শিলচর আসনে নির্দল প্রার্থী অনুপ দত্তের নির্বাচনী ঘোষণাপত্র
ছবি : নির্দল প্রার্থী অনুপ দত্তকে দেখা যাচ্ছে বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ কবীন্দ্র পুরোকায়স্থয়ের আশীর্বাদ নিতে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআরসি চলছে সেটার অপব্যবহার করা হচ্ছে।অসমের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বাঙ্গালিদের কাছে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে জেলে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সমস্ত নির্যাতন থেকে রেহাই দেওয়া সম্ভব। আমি নির্বাচিত হলে এই বিষয়ে সচেষ্ট হব। 2014 সাল থেকে 2018 সাল পর্যন্ত আমি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে নাগরিকত্ব আইনের জন্য সংগ্রাম করেছি । নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে যৌথ সংসদীয় দল শিলচর এসেছিল সেই দলের সামনে আমি এই আইনের সমর্থনে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলাম। 2018 সালে নাগরিকত্ব আইনের দাবিতে নেলেক নাম দিয়ে যে সংগঠন তৈরি হয়েছিল সেই সংগঠন তৈরিতে আমার একটা মুখ্য ভূমিকা ছিল। নেলেকের ব্যানারে বিশাল আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে নাগরিকত্ব আইন সংসদে দ্রুত পাস হয়।
একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে বিভিন্ন সংগঠনের সাহায্য নিয়ে গণতান্ত্রিক দাবি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা আন্দোলন করেছি। এই আন্দোলনের ফলে আমরা নাগরিকত্বের সুনিশ্চয়তা অর্জন করতে পেরেছি। কিন্তু অতি দুঃখের কথা নাগরিকত্বের এই সংগ্রামে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা ন্যাক্কারজনক ভূমিকা নিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগই নেননি। অথচ তারা নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তবে জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য ছাড়াই নাগরিকত্ব আইন অর্জন করতে আমাদের এই সম্মিলিত প্রয়াস সাফল্য লাভ করেছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ বিধায়ক সাংসদরা এরপরও তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। নাগরিকত্ব আইন কিভাবে বাস্তবের মাটিতে প্রয়োগ করা যায় সেই বিষয়ে তারা কোন ধরনের উদ্যোগ নেননি। এমনকি এই বিষয়টি নিয়ে দিসপুরে তারা টু-শব্দটি পর্যন্ত করেননি। এখনও অখন্ড ভারতের এইসব নাগরিকরা বিনা অপরাধে ভারতের জেলে আটক রয়েছেন। অথচ তারা নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারেন।আর যাতে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে যাতে না হয় সেটা সুনিশ্চিত হতে পারত। কিন্তু আমাদের বিধায়ক ও সংসদরা এ ধরনের কোনো উদ্যোগই নেননি। আমি প্রতিজ্ঞা করছি আমি যদি শিলচর আসন থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত হই তাহলে ডিটেনশন ক্যাম্পে যাতে কোন বাঙালি বন্দী না থাকে তার জন্য উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদে সোচ্চার হব। এই বিষয়ে আগামী নির্বাচনে আপনাদের সাহায্য একান্ত কাম্য। মানুষের সাধারণ মানবাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে আমি বিধানসভায় আমার দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
প্রতিশ্রুতি ২
আমাদের বরাক উপত্যকার সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। মহাসড়কে বালাছড়া থেকে হারাঙাজাও পর্যন্ত যে 30 কিলোমিটার রাস্তার কাজ এখনও ঝুলে আছে এটা দুঃখজনক ঘটনা। বালাছড়া থেকে হারেঙ্গাযাও পর্যন্ত 30 কিলোমিটার হলো সোনার হাঁসের ডিম। এই কাজ দেখিয়ে প্রতিবছর টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি বিধায়ক হলে অবশ্যই সচেষ্ট হতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
প্রতিশ্রুতি ৩
