হোমেন বরগোহাইঞির ছোট গল্প 'হাতি'
মূল অসমিয়া : হোমেন
বরগোহাঞি
অনুবাদ: শেলী
দত্ত
আষাঢ় মাসের
এক বিকেলে
বলরাম বুড়ো
খালি গায়ে
বারান্দাতে ঠাণ্ডা
বাতাসে মাথা
নামিয়ে বসে
রয়েছিলেন।
তাঁর বয়স চার কুড়ি
পেরিয়ে গেছে,
চোখ কানের
শক্তি প্রায়
কমে এসেছে। কিছু
একটা কথা
বলতে হলে
কানের কাছে
গিয়ে চেঁচিয়ে
বলতে হয়। কাজেই
নিতান্ত প্রয়োজন
না হলে
কেউ তাঁর
সঙ্গে কথা
বলেন না। সেজন্য বুড়ো মনে
মনে নিজেকে
অবহেলিত বলেই
মনে করেন। তাঁর
মুখে সব
সময় একটা
অভিমানের ভাব
লেগেই থাকে। সন্ধ্যাবেলায়
অন্ধকারের মধ্যে
এক নির্বাক
গাছের গুড়ির
মতো তাঁকে
বসে থাকতে
দেখে বড়
বৌমার হয়তো
বা সামান্য
খারাপ লাগল,
কাছে এসে
সে ডাক
দিল,“বাবা,রাত হল যে,ঘরের ভিতরে আসছেন
না কেন?”
বৌমার কী
বলছে, ভালো
করে বুঝতেই
পারলেন না,
তিনি চটে
গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, “হয়েছেটা
কী? কানের
সামনে এমন
চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে
কীসব বলাবলি
করছ ? আমাকে
কালা বলে
ভেবেছ নাকি?”
তিনি যে
সত্যিই ততটাও
কালা নন
হাতেনাতেই তার
প্রমাণ বেরুল। হঠাৎ
আবার বলে
উঠলেন, “কে
রে ওটা?
রাতিয়া বুঝি?”
অন্ধকারে ছেলে
বৌও রাতিয়াকে
ভালো করে
চিনতে পারেনি,
কিন্তু বুড়ো
তার পায়ে
হাঁটার শব্দেই
তাকে চিনে
নিলেন।
কানের সামনে
ঢোল বাজাতে
থাকলেও যে
বুড়ো শুনতে
পান না,
তিনি যে
কী করে
রাতিয়ার পায়ের
শব্দ ঠিক
বুঝে নেন
--- তা পুরো
পরিবারের কাছেই
এক পরম
বিস্ময় ।
বুড়োর কোন
প্রশ্নের উত্তর
দেওয়ার স্বভাব
রাতিয়ার নেই। তাঁর
শরীরের কাছ
দিয়েই গম
গমিয়ে ভেতরে
ঢুকে গেল
সে।
রাতিয়ার হয়ে
বুড়োর প্রশ্নের
উত্তর দিল
বাপধন নিজে। শুঁড়টি মেলে সে
বুড়োর কপাল
স্পর্শ করল। বাপধনের
সেই চিরপরিচিত
স্নেহের ছোঁয়াতে
বুড়োর কঙ্কালসার
দেহ আনখশির
এক অদ্ভুত
আবেগে শিহরিত
হয়ে উঠল। হারানো
মাণিক হাতের
কাছে পেলে
মানুষ যেভাবে
তাকে খামচে
ধরে, ঠিক
সেরকম বুড়ো
শুঁড়টি আঁকড়ে
ধরে পরম
আবেগে হাত
বুলোতে লাগলেন,
যেন বহুদিন
পর বাড়ি
ফেরত ছেলেকে
কাছে পেয়ে
আদর করছেন।পুত্রবধূ বুঝলেন
যে বুড়ো
আর সহজে ভেতরে উঠে
আসবেন না
, কেন না
তিনি শুরু
করবেন বাপধনের
সঙ্গে তার
নানান সুখ-দুঃখের বার্তালাপ।
কৌতুকের হাসি
একটা মুখে
এনে বউ
নিজের ঘরে
চলে গেল। বুড়ো
বাপধনের শুঁড়ে
হাত বুলিয়ে
বুলিয়ে বলতে
শুরু করলেন,“ইস! তোর শরীরে
ঘা হল
কী করে
? রাতিয়া তো
কম পাষণ্ড
নয়! সে
নিশ্চয়ই তোকে
কোন কাঁটার
জঙ্গলের মাঝে
নিয়ে গিয়ে
ঢুকেছিল।
তাকে আমি
এত করে
বললাম বাপধনের
শরীর খুব
একটা ভালো
নয়, এই
কদিন তাকে
জঙ্গলে নেওয়ার
দরকার নেই। কিন্তু
আমার কথা
কে আর
কানে তুলে!
