বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়
প্ররোচনামূলক প্রগলভতার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ২৪-ঘন্টার মধ্যে মুখ খুলতে নিষেধ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাহুল সিনহাকে মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ৪৮ ঘন্টা এবং দিলীপ ঘোষকেও শো-কজ করা হয়েছে। তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে
বে-আইনি ও অ-সাংবিধানিক দাবি করে আজ 'কালো দিন' হিসেবে পালন করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা নিজে কমিশনের এই 'অ-সাংবিধানিক' নির্দেশের প্রতিবাদে ধর্মতলার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে 'সত্যাগ্রহ' পালন করেছেন এবং বাংলার চিত্রশিল্পকে তিনি বেশ কিছু ছবি এঁকে সমৃদ্ধ করেছেন ! রাহুল সিনহা, শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষ কমিশনের নির্দেশকে অ-সাংবিধানিক মনে করছেন কিনা তা আমি জানি না। এটাও জানি না--আসামের উপমুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, উত্তর প্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীকে ৭২ ঘন্টা মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার দিনটা 'আলোকোজ্জ্বল দিন' হিসেবে পালিত হয়েছিল কিনা। কারণ, এ রাজ্যের গণতন্ত্রপ্রেমীদের কোনোরকম প্রতিক্রিয়া আমি অন্ততঃ লক্ষ্য করি নি।
এইরকম একটা উত্তপ্ত আবহাওয়ায় ১৭-এপ্রিল জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ে নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনেও প্রমাণ হতে চলেছে--কোনো রাজনৈতিক দলের 'গড়' বা 'দুর্গ' ব্যাপারটা এমনই একটা মিথ যার ভিত্তিই হল বেলাগাম এক তরফা ছাপ্পা ভোট। বাম আমলে বামেদের কথিত বা চিহ্নিত দুর্গে ফাটল ধরানোর জন্যে আজকের মুখ্যমন্ত্রী--তৎকালীন বিরোধী নেত্রী নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে ৮-১০ দফায় নির্বাচন করা হোক ! পুরনো পেপার কাটিং ডেপুটেশন পত্র ঘাঁটাঘাঁটি করলেই এর সত্যতা প্রমাণিত হবে। বিরোধী নেত্রী হিসেবে যা বলা যায় যে সব দাবি নিয়ে সোচ্চার হওয়া যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে সে সব দ্রুত ভুলে যেতে হয় এবং প্রতি মুহূর্তে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়তে হয়--নির্বাচন কমিশন গৃহমন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে হয় ! রাজ্যের মানুষের কাছে এসব নতুন কিছু নয়।
যাইহোক, বলছিলাম 'গড়' বা 'দুর্গ'-এর কথা। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও উত্তরবঙ্গ ছিল তৃণমূলের দুর্ভেদ্য 'দুর্গ'। এই দুর্গে বড়সড় ফাটলের চিহ্ন ধরা পড়ল ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে। বুথস্তর পর্যন্ত বিজেপি'র সাংগঠনিক শক্তি অথবা সাংগঠনিক নেতৃত্ব বলতে উত্তরবঙ্গে প্রায় কিছুই ছিল না--তবু দুর্ভেদ্য 'দুর্গ' হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল কেন? এর অন্যতম প্রধান কারণ হল নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা। বেলাগাম একতরফা