বরাক উপত্যকায় নিযুক্তির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। এখানে লক্ষ লক্ষ বেকার যুবতী রয়েছেন।কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাইরে থেকে এনে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে নিযুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোন অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না। আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো আমাদের সাংসদ বলেছেন বরাক উপত্যকার ছেলেমেয়েদের নাকি সেই ধরনের প্রতিভা নেই। তাই তারা চাকরি পাচ্ছে না। ধরনের মনোভাব যদি জনপ্রতিনিধির হয় তাহলে সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে এই বিষয়ে অবশ্যই একটা সমাধান সূত্র বের করব। বরাক উপত্যকায় বাইরে থেকে নিযুক্তি বন্ধ করব একজন বিধায়ক হিসেবে। বরাকে নিযুক্তি হয়নি এ বিষয়ে আমার কাছে অনেক তথ্য আছে। সাংসদের এই ধরনের মন্তব্য একটা মিথ্যাচার। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে এই বিষয়ে আমার কন্ঠ সরব থাকবে।
প্রতিশ্রুতি ৪
কোন ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটলে এর থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় শিলচর মেডিকেল কলেজে নেই। এখানে নিউরোসার্জন নেই। রাস্তাতেই অনেক লোকের মৃত্যু ঘটে। আমি বিধায়ক হলে এই বিষয়ে সচেষ্ট হব এবং শিলচর মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জন আনার ব্যাপারে সচেষ্ট হব। এইএমসের মানের চিকিৎসা সেবা যাতে শিলচর মেডিকেল কলেজে পাওয়া যায় সেই বিষয়ে আমি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। বরাক উপত্যকার চিকিৎসাসেবার পরিকাঠামোর অবস্থা এখন কঙ্কালসার । করোনার সংকটের সময়ে এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি। দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল মানুষের সঙ্গে। অথচ জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন হাসপাতাল কোন ফাইভ স্টার হোটেল নয়।প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে কতটুকু অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় সেটা বরাকের মানুষ ভালই জানেন। এরকারণ হচ্ছে চিকিৎসার চরম অব্যবস্থা।এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আমি সচেষ্ট থাকব এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
প্রতিশ্রুতি ৫
বরাকে যে সিন্ডিকেট চলছে তার বিরুদ্ধে আমার কণ্ঠস্বর উচ্চে থাকবে । কয়লা সুপারি ও পুস্তো নিয়ে সিন্ডিকেট চলছে সেটা বন্ধ হতে হবে। কোন বিনিয়োগ ছাড়াই রাজনৈতির কারবারিরা এই দালালির ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে।এ বিষয়ে কোন কোন নেতা জড়িত রয়েছেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আমি উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সহ প্রকাশ করব প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে।
প্রতিশ্রুতি ৬
প্রতিবছর শিলচরের মিনি বন্যা হয় । কারণ জমা জল।আমি অনুধাবন করে দেখেছি শিলচরে যে জমা জলের সমস্যা এটার জন্য দায়ী রাঙ্গিখালের সঞ্জয় মার্কেটের সামনের কালভার্ট। এ ক্যালভার্ট একদিকে 16 ফুট আর অন্যদিকে তিন ফুট। এটা কিভাবে সম্ভব হয়। একদিকে 3 ফুট থেকে জল বের হতে পারে না যার ফলে সারা শহরে জল জমে যায়। আর রাঙ্গিখাল হল শিলচর শহরে জল নিষ্কাশনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এ বিষয়ে উপযুক্ত তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া খাস জমিকে কিভাবে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হল সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। শিলচরের জনগণের স্বার্থে এই বিষয়ে আমি সোচ্চার হব এটাও আমার একটা বড় প্রতিশ্রুতি।
প্রতিশ্রুতি ৭