সবগুলো মিলে
এই ষড়যন্ত্র
করেছে।
এমন নেমকহারাম মানুষ আমি আর
দেখিনি।………বাবু, বাবু… ও
আমার বাপধন ...!”
বুড়োর
মুখের কথা
বন্ধ হয়ে
এল, কিন্তু
হাতের ছোঁয়ার
বাণী-বিহীন
ভাষায় আরো
বহুক্ষণ বাপধনের
সঙ্গে তাঁর
কথাবার্তা চলল।
কিছুসময় পর
হেডলাইটের তীব্র
আলোয় পুরো
উঠোন আলোকিত
করে পৌঁছুল এক মোটরগাড়ি। বাড়ির
দুয়ারে এসে
দাঁড়াল।
অন্ধকারে নিবিড়
মিলন সম্ভাষণে
মগ্ন অবস্থাতে
হাতে নাতে
ধরা পড়ে
যাওয়া প্রণয়ী-যুগলের মতো বুড়ো
আর বাপধন
দুজনেই অত্যন্ত
সংকুচিত হয়ে
মোটরগাড়িটির দিকে ফিরে তাকালেন,
তারপর যেন
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে
দুজনে আড়ষ্ট
হয়ে বসে
রইলেন।
মোটরের হেডলাইট
নিভে গেল। গাড়ি
থেকে নেমে
এল বড়ছেলে
। উঠোনে
দাঁড়িয়েই সে
ড্রাইভারকে হুকুম
দিল, “হরিচরণ,
গাড়িটি পরিষ্কার
না করে
তুই পালিয়ে
যাস না
যেন।
অনেক কাদা
লেগেছে।
ইস! কী
জঘন্য রাস্তা!
এমন জানলে গাড়িটি কখনোই
নিয়ে যেতাম
না।”
ড্রাইভারকে কথাগুলো
বলে বড়ছেলে
বাবার সামনে
এসে কিছুক্ষণ
দাঁড়াল।
অন্ধকারে বুড়ো
ছেলের মুখটি
দেখেননি, যদি
দেখতেন তাহলে
ছেলের মুখের
কঠিন বিদ্রূপের
হাসি দেখে
তাঁর রক্ত
গরম হয়ে
যেত।
তখনও বাপধনের
শুঁড়টি হাতে
ধরে রেখেছেন
তিনি।
হঠাৎ অনুভব
করলেন বড়ছেলের
উপস্থিতিতে বাপধনের
পুরো শরীর
যেন কোঁচকে
গেছে।
তার প্রতি
সহানুভূতিতে বুড়োর
হৃদয় বিগলিত
হয়ে পড়ল।বাপধনকে যে ছেলেরা
তাচ্ছিল্য আর
অনুকম্পার দৃষ্টিতে
দেখে একথা
সেও যেন
ধীরে ধীরে
অনুভব করতে
পারছে।
অন্তরের সমস্ত
আবেগ এবং
মমতা ঢেলে
দিয়ে তিনি
আবার বাপধনের শুঁড়ে হাত
বুলোতে লাগলেন ।
বড়ছেলে
তার বাবা
এবং বাপধনের
প্রণয়লীলা উপভোগ
করে কিছু
সময় চুপচাপ
রইল।তারপর সে
হঠাৎ বলে
উঠল, “বাবা,
সংসারে অনেক
ধরনের পাগল
আছে, কিন্তু
একটা জানোয়ারের
জন্য যে
মানুষ কতটা
পাগল হতে
পারে তোমাকে
না দেখলে
একথা কেউ
বিশ্বাস করবে
না।
তোমাকে আর
এক সপ্তাহ
সময় দিলাম;
এই কদিনে
বাপধনকে যত পারো আদর
করে নাও। তারপর
কিন্তু আর
…. ।”
বড়ছেলের
মুখের কথাগুলো
শেষ হতে
পারলই না,
প্রচণ্ড রাগে
বুড়ো গর্জে
উঠলেন, “তারপর!
তারপর কী
হবে? বলছ
না কেন
তারপর কী
হবে?”