ছাপ্পা ভোট আটকে দেওয়ার কারণেই দুর্গের ভিত টলে গিয়েছিল। বুথে একতরফা ছাপ্পা ভোট পড়ছে না--অথচ ৮০-৯০% ভোট পড়ছে--অর্থাৎ দলে দলে মানুষ এসে ভোট দিয়ে যাচ্ছে ! এরকম ভোট চলতে থাকলে কোনো গড় বা দুর্গ অটুট থাকতে পারে না। বাম রাজত্বও একের পর এক গড় বা দুর্গ ধসে পড়েছিল কিন্তু এই কারণেই। ইতিমধ্যেই যে ১৩৪-টি আসনে ভোট হয়ে গেল তার মধ্যে ২০১৮ সালেও সবগুলোই ছিল তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সৌজন্যে সিংহভাগ দুর্গ-ই ভুমিতে লুটিয়ে পড়ল। সদ্য সমাপ্ত ১৩৪-টি আসনে ভোট গ্রহণের পর পণ্ডিতেরা অনেকেই অনেকরকম অঙ্ক কষছেন--নানারকম রোমহর্ষক পূর্বাভাসও দিচ্ছেন--কিন্তু প্রায় সকলেই 'গড়' বা 'দুর্গ' তত্ত্বটিকে সযত্নে এড়িয়ে যাচ্ছেন--স্পষ্টাস্পষ্টি বলতে পারছেন না যে 'গড়' বা 'দুর্গ' আসলেই একটি মিথ মাত্র--যার ভিত্তিই হল বেলাগাম একতরফা ছাপ্পা ভোট--যার সুদক্ষ শিল্পী হিসেবে লক্ষণ শেঠ, সুশান্ত ঘোষ, অনিল বসু (বিশ্বরেকর্ড গড়া শিল্পিী), তড়িৎ তোপদার, অমিতাভ নন্দী, অনুব্রত মণ্ডল-এর মতো আরও অনেককেই 'ছাপ্পাশ্রী' পুরস্কারে ভূষিত করা যায়--সত্যি বলতে কি, করা উচিতও। কেন করা হয় নি আমি জানি না।
১৩৪-টি দুর্গের অধিপতিদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮০-৮১ জনের সামনে লালকার্ড ঝুলছে। ২-রা মে মিলিয়ে নেবেন। ১৭-এপ্রিল জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের নির্বাচনে কাদের সামনে লালকার্ড ঝুলছে সেটা এখন দেখা যেতে পারে। বিধিবদ্ধ সতর্কতা মেনে আমি বাপু আগেই বলে রাখছি--এটা আমার জ্যোতিষবাণী নয়, কোনো রেজাল্টও নয়--নিছকই বিশ্লেষণ মাত্র !
আমি আগেই বলেছিলাম জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের মধ্যে তৃণমূল এগিয়ে থাকছে মাত্র দু'টি আসনে--এখনও তাই বলছি। এই দুটি আসন হল ময়নাগুড়ি এবং রাজগঞ্জ। রাজগঞ্জের খগেশ্বর রায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের সীমা নেই--তবু বিজেপির স্কুল ফাইনালের গণ্ডি না পেরনো বহিরাগত নতুন মুখ উপযুক্ত লড়াইয়ের জায়গায় উঠে আসতে পারছেন না। তুলনায় সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থীর বামপন্থী ইমেজ এই দুঃসময়েও একটু চোখে পড়ার মতো হওয়ায় তৃণমূল শিবিরে বেশ কিছুটা স্বস্তি'র হাওয়া রয়েছে। অন্যদিকে ময়নাগুড়িতে তৃণমূল প্রার্থী মনোজ রায় তাঁর নিজস্ব পরিচিতির কারণেই খানিকটা এগিয়ে থেকেই ময়দানে ঝাঁপিয়েছেন। দক্ষ সংগঠক হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে। এর সঙ্গে বাড়তি প্লাস পয়েন্ট হিসেবে থাকছে ময়নাগুড়িকে পুরসভা গঠনের সরকারি সিদ্ধান্ত। ছোটবড় কিছু নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট সত্ত্বেও মনোজবাবুকে এগিয়ে রাখছে বিজেপি-ই তাদের গোষ্ঠী কোন্দলের কারণেই। এই দুটি আসন ছাড়া বাকি পাঁচটি আসনেই যথেষ্ট এগিয়ে থাকছেন বিজেপি প্রার্থীরা। জলপাইগুড়ি সদরে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের ভোট কাটাকাটির সুবর্ণ সুযোগ পেতে পারেন বিজেপি'র কনিষ্ঠ নতুন প্রার্থী সৌজিৎ সিংহ। বিজেপি'র অন্দরে