Header Ads

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে আমার পূর্বাভাস প্রসঙ্গে দু’চার কথা !!

মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে অত্যন্ত অস্বস্তির সঙ্গেই বলতে হচ্ছে--কেন তামিলনাড়ুতে একদিনে ভোট নেওয়া হয় আর পশ্চিমবঙ্গে কেন আটপর্বে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হয়। বঙ্গবাসী হিসেবে লজ্জিত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আজই বোমা বিস্ফোরণে বর্ধমানের রসিকপুরে একটি নিষ্পাপ শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং আর একটি নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে ! রাজ্যের যত্রতত্র অস্ত্রশস্ত্র বোমা পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশ হওয়ার পরেও ভোটপ্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচনী প্রচারে রীতিমতো বাধা পাচ্ছেন। গতকালই হাওড়ার ডোমজুড়ে রাজীব ব্যানার্জ্জীর মিছিলে যেভাবে বাধা দেওযার ছবি টিভিতে প্রচারিত হয়েছে তাতে নির্বাচন কমিশনের আট দফায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্তকে চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র বলাটা খুব সহজ হচ্ছে না। মাত্র চার দিন পরেই ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হবে। খেলা কিন্তু শুরু হয়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকেই। ‘খেলা হবে’ এবং ‘খেলা হবে?’ এই দু’রকমের দুটি বাক্যই যে মারাত্মক রকমের প্ররোচনামূলক তা কিন্তু স্পষ্ট হচ্ছে উদ্বেগজনকভাবেই। রীতিমতো হুমকির অনুরণন তৈরি করছে এই ‘খেলা হবে’ হুঙ্কারটি। জানি না, বাংলার মানুষ এই হুঙ্কার বা হুমকি উপেক্ষা করে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছুতে পারবে কিনা ! মৃত্যুহীন রক্তপাতহীন নির্বাচন বাংলার মানুষ কবে দেখবে? নির্বাচন কমিশন বিহারের মতো রাজ্যেও যদি মৃত্যুহীন রক্তপাতহীন নালিশ-অভিযোগহীন নির্বাচন করাতে পারে তাহলে বাংলায় পারে না কেন? মানুষ জানতে চাইছে।