চোখে না দেখলেও
ছেলে স্পষ্ট
অনুভব করল
যে রাগে
বাবার শরীর
ঠকঠক করে
কাঁপছে।
তাঁকে আরও
রাগানো ঠিক
হবে কি
হবে না
সেই কথা
খানিকক্ষণ সে
মনে মনে
ভাবল।
তার পরে
আগের থেকে
স্বর নামিয়ে
বলল, “আর
এক সপ্তাহ
পরে হয়
হাতিটি বিক্রি
করতে হবে,
নয় তাকে
কাজ করতে
সদিয়া পাঠিয়ে
দিতে হবে। এই
দুয়ের মধ্যে
তোমার যেটি
পছন্দ তাই
করব।
আমি সব
বন্দোবস্ত করে
ফেলেছি।”
কথাটি বলেই বুড়োর
জবাবের অপেক্ষা
না করেই
সে বাড়ির
ভেতর ঢুকে
গেল।
এক
মুহূর্তকাল বৃদ্ধ
স্তব্ধ হয়ে
রইলেন, তারপর
গোটা বাড়ি
কাঁপিয়ে তিনি
গর্জে উঠলেন,“কী বললি? কী
বললি পাষণ্ড
? বাপধনকে বিক্রি
করবি,নইলে
কাঠ টানতে
সদিয়া পাঠাবি? আমি কি
মরে গেছি
বলে ভেবেছিস?
হে ভগবান!
এই নরাধমগুলোর
শরীরে কি
ভূত চেপেছে?
গ্রামে গ্রামে
পাকা রাস্তার
উপর মোটর
দৌড়াতে পেয়ে
তোদের চোখে
আজ বাপধনের
কোন মূল্য
রইল না?
দেশের মানুষ জানে মেধির
ঘরের লক্ষ্মী,বাপধন ঘরে ঢোকার
সঙ্গে সঙ্গে
মেধির বাড়ির
কপাল ফুলেছে,
আজ সেই
বাপধন তোদের
চোখে এক
খাবার-পাগল
কুকুরের চেয়েও
হীন হয়ে
গেল? সে
ঘরে এলে
আমি তাকে
সামান্য আদর
করি,তা
দেখে তাদের
কী ঠাট্টা-মস্করা। তুইও দেখছি বাড়িতে
এসে প্রথমে
তোর মোটরটির
হাত-পা
ধোবার খবর
করিস? জীবিত
প্রাণীর থেকেও
কলকব্জাগুলোই আজ
তোদের কাছে
দেবতা হল?
তরুণ বয়সের
গরম রক্তে
তোরা আজ
গায়ের জোরে
বাপধনকে দাম
দিতে চাইছিস
না? থাক,দিতে হবে না।কিন্তু তাই বলে
তাকে বিক্রি
করবি বা
কুলির কাজে
লাগাবি -- তোদের কী এক্তিয়ার
আছে? সাবধান!
আমি জীবিত
থাকতে তা
কখনোই সম্ভব
হবে না।”
বেশ
কিছুক্ষণ বুড়ো
তাঁর ছেলেদের
সাবধান বাণী
শুনিয়ে গেলেন।
বাপধনকে কেন্দ্র
করে পিতা-পুত্রের ঝগড়া বেশ
কিছুদিন ধরেই
বলরামবুড়ার বাড়ির
নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায়
পরিণত হয়েছে। ঝগড়ার
কারণ বলতে
গেলে অতি
সামান্য।
বলরাম বুড়োর
যৌবন কালে
অর্থাৎ আজ
থেকে প্রায়
তিন কুড়ি
বছর আগে,
আজকের মত
পাকা রাস্তাও
ছিল না,
মোটরগাড়িও ছিল
না।একমাত্র হাতি-ঘোড়াই সেই সময়ের
গ্রামে গঞ্জের
অভিজাত বাহন বলে বিবেচিত
হত।
বলরাম মেধি
তখন পঁচিশ
বছরের সফল
যুবক, সেই
সময় তিনি
হঠাৎ একদিন
আবিষ্কার করলেন
যে ধনে
ধানে জমি-বাড়িতে তাঁর বাড়ির
অবস্থা এই
মৌজার মধ্যে
সবচেয়ে নজর
কাড়া হয়ে
উঠেছে,সেই
সময় বাড়ির
মুখে একটি
দাঁতাল হাতি
বাঁধতে পারলেই
তাঁর আভিজাত্যের
গরিমার ষোলকলা
পূর্ণ হয়। কথাটা
মনে আসার
সঙ্গে সঙ্গেই
চার কুঠুরির
ভাঁড়ার বিক্রি করে তিনি
একটা হাতি
কিনে আনলেন,
আর সস্নেহে
তার নাম
রাখলেন বাপধন । সেদিন
থেকেই বাপধন
তাঁর হৃদয়ে
বড়পুত্রের আসন
পেয়ে এসেছে।কারণ সে তো
কেবল একটা
হাতি নয়,
কেবল আভিজাত্য
প্রকাশের বাহনও
নয়, সে
যে তাঁর
জীবনের সাফল্যের
প্রতীক।
বাপধনকে তিনি
