Header Ads

ভারতের উজ্জ্বল ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, কুতুবমিনার আসলে ছিল বিষ্ণু স্তম্ভ

প্রত্নতাত্ত্বিক সেরেনা লোভেজ বিস্মিত হন যখন দেখেন ভারতের সরকার বিষ্ণু স্তম্ভ নামের মিনারটিকে নির্দ্বিধায় কুতুব মিনার নামে উল্লেখ করে। বলা হয় সেটি কুতুবউদ্দীন আইবক নাকি তৈরি করেছিলেন।

সেরেনা লোভেজের মতে 411 CE এই মিনারটির নির্মাণ কাল। রাজা চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের নির্দেশে নির্মিত হয় এই মিনারটি । নবরত্ন সভার সভাসদ জ্যোতিষাচার্য বরাহমিহিরের মহাকাশ বিজ্ঞানের গবেষণার স্বার্থেই এটি তিনি নির্মাণ করেন। বিষ্ণু স্তম্ভ (অপভ্রংশে কুতুব মিনার) সংলগ্ন এই অঞ্চলে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করতে পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছিল গরুড় স্তম্ভ । এই স্তম্ভের বৈশিষ্ট্য লৌহ নির্মিত এই স্তম্ভে কোনও মর্চে পরে না।

পরবর্তী কালে এই বিষ্ণু স্তম্ভ হয়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। দিল্লির রাজা জয় চন্দ্রের অধিকারে থাকা এই মিনারটি হয়ে ওঠে তাঁর কন্যা সংযুক্তার প্রমোদ বিহারের পছন্দসই জায়গা। ভক্তিমতী সংযুক্তা অমাবস্যা-পূর্নিমার দিন ক্ষন পালন করতেন। এবং ঐ বিশেষ দিন গুলোতে সখী ও দেহরক্ষী পরিবৃত হয়ে মিনার চূড়া থেকে যমুনা দর্শন করে তবেই জল গ্রহন করতেন।

সেরেনা লোভেজের মতে এই মিনারটিই সেই জায়গা যেখান থেকে রাজা পৃথ্বিরাজ তার প্রেয়সী সংযুক্তাকে হরন করেছিলেন। বিস্তারিত ঘটনা তিনি বর্ননা করেছেন তার লেখা ইতিহাস ভিত্তিক রচনা "দ্য অ্যানসিয়েন্ট কালারস্ অব ইন্ডিয়া" নামক বহু বিক্রিত পুস্তিকা টিতে।

একই মত প্রত্নতাত্ত্বিক ও খননবিদ ওয়াকার কলিনস এর। তাঁর মতে বিষ্ণু স্তম্ভ ওরফে কুতুব মিনার একই সাথে বিজ্ঞান ও ভালবাসা র দুই পৃথক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। অথচ শুধু মাত্র রাজনৈতিক প্রয়োজনে তার বিকৃত প্রচার চলছে। একটি সম্প্রদায়কে খুশি রাখার রাজনীতি করায় ব্যাস্ত ভারতীয় রাজনীতি বিদরা সমগ্র ভারতবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।

দ্বিতীয় অংশটাও পড়ে দেখা উচিৎ :  

প্রপাংশু_বিষ্ণুধ্বজ_হয়েগেল_কুতুবমিনার

দিল্লীর যে এলাকায় কুতুব মিনার অবস্থিত সেই জায়গাটির নাম মেহেরৌলি। 'মেহেরৌলি' শব্দটি এসেছে 'মিহিরওয়ালি' থেকে। মিহির হলেন সম্রাট বিক্রমাদিত্যের (৩৮০-৪১৩ খৃঃ) রাজসভার নবরত্নের এক রত্ন। বরাহমিহির ছিলেন জ্যোর্তিবিদ। মিহিরওয়ালি বলতে বোঝায় বরাহমিহিরের শিষ্য বা অনুগামীগণ।

আজ যেখানে কুতুব মিনার দাঁড়িয়ে আছে, ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তার চারপাশে অনেক বিধ্বস্ত দালানকোঠা রয়েছে। পুরো অঞ্চলটা এককালে জ্যোর্তিবিদ চর্চার গবেষণার কেন্দ্র ছিল এবং বরাহমিহিরের অনুগামীরা সেখানে পঠনপাঠন এবং গবেষণা করত এবং কুতুব মিনার ছিল পর্যবেক্ষণ স্তম্ভ বা Observation Tower

সুলতান হয়ে দিল্লীতে পা দিয়েই কুতুবউদ্দীন বুতপরস্তির পরাকাষ্ঠা মন্দিরগুলি ধ্বংস করে। নিয়মমাফিক ভাঙ্গা মন্দিরের মাল মশলা দিয়ে কাছেই 'কুতুব-উল-ইসলাম' মসজিদ তৈরী করে, এই মসজিদের গায়ে কুতুবউদ্দীনের যে শিলালিপি আছে, তাতে এইসব ঘটনার কথা লেখা আছে। [The History and Culture of Indian People, R.C. Mazumdar]

John Marshall এবং আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের মতে, নামাজের আগে আজান দেওয়ার জন্যই কুতুবউদ্দীন এই মিনার তৈরী করেন। এই বক্তব্যের কোনও সঙ্গতি নেই, কারণ-

১) মসজিদ থেকে মিনারের যে দূরত্ব, আজান দেওয়ার জন্য এতদূরে কোনও মিনার কেউ তৈরী করেন না।

২) কুতুব মসজিদ বানিয়ে ছিলেন কিন্তু মিনার শেষ করতে পারেননি। অতএব আজানের জন্য মিনার এই যুক্তি টেকে না।

৩) মসজিদের থেকে মিনার অনেক মূল্যবান এবং আকর্ষণীয় হয় না। কুতুব-উল-ইসলাম মসজিদের চেয়ে কুতুব মিনার অনেক বেশী আকর্ষণীয় ও মূল্যবান।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হল- কুতুব উদ্দীনের এত বড় কীর্তির কথা তার সমসাময়িক ঐতিহাসিক হাসান নিজামীর লেখা তাজ-উল-মাসির এবং মিনহাস-উস-সিরাজের লেখা তাবাকৎ-ই-নাসিরিতে কোনও উল্লেখ নেই। কুতুব উদ্দীনের নামের সঙ্গে এই মিনার জুড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কুতুব উদ্দীনের মারা যাওয়ার ২০০ বছর পরে। শাসম-ই-সিরাজ নামক এক মুসলিম লিপিকার এই কান্ডটি ঘটান। (Islamic havoc in Indian History, P. N. Oak, A. Ghosh 5740 W. Little York, Houston Texas, U. S. A. Page-120)

পন্ডিত কেদারনাথ প্রভাকর দ্বারা সম্পাদিত 'বরাহ মিহির স্মৃতিগ্রন্থ' নামক বইতে কুতুব মিনারের প্রকৃত পরিচয় এবং আরও অনেক তথ্য আছে। এই বইয়ের ১৫৭ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য (৩৮০-৪১৩ খৃঃ) খৃষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে এই স্তম্ভের নির্মাণ করেন। সম্রাট বিক্রমাদিত্য নির্মিত যে লৌহস্তম্ভটি কুতুব মিনারের পাশে আছে, তার গায়ে সংস্কৃত ও ব্রাক্ষ্মী অক্ষরে লেখা একটি লিপি আছে। ঐ লিপিতে কুতুব মিনারকে বলা হয়েছে প্রপাংশু_বিষ্ণুধ্বজ।

এরকম ভারতীয় ইতিহাসকে ইসলামী করণের অজস্র প্রমাণ বর্তমান। (সংগৃহীত)


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.