যাইহোক, এবার আমার পূর্বাভাস প্রসঙ্গে আসা যাক। ইতিমধ্যে আমার ইনবক্সে বেশ কিছু বিচিত্র মন্তব্য এসেছে। প্রতিবারই আসে। এই সব মন্তব্য বা বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল--আমার রাজনৈতিক জ্ঞানগম্যির রেখাচিত্র বড্ড নিম্নমুখী। রাজনীতির বিশেষ কিছু আমি বুঝি না--তাই আমি এবারে বিজেপি’র প্রচারে প্রভাবিত হয়ে বিজেপিকে জিতিয়ে দিয়েছি ! কেউ কেউ ফোন করেও অনেক কথা বলেছেন। রাজনীতি নিয়ে লেখালেখি করেন, বক্তব্য রাখেন ভাষণ দেন এমন দু’একজন বিশিষ্ট বন্ধু বললেন, ‘আপনি মশাই অনেককেই বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছেন। টিএিমসিকে বিজেপি’র পিছনে রাখার কথা যখন কেউ ভাবছেই না--তখন আপনি আগেভাগেই বিজেপিকে এগিয়ে রেখে সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনি বিজেপি ১৫১-টি আসন পাবে বলে দেওযায় বেশ দুশ্চিন্তা তৈরি হয়ে গেছে সমীক্ষক মহলে। গত লোকসভা নির্বাচনে আপনার পূর্বাভাস হুবহু মিলে যাওয়ায় এবারে আপনার এই পূর্বাভাসকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারে--এই সম্ভাবনা অনেকের পক্ষেই দেখানো সম্ভব নয়--অথচ আপনার হিসেবের সঙ্গে কিছুটা হলেও কাছাকাছি যেতে হলে বিজেপি’র আসন কত কমানো যায়? ৩০-টা কমালেও তাদের দিতে হয় ১২১-টা এবং টিএমসি’র ৩০-টা বাড়িয়ে ১৪৮ করা যায় বটে--কিন্তু তেমনটা করলে হিসেবটাই যদি উল্টে যায় তাহলে তো লোকে ছেড়ে কথা বলবে না। পিকে’র হিসেব মেনে নিয়ে আপনি যদি বিজেপিকে ৮০ থেকে ৯৫-টা আসন দিতেন তাহলে টিএমসিকে ১৭০-টা দেওয়াতে কোনো বাধাই ছিল না। সংযুক্ত মোর্চা ও অন্যান্যদের জন্যে মোট ২৯-টা রাখা যেত ! মোটের ওপর আপনার পূর্বাভাসের কাছে হার মানাটাও তো সম্ভব নয় কারণ এ লাইনে আপনি কে মশাই?'
প্রসঙ্গতঃ আরও অনেক কথা হয়েছে এবং হচ্ছে। যদিও তাদের মতের সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করতে পারি নি বা পারছি না। ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচন থেকে ২০১৯-এর লোকসভা পর্যন্ত আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ভিত্তিক সমীক্ষা যারা সংবাদপত্র বা সামাজিক মাধ্যমে লক্ষ্য করে আসছেন তারা জানেন আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ থেকে নতমস্তক হয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করি না। বিগত কিছু নির্বাচনী ফলাফল, প্রাসঙ্গিক ইস্যু ও তার প্রেক্ষিতে ভোটরাজনীতির পরিবর্তিত সমীকরণ, সরকারি কাজকর্ম, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাজকর্ম ইত্যাদি বহুবিধ বিষয়কে সামনে রেখেই বিশ্লেষণ করি এবং একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছুনোর চেষ্টা করি। তাতে যে ফলাফলটা উঠে আসে সেটা যে কখনোই আরব্যরজনীর গল্প হয়ে ওঠে না সেটা আমি জোরের সঙ্গেই দাবি করতে পারি। পাশাপাশি আমি এটাও কখনো দাবি করি না যে, আমি দৈবশক্তিধর জ্যোতিষী--যা বলবো তা নির্ভুল হবে। ভুল হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট পরিমাণেই থাকে। শেষ মুহূর্তেও বহু মানুষ সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন। নির্বাচনী ফলাফলের যে পূর্বভাস আমি তৈরি করি একেবারেই ব্যক্তিগত প্রচষ্টায় করি শুধুমাত্র একটা ল্যাপটপ এবং কয়েক বছরের নথিপত্রের সাহায্যেই। রাজনীতি আমার পছন্দের বিষয় বলেই এটা নিয়ে আমি ভাবি এবং বহু সময় খরচ করি। তার জন্যে কোনো দল-গোষ্ঠী-ব্যক্তি-সংস্থা আমাকে কোনোরকম সাহায্য করে না--আমি চাইও না কারুর কাছে কোনোরকম সাহায্য। কারণ, সাহায্য নিলেই আমাকে যে ভাবেই হোক তাকে জিতিয়ে দিতে হবে ফলাফল প্রকাশের পর মুখ পোড়ার যথেষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও। আমি নিজের মুখ পোড়াতে চাই না।
আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণগুলো অনেকেই সাগ্রহে পড়েন, মতামত প্রকাশ করেন, অনেকে অপেক্ষা করেন--এটাই আমার বড় প্রাপ্তি। আমার হিসেবের সঙ্গে যাদের প্রত্যাশা মেলে না--যাদের পছন্দ হয় না--যারা ভেতরে ভেতরে রেগেও যান--তারাও কিন্তু আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন না। গালিগালাজও করেন না। দু’চারজন নিম্নমেধার দলদাস সব দলেই থাকে--তাদের কিছু কিছু অসভ্যতা সহ্য করতে হয়। সহ্যাতীত হলে তাদের বন্ধু তালিকা থেকে নিঃশব্দে সরে আসি।
আমি জানি, আমার পূর্বাভাস প্রশান্ত কিশোর বা উচ্চস্তরের সেফোলজিস্টদের হিসেবের সঙ্গে মিলবে না। কারণ, প্রশান্ত কিশোর তার পেশার দায়বদ্ধতার কারণেই দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতেই বিজেপিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন না--এটা তার চুক্তির শর্তের মধ্যে পড়ে না। অন্যদিকে চ্যানেল নির্ভর সেফোলজিস্টরা চ্যানেলের নিজস্ব পলিসি--কমার্শিয়াল ইন্টারেস্ট এবং তজ্জনিত দায়বদ্ধতাকে উড়িয়ে দিতে পারেন না। কারণ, এসবই পুরোপুরি বাণিজ্য নির্ভর দায়বদ্ধতার বিষয়--যা আমার বিষয় একেবারেই নয়। আমি এখনও বলছি--আমার পূর্বাভাস ১০০% মিলে যাবে এমন দাবি আমি করছি না। বরং বলতে পারি--শেষ মুহূর্তে বিজেপির প্রচার এবং জনসংযোগ কর্মসূচী যে চেহারা নিচ্ছে তাতে বিজেপি’র অনিশ্চয়তা বাড়ার বদলে কিছুটা হলেও কমছে। এখন যেসব পূর্বাভাস আসবে--বাস্তবিকই তার মধ্যে প্রচুর অসঙ্গতি পরস্পর বিরোধিতা এবং হিসেবের গড়মিল থাকা একেবারেই অসম্ভব নয়।
সম্পূর্ণ মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগণা, হাওড়া, হুগলী, নদিয়া এতদিন টিএিমসির গড় হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবারে কিন্তু এইসব জেলার যততত্র ফাটলের চিহ্ন প্রকট হতে চলেছে। দলের অপ্রত্যাশিত ভাঙন এবং প্রশান্ত কিশোরের অপরিপক্ক রাজনৈতিক স্টান্টবাজির প্রতিক্রিয়াই এর জন্যে দায়ি হতে চলেছে। পরে দলীয় বিচার বিশ্লেষণে এসব উঠে আসবে আশা করা যায় !!

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.