কোনদিনই ভারবাহী
পশু হিসেবে
ব্যবহার করেননি,
তাঁর কাছে
সে হচ্ছে
মেধি পরিবারের
এক মূল্যবান
অলঙ্কার।
একবার জেলার
ইংরেজ বড়
সাহেব মৌজাতে
আসবেন বলে
তাঁকে সম্মানের
সঙ্গে নিয়ে
আসতে একটি
দর্শনীয় হাতির
দরকার হল। মৌজার
পাঁচটা হাতির
ভেতর বেছে
বেছে বাপধনকেই
ঠিক করা
হল।বড় সাহেব
বাপধনের পিঠে
চড়ে এই
মৌজা থেকে
যাবার সময়
বলরাম মেধির
সামনে বাপধনের
সে কী
প্রশংসা করেছিলেন,
সেই কথা
মনে পড়লে
আজও বুড়ার
হৃদয় রোমাঞ্চিত
হয়ে ওঠে। শত্রুর
মুখে ছাই
দিয়ে বাপধন
সেদিন মেধির
বাড়িতে এনে
দিয়েছিল অভাবনীয়
প্রতিপত্তি আর
সম্মান।
কারণ এই
কথা সকলেই
জানে যে
‘রাজা ভালো
দেখে যার
ভেট লাগে
না তার'।
ধীরে ধীরে
বলরাম মেধির
বাড়ির অবস্থার
আরও উন্নত
হতে থাকল,
সাতটি পুত্র
আর তিনটি
কন্যা সন্তানে
বাড়ি ভরে
পড়ল,জেলার
বড় বড়
মানুষ,হাকিম
অফিসার সবাই
বুড়োর বাড়িতে
এসে থাকতে
লাগলেন-- এসব দেখেশুনে মানুষ
বলাবলি করতে
লাগল এবং
বলরামেরও বিশ্বাস
হতে শুরু
করল যে
বাপধনের জন্য
এই সকল
সম্ভব হয়েছে। বাপধনই
মেধি বাড়ির
লক্ষ্মী।বাপধনকে তিনি
নয়নের মণি
রূপে জ্ঞান
করতে করতে
লাগলেন, নিজে
সবসময় সামনে
থেকে তাকে
স্নান করিয়ে
দেন ,যত্ন
করে খাওয়ান,
সন্ধ্যাবেলায় সে
বাড়িতে ঢোকার
সঙ্গে সঙ্গে
তিনি এমনভাবে
তার পায়ে
মাথাতে হাত
বুলিয়ে আদর
করে কথা
বলেন যে,
লোকে শুনলে
ভাববে বহুদিন
পর তার
হারিয়ে যাওয়া
ছেলে একটাকেই
ফেরত পেয়েছেন
যেন।
আসলে একটি
ছেলের থেকে
বাপধনের মূল্য
তাঁর চোখে
কোনও গুণে
কম নয়। কারণ,
সে কেবল
একটি হাতি
নয়, কেবল
একটি অভিজাত
বাহনই নয়,
সে যে
তাঁর জীবনের
সাফল্যের প্রতীক।
ধনী মহাজন এবং
কৃষকের বাড়ির
ছেলেরা বড়
হয়ে হয়েছে
আরো বেশি
ধনী ঠিকাদার
এবং ব্যবসায়ী।হঠাৎ একদিন তারা
আবিষ্কার করল
যে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি
সকল দিক
দিয়েই চার
চারটি মৌজার
ভেতর তারাই
এখন সবার
আগে।এখন বাড়ির
সামনে গ্যারাজে
মোটরগাড়ি একটা
দাঁড় করিয়ে
রাখতে পারলেই
তাদের আভিজাত্যের
গরিমার ষোলকলা
পূর্ণ হয়। আজকের
দিনে লোকের
হাজার টাকা-পয়সা থাক, মোটরগাড়ি
একটা না
থাকল কেউ
কাউকে আসল ধনী বলে
গণ্য করে
না।
মোটর গাড়ি
কেনার মত
ব্যাংকে তাদের যথেষ্ট টাকা
পয়সা রয়েছে,কিন্তু নতুন যুগের
দীক্ষা স্বরূপ
তারা হিসাব-নিকাশ করে দেখেছে
যে এই
হাতিটি বিক্রি
করেও বেশ
কয়েক হাজার
টাকা বের
করে নেওয়া
যেতেই পারে;
আজকের এই
মোটরগাড়ির যুগে
এই হাতির
কোন ব্যবহারিক
প্রয়োজন নেইই,
আভিজাত্যের প্রতীক
হিসেবেও সে
আজ সেকেলে
এবং মূল্যহীন
। সব
ভাইরা মিলে
আলোচনা করে
সরল মনেই
বাবার সামনে
কথাটি তুলল। কথাটি
কানে পড়া
মাত্রই ছেলেদের
হতবাক করে
বুড়ো উত্তেজনায়
চীৎকার করে
উঠলেন, “কী
বললি? বাপধনকে
বিক্রি করে
মোটর গাড়ি
কিনতে চাইছিস?