অসমের দুই উপত্যকার বাঙালি জাতিসত্ত্বার একটা সেতুবন্ধন তৈরি হওয়া উচিত।কোন হিন্দু মুসলমান নয় ,বাঙালি জাতিসত্ত্বার ভিত্তিতে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 1947,1971,ও1985 সালে বাঙালি তার সাংবিধানিক অধিকার পেতে ব্যর্থ হয়। সাংবিধানিকভাবে বাঙালি এই অধিকার পাওয়ার যোগ্য।এটা যদি হয় যেতো তাহলে বাঙালি জাতিসত্তা আরো শক্তিশালী হত ভারতবর্ষে।
প্রতিশ্রুতি ৮
শিলচর শহরের সবুজকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে সেটা আমি প্রতিরোধ করব। কোন টেন্ডার ছাড়াই গান্ধী বাগ যেভাবে বিক্রি করার চেষ্টা করা হয়েছে সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সবুজায়নকে ধ্বংস করে কংক্রিট জঙ্গল তৈরি করার প্রয়াস প্রতিরোধ করতে হবে। শহরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা ও বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়টা আন্দোলন করে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করেছেন। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি তদন্ত করে জানতে পেরেছে যে কোন টেন্ডার ছাড়াই একটি বিশেষ নির্মাণ সংস্থা কে গান্ধী বাগ পার্কের বরাত দেওয়া হয়েছে । শহরের বরিষ্ঠ নাগরিক ও শিশুদের একমাত্র এটাই ছিল বিচরণ ভূমি। সেটাকে ধ্বংস করার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমি বিধায়ক হলে এই প্রচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলাম।
প্রতিশ্রুতি ৯
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাদরি সেতুর অ্যাপ্রচ। এ সেতু হয়ে গেলে শিলচর শহরের উপর যানজট অনেকটাই কমে যাবে। দীর্ঘ দিন থেকে থেকে এই কাজটি হচ্ছে না। এ কাজ যাতে দ্রুত হয় সেই চেষ্টা আমি করব। সোনাবাড়িঘাটে বাইপাসের যে সেতুটি হওয়ার কথা সেটিও কোন খোঁজখবর নেই । 2017 সালে বাইপাসের কাজ শেষ হবে বলে মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত এই কাজ শেষ হয়নি। শিলচরে একটা ফ্লাইওভার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি পালন হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিশ্রুতির শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। একজন প্রতিনিধি শিলচর বাসীকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, শিলচরের মানুষ নাকি স্মার্ট সিটি হওয়ার মত স্মার্ট হয়ে উঠতে পারেনি। তবে আমি বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথকে ধন্যবাদ জানাই কার প্রচেষ্টায় গত 70 বছর থেকে যে কাজটি হচ্ছিল না সেটি হয়েছে। বরাকে দুধপাতিলে অন্নপূর্ণাঘাটে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে দেখা গেছে অনেক সময় কাজ শুরু শুরু হয় ঠিকই কিন্তু কাজ আরে এগোয় না। এই সেতুর কাজ যাতে তাড়াতাড়ি হয় সেদিকে আমার কড়া নজর থাকবে।
এছাড়া, বরাকের শিববাড়ি রোডে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কেন এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না এটাও একটা বড় প্রশ্ন। এখানে অতি নিম্নমানের কাজ হয়েছে। বহু কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ বিষয়ে যকোনো সিদ্ধান্ত না হয় সেই চেষ্টা আমি করব। স্থানীয় মানুষরা এখানে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে ন। তাদের আমি শ্রদ্ধা জানাই।
শিলচর বিধানসভা এলাকার এই জ্বলন্ত সমস্যা গুলি নিরসনে আমি সবসময় সোচ্চার হয়ে থাকবো এই প্রতিশ্রুতি আপনাদের কাছে রাখলাম।আপনারা যদি মনে করেন আমাকে দায়িত্ব দিতে চান তাহলে অবশ্যই আমাকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শিলচর আসনে কলমের নিব প্রতীক চিহ্নেঞ্জ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। শিলচরের ছেলে হিসাবে আমি এই সমস্যাগুলি সমাধানের প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়ে থাকলাম।
[ঘোষণাপত্রে নিজস্ব মতামত সম্বলিত দাবিগুলো জন্য দায়বদ্ধতা একমাত্র প্রার্থীর, আর কারো নয়।]









কোন মন্তব্য নেই