Header Ads

বিজেপি চূড়ান্ত অন্যায় করলো : কবিন্দ্র পুরকায়স্থ



অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : বিজেপি নির্বাচনে টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অন্যায় করেছে।  অসমে বিজেপির অন্যতম স্থপতি   কবিন্দ্র  পুরকায়স্থ  শনিবার এই প্রতিবেদক কে এক টেলিফোনে এই হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি তার জীবনের শেষ ইচ্ছা পুত্র কনাদ কে শিলচর কেন্দ্র টিকিট দিতে চেয়ে  ছিলেন,মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনওয়াল  তার সঙ্গে দেখা করে পা ছুঁয়ে টিকিট দেওয়ার আশ্বাস ও দিয়েছিলেন ,অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলে ছিলেন ,চিন্তা করবেন না টিকিট পাবে। আর আজ কি হল! প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী  বরাকের   বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ,ধৃষ্টরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত,বিজেপি দলের শত অন্যায় দেখেও টু শব্দটি করতেন না,আজ তার  দলের প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে। তিনি বলেন আর নয় এবার তিনি মুখ  খুলবেন।কাল রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সব বলবো।  অসমে বিজেপি র ইতিহাস তুলে ধরবেন। কবিন্দ বাবু বলেন 1991 সালে  বরাক থেকে 9 জন,এবং ধুবরী থেকে 1জন বিজেপি বিধায়ক হয়েছিলেন তারই চেষ্টার ফলে।  বরাকের   মিশন রঞ্জন দাস অন্যতম বিধায়ক ছিলেন ।তাকেও টিকিট দেওয়া হল না।  কবিন্দ বাবু বলেন  1991 সালে সমরেন্দ্র সেন কে বঞ্চিত করে বিমলাংশু রায় কে টিকিট   পাইয়ে দিয়েছিলাম।আজ তার পুত্র ডাক্তার রাজদীপ রায় প্রতিদান দিলেন। তাকে সাংসদ পদে জেতাতে রাত দিন পরিশ্রম করে ছিলাম।আজ তার বিরোধিতা করলেন।তার পুত্র কে টিকিট দেওয়া হলো না।  বলেন শুধু বরাকে নয়,সারা অসমে বিজেপি র গোড়া পত্তন করেছিলেন তিনি।  গুয়াহাটি র আদিবাসিন্দা  মোহিতোষ  রায় প্রথম জনসংঘ সদস্য ছিলেন। তার ভাই প্রানতোষ রায়   প্রথম থেকে  সংঘ পরিবারের সঙ্গে আছেন তাকেও টিকিট দেওয়া হল না।  বিজেপি   দলকে যারা অসমে জন্ম দিল  তাদের  গুরুত্ব দেওয়া হল না।  সব কিছুতেই পরিবর্তন হল বলে কবীন্দ্র পুরকায়স্থ  হতাশার সুরে   মন্তব্য করেন। কাল তিনি কি বলেন  তার দিকে সবার দৃষ্টি।      আজ বরাক থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ায় খবর পাওয়া গেল, বরাকে কয়লা, সুপারি,সার, প্রভৃতি সিন্ডিকেট নিয়ে কোটি কোটি টাকার  দুর্নীতির অভিযোগ যার বিরুদ্ধে  সেই  কৌশিক রাই কে  লক্ষীপুর থেকে টিকিট দেওয়া হল।তাকে সমর্থন করলেন  সৎ ভাবমূর্তির স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবার     সাংসদ ডাক্তার রাজদীপ রায় ,  সিলচরের বিধায়ক দিলীপ পাল  বিধানসভার উপাধ্যক্ষ থাকার সময় বরাকের সিন্ডিকেট রাজ এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে মুখ  খুলে ছিলেন,তার দলের কয়েকজনের নাম পর্যন্ত দিয়ে ছিলেন।কৌশিক রাই দিকে আঙ্গুল ও তুলে ছিলেন তাকে টিকিট দেওয়া হল না।  সবথেকে বেশি অন্যায় করা হল রাজদীপ গোয়ালার প্রতি, সে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি দলে যোগ দিলেন।তিনি এআই ইউ ডি এফের সমর্থনে এবার  সহজেই বিধায়ক হতে পারতেন।সেই সুযোগ হাতছাড়া হল।     এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মাত্র  অর্ধেক  বাঙালি হিন্দু প্রতিনিধি কে টিকিট দেওয়া হয়েছে।লামডিং  এর  শিবু মিশ্র ,তিনি বাঙালি প্রতিনিধি নন।  বিজেপি র ভাষাতে তিনি বহিরাগত।   মুসলিম  লবি আপত্তি করায় হজাই শিলাদিত্য দেবের টিকিট ঝুলে আছে।বাঙালি হিন্দু মুসলিম দের  জায়গা বিধানসভা তে নয়, ডিটেনশন ক্যাম্প আর ডি ভোটারের  অন্ধ কূপে।এপর্যন্ত 11 জনের কোনো সিধান্ত হয় নি।    বরাকের কাটিগরা থেকে প্রাক্তন  কংগ্রেস মন্ত্রী  গৌতম রায় কে বিজেপি টিকিট দিল যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির  অভিযোগের কোন সীমা পরিসীমা নেই। যার ভাষা  সংসদীয়   গণতান্ত্রিক   পরম্পরার মধ্যে পড়ে না। বিজেপি সেই সব অগণতান্ত্রিক     শিষ্টাচার হীন মানুষদের এনে বিজেপি তে  ভড়তে চাইছেন, তাকেই সম্ভবত  পরিবর্তন বলতে  চাইলেন রাজ্যের বিশিষ্ট বিজেপি  নেতা কবিন্দ্র পুরকায়স্থ।   দু দু বারের মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মহন্ত কে টিকিট না দিয়ে বিজেপি অগপ  জাতীয় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। মহন্ত কে সারা দেশ জানে। কনিষ্ঠতম মুখ্যমন্ত্রী  অসম চুক্তির  অন্যতম পুরোধা,  ভালো মন্দ যাই হোক না কেন,চেন্নাই থেকে কাশ্মীর সবাই এক ডাকে চেনেন।   হায়দ্রাবাদে গিয়ে দেখলাম   সবাই জানে মহন্ত কে।এখন কে আছে ?    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈ এর পর রাষ্ট্রিয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করার আর কে আছেন? 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.