কী বললি,
আরেকবার বল
দেখি আমায়!”
আজকের
যুগে খাপ
না খাওয়া,
বসে বসে
অন্ন ধ্বংস
করা এই
সামান্য হাতিটি
বিক্রি করার
কথায় এমন
বাবার এত
উত্তেজিত হওয়ার
কারণ কী,
সেই কথা
ভেবে জোয়ান
ছেলেরা বিমূঢ়
হয়ে পড়ল। কিন্তু
রেগে লাল
বাবার মুখখানা
দেখে তাদের
আর বেশি
সাহস হল
না।
তার পরদিনে
ব্যাংকের টাকা
উঠিয়ে নিয়ে
তারা কিনে
আনল একখানা
সুদৃশ্য অ্যাম্বাসেডর গাড়ি। ভূমিকম্পে
হঠাৎ একটুকরো
মাটি উঠে
এসে পাহাড় সদৃশ টিলা
সৃষ্টি হবার
মতোই যেন
অ্যাম্বাসেডর স্পর্ধিত ধ্বনি
উদ্গিরণে মেধিবাড়িটাও
হঠাৎ উপরে
উঠে এসে
এই সমাজের
নতুন সমুন্নত
অভিজাত উচ্চবংশে
পরিণত হল
।
মোটরগাড়ি
হওয়ায় বলরাম
বুড়ো যে
অসন্তুষ্ট হয়েছেন,
তা নয়। বরং
বাড়ির অন্য
সদস্যদের মতো
তিনিও বেশ
খুশিই হলেন। নিজের
সন্তানের উন্নতি
দেখে কার
বা ভালো
লাগে না?
তার ওপর
মোটরগাড়িটি বেশ
কাজের জিনিস। এক দিনের পথ
এক ঘণ্টায়
যাওয়া যায়। কিন্তু
হাজার হোক,
বুড়োর নজরে
মোটরগাড়িটি প্রয়োজন
মেটাবার উপায়
মাত্র।
কিন্তু বাপধন?
সে যে
তাঁর জীবনের
সঙ্গী।
সে তাঁর
সুদীর্ঘ অতীতের
স্মৃতি বিজড়িত
এক সজীব
প্রতীক।
সে মেধিবাড়ির
লক্ষ্মী।
একশটি মোটর
গাড়ির তুলনা
অসম্ভব।
এই বাড়িতে
তার আসন
অনন্য ।
বুড়ো
কিন্তু একথাটিও
না বুঝে
নেই যে
বাপধনকে নিয়ে
তিনি নিজে
যাই ভাবুন,
বাড়ির অন্যেদের
নজরে বাপধনের
আগের মূল্য
আর নেই। এমনকি,
বাইরের লোকেও
বড় বড়
মানুষজনকে বা
হাকিম অফিসারদের
স্বাগত জানাতেও
বাপধনের খোঁজ
নেয় না। বড়ছেলের
মটরগাড়িটির আজ
সব কথাতেই
আগে জায়গা
পায়।
বাপধনের খবর
করে শুধু
কাঠের ঠিকাদারেরা। এইসব
দেখে শুনে
বাপধনের প্রতি
বুড়ার মমতা
বেড়েই যায়। তিনি
অনুভব করেন,
এই বাড়িতে
আজ তিনি
নিজে যেমন
ধীরে ধীরে
অবহেলিত হয়ে
আসছেন,বাপধনও
সমানই অবহেলিত। সগর্বে
মাথা তুলে
রাজোচিত মহিমায়
ঘুরে বেড়ানো
বাপধনের মুখে
তিনি আজ
স্পষ্ট দেখতে
পাচ্ছেন সংকোচ-পীড়িত লজ্জা আর
অভিমানের ছায়া।বাপধনকে দেখলেই তাঁর
মনে এক
অবুঝ বেদনা
হাহাকার করে
ওঠে কিন্তু
সেই বেদনার
কথা শুনাবার
মতো বুড়ো
ঘরে বাইরে
একটি মানুষ
খুঁজে পান
না।
নতুন পৃথিবীটি
এই বৃদ্ধ
আর বাপধনের
জন্যে এতটাই
অপরিচিত ও
অনাত্মীয়।
বুড়ো যতই
বাপধন কে
আগলে রাখেন
ততই তার
প্রতি পরিবারের
আক্রোশ আরো
বেড়ে গেল। যে
বাপধনকে একদিন
বলরাম মেধি বাড়ির গর্বের
ধন বলে
গণ্য করেছিলেন,
সেই বাপধনকে
নিয়ে গর্ব
করা তো
দূরের কথা
বরং সে
বাড়ির মুখে
দাঁড়িয়ে থাকাটাও
ছেলেদের কাছে
লজ্জার বিষয়
হয়ে উঠল। একে কীভাবে বাড়ি
থেকে দূর
করা যায়
সেই কথা
ভেবে ভেবে
একদিন তারা
জানতে পারল
যে কাঠের
ঠিকাদারকে হাতিটি
ভাড়া দিলে
মাসে মাসে
কয়েক শ'
টাকাও হাতে
পাবে আর
হাতিটিকে কাজে
খাটিয়ে দূরেও
রাখা যাবে। তাদের
অতি হিসেবী
নজরে এই
প্রকাণ্ড হাতির
বসে বসে
থাকার দৃশ্য
একেবারে সহ্যের
বাইরে চলে
গেছিল।
তারা ভাবল
যে হাতেটিকে
বিক্রি করাতেই
তো বাবার আপত্তি, ঠিকাদারকে ভাড়া
দেওয়ার প্রস্তাবে
নিশ্চয় আপত্তির
কোনো কারণ
থাকবে না
।
বুড়োর কানে
কথাটি পড়ল
কি পড়ল
না, বাড়িতে
তিনি এক
প্রলয় কাণ্ড
বাঁধিয়ে ফেললেন,“বাপধনকে কাঠ টানা
কুলি মজুরের
কাজ করাবে?
