কার যে এই প্রতিশ্রুতি পালনে দিশপুরের কর্তাব্যক্তিদের স্পষ্টতই অনীহা রয়েছে। কল্পার্ণব বলেন যারা দিশপুরে সরকার এবং প্রশাসন চালাচ্ছেন তাদের উগ্র জাতীয়তাবাদী চরিত্র এইভাবে বারবার নগ্ন হচ্ছে। এরা বরাক বাসীকে ঘৃনা করেন। চান যে এই উপত্যাকা তাদের সব স্বাভিমান বিসর্জন দিয়ে দিশপুরের কলোনী হয়ে থাকুক। একই ভাবে রাজনৈতিক নেতারা এই উপত্যাকাকে শুধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা লুঠ করার মাধ্যম বলেই মনে করেন। তাই ভাষা শহীদ দিবস ,যা প্রতিটি বরাকবাসীর স্বাভিমান ও আবেগের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত সেই দিনকেও মান্যতা দিতে নারাজ বর্তমান প্রশাসন বা সরকার।তার প্রশ্ন যেভাবে বরাক বঙ্গ কে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করল পরিষদ ,একই ব্যাপার অসম সাহিত্য সভার ক্ষেত্রে করতে পারত কি ?

বিডিএফ যুব ফ্রন্টের অপর আহ্বায়ক ইকবাল নাসিম চৌধুরী বলেন যে এখন অব্দি যত সরকার দিশপুরে আসীন হয়েছে সবাই বরাকের ভাষা শহীদদের  যোগ্য সম্মান দিতে শোচনীয়ভাবে ব্যার্থ হয়েছে। তাই এখন অব্দি উপত্যাকার পঞ্চদশ শহীদের কারুর সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি, তাদের পরিবারের মেলেনি কোন আর্থিক অনুদান। অথচ অসম আন্দোলনের শহীদদের ব্যাপারে সব সরকারই উদারহস্ত। তিনি বলেন এতদিন আন্দোলন করেও শিলচর রেলস্টেশনের ' ভাষা শহীদ স্টেশন' নামকরণ ইচ্ছাকৃত ভাবে আটকে‌ রাখা হয়েছে,যেখানে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই ব্যাপারে অনেক আগেই গ্রীন সিগন্যাল  দিয়েছে। একই ভাবে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষিক গোষ্ঠীর ভাষার সহযোগী ভাষার স্বীকৃতি জোটেনি এখনো। তিনি বলেন এসব করে ইচ্ছাকৃত ভাবে দুই উপত্যাকার বিভাজনকে মদত দেওয়া হচ্ছে।

বিডিএফ যুব ফ্রন্টের সদস্যরা এদিন অবিলম্বে উচ্চতর মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে এই ব্যাপারে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং তারপরও যদি কাজ না হয় তাহলে এইদিন পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে তারা রাস্তায় নামবেন বলে জানিয়েছেন। বিডিএফ যুব ফ্রন্টের মূখ্য আহ্বায়ক এদিন বরাকের সব সচেতন ও স্বাভিমানী নাগরিকদের তাদের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছেন।

এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.