Header Ads

সেবা প্রদত্ত সাম্প্রতিক ভাষা সার্কুলারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ইউথ ফ্রন্ট

শিলচরঃ সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের সচিব কতৃক একটি বিতর্কিত ভাষা সার্কুলার সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তর ও বিদ্যালয় প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী পয়লা এপ্রিল থেকে সব স্কুলের নবম শ্রেণি থেকে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অনঅসমিয়া সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেবার এই উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বরাক ডেমোক্রেটিক ইউথ ফ্রন্টের সদস্যরা।

সেবা সচিবের এই নির্দেশ আসাম ল্যাঙ্গুয়েজ আ্যক্ট ২০২১ অনুযায়ী সেবা নিয়ন্ত্রিত সব বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে সব ছাত্র ছাত্রী দের বাধ্যতামূলক ভাবে নবম শ্রেণি থেকে অসমিয়া পড়তে হবে। এবং মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও হয় এম আই এল অথবা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে অসমিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিডিএফ অস্থায়ী কার্যালয়ে এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিএফ যুব ফ্রন্টের মূখ্য আহ্বায়ক কল্পার্নব গুপ্ত বলেন যে বরাক উপত্যকা ও বড়োল্যান্ডে এই সার্কুলার প্রযোজ্য হবেনা বলে অনুমান করা হচ্ছে যদিও সার্কুলারের ভাষা থেকে তা সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়নি। এই ব্যাপারে সেবার তরফে অবিলম্বে স্পষ্টীকরণ দেবার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন যে যদিও যুব ফ্রন্ট মূলত বরাকের সমস্যা নিয়ে কাজ করছে , তবুও রাজ্যের সব জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার অধিকার সুরক্ষা তাদের সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য গুলিতে অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরো বলেন যে যদি বরাক উপত্যকায় এই সার্কুলার কার্যকরী নাও হয় তবুও বরাকের কোন ছাত্রছাত্রীকে যদি কোন কারণবশতঃ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় গিয়ে স্কুলে ভর্তি হতে হয় তবে তাদেরও সমস্যা হবে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র উপত্যাকায় বাঙালি সহ প্রচুর অনঅসমিয়া ভাষিক গোষ্ঠীর লোক রয়েছেন। তাদের অনেকে হয়তো স্বেচ্ছায় অসমিয়া নিয়ে পড়ছেন। কিন্তু জোর করে এই ধরনের মাতৃভাষায় পঠনপাঠনে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক । কারণ কেউ যদি অসমিয়া এম আই এল হিসেবে গ্রহন করে তবে তার মাধ্যম অসমিয়া হিসেবে বিবেচিত হবে অর্থাৎ সব বিষয়ের উত্তরপত্র তাকে অসমিয়াতেই লিখতে হবে। এবং কোন অনঅসমিয়া যদি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে অসমিয়া নেয় তবে সে অসমিয়া সহপাঠী দের মতো এডভান্স ম্যাথস্ বা সংস্কৃত ইত্যাদি বিষয় যেগুলোতে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব তা নিতে পারবেনা এবং যথারীতি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। কল্পার্নব বলেন যে এমন উদাহরণ ভুভারতে কোথাও আছে বলে তার জানা নেই এবং এসব করে একজন ছাত্রের মাতৃভাষায় শিক্ষা নেবার সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

বিডিএফ যুব ফ্রন্টের আরেক আহ্বায়ক ইকবাল নাসিম চৌধুরী বলেন যে ১৯৬১ এবং ১৯৮৬ তেও একই ভাবে ভাষা সার্কুলার চাপিয়ে রাজ্যের বাঙালি ও অন্যান্য ভাষিক গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ হয়েছিল এবং শহীদের রক্তে রাঙা হয়েছিল এই উপত্যাকা। তিনি বলেন এরপরও বোধোদয় হয়নি উগ্র জাতীয়তাবাদী দ্বারা প্রভাবিত দিশপুরের নেতা নেত্রীদের। আবার সেই একই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। যখন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সবাই ব্যস্ত সেই ফাঁকে চুপিসারে রাজ্যের বাঙালি সহ অন্যান্য অনঅসমিয়া ভাষিক গোষ্ঠীর কবর খোঁড়ার কাজে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে দুষ্ট চক্র।

যুবফ্রন্টের আহ্বায়ক অমিত কান্তি চৌধুরী বলেন যে যদি বরাক এবং যদি বোড়োল্যান্ডকে এই সার্কুলারের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে তবে তার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে যে যাতে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দানা না বাঁধে। তিনি বলেন বিডি এফ সব জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকারের পক্ষে এবং এটা মেনে নেবেনা।

যুবফ্রন্টের সব সদস্যরা এদিন বলেন যে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তারা বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যাকার সমস্ত সমমনস্ক সংগঠন কে সঙ্গে নিয়ে এই সার্কুলারের বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এক প্রেস বার্তায় জানিয়েছেন বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.