হে হরি!
কী সব
কথা শুনার
জন্য আমি এতদিন বেঁচে
রইলাম! এ্যাঁই!
তোদের হয়েছে
কী? বাপধন তোদের কার
মাথার ওপর
বসে খাচ্ছে
যে তোরা
ওর পেছনে
এত করে
লেগেছিস? আজ থেকে যদি আরেকবার এমন
কথা আমি
শুনি, তবে
ঠিক বলছি,
আমি বাড়িতে
আগুন লাগিয়ে
দেব! আমি…..
আমি…. কিছু
করে ফেলব।”।
ছেলেরা সত্যিই এবার
বিরক্ত হল। তার
থেকেও বেশি
তারা অবাক
হল।
বুড়ো কী
বলে ভাবেন
এই জানোয়ারটিকে? সে পশু, পশুর
কাজ করবে। তাতে
বুড়োর এত
আপত্তি কীসের?
তাদের বিচার
বুদ্ধি দিয়ে,
তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে
এই প্রশ্নের
কোনও উত্তরই
তারা ভেবে
পেল না। ফলে,এবারে তাদেরও মনে
জেদ বেড়ে
গেল । রোজই একবার করে
তারা বাবার
সামনে এই
কথা তুলতে
শুরু করল।
ফলে বাপধনকে
কেন্দ্র করে
পিতা-পুত্রের
এই ঝগড়া
বলরাম মেধিদের
বাড়ির একটা
নিত্য ঘটনাতে
পরিণত হল।
এই ঝগড়া
হয়তো বুড়োর
মরার আগে
অব্দি চলতেই
থাকত।
কিন্তু তার
আগেই একটি
ঘটনার জন্য
অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবেই
এই ঝগড়ার
সমাপ্তি ঘটল।
ঘটনাটি
ঘটল বুড়োর
ছোটো ছেলের
বিয়ে উপলক্ষে।
গ্রামের বিয়েতে
সম্ভ্রান্ত পরিবারের
পাত্র বর
হাতির পিঠে
চড়ে কন্যার
বাড়িতে যাবে--
এটাই হচ্ছে
প্রচলিত নিয়ম। অপেক্ষাকৃত
গরিব পরিবারের
লোকেরাও বিয়ের
শোভাযাত্রায় হাতি
একটা নিয়ে
যাওয়াটা গৌরবের
কথা বলে
মনে করে। বলরাম
বুড়োর বাড়িতে
অনেক বিয়ে
হয়ে গেছে।সেই সবগুলো বিয়েতে
একটামাত্র হাতি
নয়, দশ
বারোটা হাতির
শোভাযাত্রা চলে আর সেই
শোভাযাত্রার নেতৃত্ব
করে বাপধন ।
ছোটো-ছেলের
বিয়ের জন্যে
এক মাস
আগে থেকেই
বাড়িতে বিপুল
আয়োজন চলছে। বুড়োর
করার মতো
কাজ বিশেষ
নেই, বিয়ের
আড়ম্বরে যাতে
কোনরকম ত্রুটি
বিচ্যুতি না
থাকে তিনি
কেবল সেইদিকেই
নজর রেখেছেন। তাঁর
জীবৎ-কালে
বাড়িতে এটিই
শেষ বিয়ে। কাজেই
বিয়েটা অত্যন্ত
সুপরিকল্পিত আর
আড়ম্বরের মধ্যে
শেষ করতে পারলেই তাঁর
মনের সমস্ত
কামনা পূর্ণ
হয়।
বিয়ের এক
সপ্তাহ আগে
তিনি বড়ছেলেকে
কাছে ডেকে
জিজ্ঞাসা করলেন,“বিয়ের জন্য হাতির
বন্দোবস্ত করা
হয়েছে কি
না?”
