৭০ বছরের বাবুল আজ অবধি তৈরী করছেন মাটির বাসন
সুব্রত দাস, বদরপুর : একটা সময় মানুষের নিত্য দিনের কাজে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার থাকলেও বর্তমানে প্লাস্টিকের সামগ্রীর বাড়ায় মৃতপ্রায় কুমার শিল্প। সরকার সামান্য নজর দিলে এই শিল্প আবার জেগে উঠবে বলে আশা করছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটির পর আসে লোহাসহ বিভিন্ন ধাতব পাত্রের ব্যবহার আর বর্তমান সময়ে প্লাষ্টিক এইসব জিনিসের জায়গা দখল করে নিয়েছে। এরপরও মাটির বাসনপত্রের ব্যবহার হারিয়ে যায়নি। করিমগঞ্জ জেলায় বেশ কয়েক পরিবারের এখনো জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম মাটি দিয়ে সামগ্রী তৈরি করা। জানা গেছে,আগে তারা মাটির অনেক ধরণের সামগ্রী তৈরি করলেও এখন শুধু হাতে গোনা কয়েকটি সামগ্রী তৈরি করেন। করিমগঞ্জ জেলায় দত্তপুর কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল রুদ্র পাল,বয়স প্রায় ৭০ বছর। তিনি এখনও নিজ হাতে এই সব সামগ্রী তৈরি করেন বলে জানান। এই কাজ করেই ছেলে মেয়েদের মানুষ করেছেন। যদিও এখন আর নতুন প্রজন্ম এই কাজে আসতে চায় না,পরিশ্রম বেশি ও লাভ কম বলে। তিনি বলেন,শারীরিক ভাবে সক্ষম থাকাকালীন সময়ে যে পরিমাণ সামগ্রী তৈরি করতে পারতেন এখন আর সেই পরিমাণে তৈরি করতে পারেন না বলে জানান। তারপরও পেটের তাগিদে শারীরিক সমর্থে যতটুকু সম্ভব ততটুকু সামগ্রী তৈরি করেন প্রতিদিন। তবে উৎসবের মৌসুমে মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই দুর্গাপূজার সময় থেকে অগ্রহায়ণ মাসের হরিনাম সংকীর্ত্তন পর্যন্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। গ্রামের সুনাগরিকরা জানান,সরকার যদি তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিত,বিশেষ করে সরকারি অনুষ্ঠানে থার্মোকলসহ কাগজ ও প্লাষ্টির প্লেট,গ্লাসের পরিবর্তে মাটির থালা বা গ্লাস ব্যবহার করতো তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের জীবনে স্বচ্ছলতা ফিরে আসতো।









কোন মন্তব্য নেই