প্রার্থী নিয়ে যাদের ক্ষোভ রয়েছে তারা বিশেষ প্রতিবন্ধকতা তৈরির জায়গায় নেই। পরপর দু'বার জেতার পরেও বেশ কিছু নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট সুখবিলাসবাবুকে এবারে হতাশ করতেই পারে। তৃণমূল প্রার্থী বক্তিগত স্তরে যতই গ্রহণযোগ্য মানুষ হোন না কেন তৃণমূল কংগ্রেসের খেয়োখেয়ির দীর্ঘমেয়াদী রাজনীতির কারণেই জেতার জোরদার সম্ভাবনা তাঁর দিকে থাকছে না। এবারের ইন্দ্রপতনের তালিকায় একটি উজ্জ্বল কেন্দ্র হিসেবে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তালিকায় উঠে এসেছে। হিউজ ৮৬ হাজার ১০৭ ভোটে পিছিয়ে থেকেও যে কায়দায় এবং স্টাইলে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব ময়দানে নেমেছেন তাতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী স্বচ্ছ ভাবমূর্তির লড়াকু (একদা তৃণমূলেই ছিলেন) শিখা চ্যাটার্জ্জী তাঁর স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে চলেছেন এটা বলা যেতেই পারে--বিশেষ করে যে দুর্গ একতরফা ভোটের কল্যাণেই দুর্গ হয়ে উঠেছিল সেই একতরফা ভোটের কেনো সুযোগ এবারে লোকসভার মতোই (কিংবা তার চেয়েও বেশি) থাকছে না। সুতরাং উজ্জ্বল লালকার্ড ঝুলছে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর সামনে। নাগরাকাটা এবং মাল--এই দুই কেন্দ্রেও গুরুং ম্যাজিক আদৌ কাজ করছে না--উপড়ি হিসেবে থাকছে তৃণমূলের অন্তর্দলীয় কোন্দল এবং প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা যা মূলতঃ দুর্নীতি ভিত্তিক। ফলে নাগরাকাটায় বিজেপি'র পুনা ভেংরা এবং মালে বিজেপি প্রার্থী মহেশ বাগে গ্রীণ কার্ড দেখতে পারেন।
আগেও বলেছিলাম--এখনও বলছি দার্জিলিংয়ে তৃণমূল এবারে খাতা খুলতে পারবে না। শিলিগুড়ি কেন্দ্রটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমার মনে পড়ছে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা। সমস্ত মিডিয়া এবং চ্যানেলের দিগ্বিজয়ী ভোট পণ্ডিতরা নিশ্চয়তার সঙ্গে দাবি করেছিলেন অশোক ভট্টাচার্য্য জিতছেনই। সেই আশঙ্কাতেই নাকি গৌতম দেব শিলিগুড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি কেন্দ্রে চলে গিয়েছিলেন ! একমাত্র আমিই বলেছিলাম অশোক ভট্টাচার্য্য শিলিগুড়িতে হারছেন এবং একেবারেই অরাজনৈতিক নতুন মুখ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য্য জিতছেন। আর্কাইভ থেকে যদি কেউ তৎকালীন দৈনিক স্টেটসমান কাগজ সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে দেখবেন প্রথম পৃষ্ঠাতেই অশোক-রুদ্রনাথের ছবি সহ আমার একটি প্রতিবেদন ছিল--যাতে আমার স্পষ্ট দাবি ছিল অশোক হারছেন--রুদ্রনাথ জিতছেন। আর কোনো কাগজে আমার সমর্থনে কোনো প্রতিবেদন যদি প্রকাশিত হয়ে থাকে (আমার প্রতিবেদন প্রকাশের আগে) এবং সেটা যদি কেউ দেখাতে পারেন--আমি খুব খুশি হব। কিন্তু আমি তখন খুব খুশি ছিলাম না--অনেকেই আমার দাবি খ্যাক-খ্যাক করে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল--এমন কী আমার কাগজের সম্পাদকও আমাকে ভর্ৎসনা করার জন্য ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন !
আজ আবার বলছি--এবারে তৃণমূল প্রার্থী ওমপ্রকাশ মিশ্রের সামনে লালকার্ড ঝুলছে। শঙ্কর ঘোষের বিপ্লব এবং ওমপ্রকাশের বিস্ময়কর সুভদ্র রাজনীতির মাঝখান দিয়ে এবারেও অশোক ভট্টাচার্য্য গ্রীণকার্ড দেখতে চলেছেন বলা যেতেই পারে। বহিরাগত তত্ত্বের শিকার হতে চলেছেন ওমপ্রকাশ। দলেরই বহু কর্মী সমর্থক যে তাঁর পাশে নেই সেটা জানা যাবে ২-রা মে।
কোচবিহারে রাজবংশী ভোটের রাজনৈতিক যে গুরুত্ব তৃণমূল অস্বীকার করতে পারে নি--সেই তৃণমূলই রাজবংশী ভোটারদের ক্ষেপিয়ে দিল মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে গুরুংপন্থীদের ভোটের লোভে নলিনীরঞ্জন রায়-কে হটিয়ে রাজেন সুনদাসকে প্রার্থী করার আগে ক্ষেত্রসমীক্ষার ধার ধারে নি তৃণমূল। সমতলে এমনিতেই গুরুংয়ের ইম্প্রেশন একেবারে তলানিতে--রাজেন সুনদাসের সামনে তাই লালকার্ড। কংগ্রেসের শঙ্কর মালাকার এবং রাজেন সুনদাসের লড়াইয়ের ফাঁকা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সঠিক সম্ভাবনার কথা ভাবছেন বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মণ !
পাহাড়ের তিনটি আসনের একটিতেও বিমল গুরুং হালে পানি পচ্ছেন না। তিনের মধ্যে কালিম্পং-দার্জিলিং-এ বিজেপি বাজি মাতের জায়গায় দ্রুত উঠে এসেছে--বিশেষ করে আজ অমিত শাহ'র জনসভার পর। গুরুং-তামাং লড়ছেন আর কালিম্পং-দার্জিলিং থেকে বিজেপি'র শুভ প্রধান ও নীরজ জিম্বা গ্রীণ কার্ড পাওয়ার জায়গায় উঠে এলেন ! একমাত্র কার্সিয়াং আসনে--না, গুরুং নন--শেষ হাসি হাসতে পারেন তামাং। বিনয় তামাং গোষ্ঠীর ছিরিং দাহাল গ্রীণকার্ড পেলে আমি অবাক হব না।
ফাঁসিদেওয়াতেও লড়াই হবে সংযুক্ত মোর্চার সুনীল তিরকি (কং) ও ছোটন কিসকু (তৃণ)'র মধ্যে--মাঝখান থেকে গ্রীণকার্ডের হকদার হতে পারেন বহু চর্চিত দুর্গা মুর্মু (বিজেপি)।
মোট কথা জলপাইগুড়ি-দার্জিলিংয়ের মোট ১৩-টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের পক্ষে থাকতে পারে মাত্র দু-টি আসন। আমি ২১-মার্চ বলে ছিলাম উত্তরবঙ্গের ৫৬-টি আসনের মধ্যে তৃণমূল হারাতে পারে ৩২-টি আসন। জানি না--লোকসভার তুলনায় এটা কতটা কম বা বেশি ! যে ভিতের ওপর 'মিথ' দাঁড়িয়ে ছিল সেই ভিতের নিচে থেকেই মাটি সরে ধসের সৃষ্টি করছে। এক তরফা ছাপ্পা ভোটের ওপর নির্ভর করে যে গড় বা দুর্গ বাঁচানো যায় না এটা সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সশব্দ পতনের আওয়াজ থেকেই বোঝা যাদের দরকার ছিল তারা বোঝে নি। একই চটি-জুতোয় পা গলিয়ে তারা তীব্র বেগে দৌড়ুতে শুরু করে দিল--ফল কী করে সুখকর হতে পারে !!
কোন মন্তব্য নেই