বড়ছেলে
অবাক হয়ে
ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস
করল,“হাতি?
হাতি কেন
চাই?”
ছেলের থেকেও
হাজারগুণ বেশি
অবাক হয়ে
মেধি বুড়ো
আবার প্রশ্ন
করলেন, “কী
বললি ?হাতি
কেন লাগবে,
তুই জানিস
না? পাগল
হয়েছিস নাকি
তুই?”
ছেলের আসলে কোন দোষ
নেই।দুনিয়া এতটাই
দ্রুত বদলে
যাচ্ছে যে,
কাল যা
ছিল অতি
স্বাভাবিক, জীবনের
জন্য খুবই
দরকারি,আজ
তাই হয়তো
কেবলমাত্র উপহাস
আর কৌতূহলের
বিষয় হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
বুড়োর দ্বিতীয়বারের
প্রশ্নেই ছেলে আসল কথাটা
বুঝতে পেল
এবং হেসে
উত্তর দিল,
“হাতি কেন
লাগবে বাবা
?এবার তো
আমরা দশ-বারোটা মোটরগাড়ির বন্দোবস্ত
করেছি, বর
যাবে বাড়ির
ফার্স্টক্লাসটিতে চড়ে
।”
বড়ছেলের এই
কথা বুঝে
উঠতে বুড়ো খানিক সময়
নিলেন।
তারপর মাথা
নাড়িয়ে আবার
বললেন, “গাড়ির
ব্যবস্থা করেছিস
কর।কিন্তু বরকে
যেতে হবে
বাপধনের পিঠে
চড়েই।বাপধন ছাড়া
এই বাড়িতে
একটি বিয়েও
হয়নি,এই
শেষ বিয়েতে
সে থাকবে
না এমন
হতেই পারে
না।
এরপর তোদের
যা খুশি
তাই করিস”।
বুড়োর কথার
উত্তরে বড়ছেলে
হেসে কিছু
একটা বলল,
কিন্তু কী
বলল বুড়োর
কানে পৌঁছুল
না।
হঠাৎ অতীতের
স্মৃতি বয়ে
এক ঝলক
বাতাস এসে
তার মনকে
ক্ষণিকের জন্য
আনমনা করে
দিল।
যথাসময়ে বিয়ের
দিন এল। সবাই
বিয়ের নানা
কাজে ব্যস্ত।বলরাম বুড়োও সকাল
সকাল রাতিয়ার
সঙ্গে নদীর
ঘাটে বাপধনকে
নিয়ে গেলেন
স্নান করানোর
জন্যে।
নিজে সামনে
থেকে দু-ঘণ্টা লাগিয়ে
রাতিয়ার হাতে
বাপধনকে স্নান
করালেন; তারপর
বাড়িতে এসেই
প্রায় বারোটা
থেকে বাপধনকে
সাজাতে শুরু
করলেন।
শিল্পীসুলভ আবেগ
নিয়ে তিনি
নিজ হাতে
তার কপালে
উল্কি এঁকে
দিলেন, শরীরের
অন্যান্য জায়গাতে
বিচিত্র চিত্র
শোভার সৃষ্টি
করলেন, পায়ে
নূপুর পরালেন,তারপর রাতে যার
সঙ্গে পরামর্শ
করে বর
বসার জন্য
গদিটি সাজাতে শুরু করলেন।
বিয়েবাড়ির উত্তেজনা
মুখর পরিবেশে
কে কোথায়
কী করছেন,তার কোনও ঠিকানা
ছিল না।হঠাৎ বড়ছেলের নজরে
পড়ল বুড়োর
কাণ্ড কারখানা। তাড়াতাড়ি
বাবার সামনে
এসে বলল,
“বাবা,তুমি
এগুলো কী
করছ?”
বুড়ো
বিরক্তির স্বরে
উত্তর দিলেন,“তোদের নিজের তো
কোনও খবর
নেই, আবার
লোকে কাজ
করলেও জিজ্ঞেস
করতে আসিস,কী করছ বলে!চারটায় বিয়ের যাত্রার
সময়,এখনই
যদি হাতিটিকে
সাজিয়ে টাজিয়ে
ঠিক করে
না রাখা
হয়……”
“কিন্তু তোমায়
দেখি সেদিনই
বললাম বাবা,বর গাড়িতে বসেই
যাবে বলে।তুমি মিছেমিছি হাতিটিকে
সাজিয়ে মরছ
কেন?”
পরম অবিশ্বাসে
বুড়ো ছেলের
দিকে তাকিয়ে
বললেন,“তুই
বললেই হবে
বুঝি,বর
গাড়িতে যাবে
বলে?ছোটো
হাতিতেই যাবে।তুই চুপ
করে থাক”।
বিরক্ত হয়ে
আর টুঁশব্দটিও
না করে
ছেলে সেখান
থেকে চলে
গেল।
যথাসময়ে যাত্রার
লগ্ন এল। চার
জোড়া ব্যান্ড
পার্টির ঢোলের
বাড়ির শব্দে
চারিদিক মুখরিত।আত্মীয় পরিজন আর
বরযাত্রীতে পরিবৃত
হয়ে বর
বাড়ির বাইরে
যাবার পথে
এগোচ্ছে।বিয়ের তোরণের
কাছে দাঁড়িয়ে
ছিল বড়ছেলের
অ্যাম্বাসেডর।কাছেই আরো
দশ বারো
খানা বাস,লরি ইত্যাদি।
অ্যাম্বাসেডরের ঠিক
উলটো দিকে
দাঁড়িয়েছিল বিচিত্র
চিত্রশোভিত সুসজ্জিত
বাপধন----- তার উদ্ধত মুখভঙ্গিতে
আত্মপ্রসাদের ভাব। বাপজানের
পাশেই একটি
চেয়ারে বসে
রয়েছেন বুড়ো
বলরাম, অপেক্ষা
করছেন বরের
আসার জন্যে। ছেলে
যে হাতিতে
যাবে,এই
নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন
হতে পারে
কি--- তাঁর মুখে এমন
একটা ভাব।মাঝে মাঝে এক
সপ্রশংস দৃষ্টিতে
তিনি বাপধনকে
দেখেন আর
তাঁর নিজের
মুখেও একটা
পরিতৃপ্তির ভাব
ফুটে উঠে।এর মধ্যেই বর
এসে তোরণ
পেরিয়ে বড়
রাস্তাতে দাঁড়াল,আর বুড়ো শশব্যস্ত
হয়ে রাতিয়াকে
হুকুম দিলেন,
“রাতিয়া হাতিকে
বৈঠ কর”।
ঢোল -গানের
শব্দে বুড়োর
গলা পুরো
তলিয়ে গেল
আর ঠিক
তখনই বর অ্যাম্বাসেডরের দিকে
মুখ করে
এগিয়ে গেল। এই
দৃশ্য দেখে
বুড়ো আত্মহারা
হয়ে আর্তনাদ
করে উঠলেন
“ছোটো!”। ততক্ষণে মোটর গাড়ির দরজা খুলে
গেছে আর
বর তাতে ঢুকবার উপক্রম
করছে।
বুড়ো পাগলের
মত কাঁপতে
কাঁপতে বসার
থেকে উঠে
গিয়ে আবার
চেঁচিয়ে উঠলেন,
“ছোটো! তুই
মোটর থেকে
নেমে আয়,
নেমে আয়!
তোকে হাতিতেই
যেতে হবে”।
বুড়োকে লম্ফঝম্প
আর চীৎকার
করতে দেখে
ভেতর থেকে
কোনো একজন
ঠাট্টা মস্করা
করে খিল
খিল করে
হেসে উঠল
আর তখনই
মোটর গাড়ি
স্টার্ট দিল। সঙ্গে
সঙ্গে বাকি
বরযাত্রীরাও সামনে
থাকা বাস-লরি ইত্যাদিতে উঠে
বসল---আর
মুহূর্তের মধ্যে
বাকি গাড়িও
বরের গাড়িকে
অনুসরণ করতে
লাগল।
শূন্য বিয়েবাড়ির সামনে
স্তব্ধ-স্তম্ভিত
হয়ে দাঁড়িয়ে
কেবল দুটি
প্রাণী---বলরাম
বুড়ো আর
বাপধন।
নতুনের শোভাযাত্রায় ঠাঁই
না জোটা,
পুরোনো হয়ে
পড়া পৃথিবীর
দুই অথর্ব
প্রতিনিধি।
কয়েক মুহূর্ত
পরে বাপধনের
শুঁড়ের ছোঁয়াতে
বুড়োর জ্ঞান
ফিরল।যন্ত্রণা কাতর
দৃষ্টিতে তিনি
বাপধনের মুখের
দিকে তাকালেন—বিব্রতভাবে কান দুটি নাড়িয়ে
এই প্রাণীটি
যেন তার
অপমান গোপন
করে, বুড়োকে
সান্ত্বনা দেবার
চেষ্টা করছে
। কম্পিত
পায়ে বুড়ো
তার কাছে
এলেন এবং
নিজের শরীরের
সমস্ত ভর
দিয়ে মুখটি
গুঁজে সজোরে
ডাকলেন ‘বাপধন!
বাপধন!’
হঠাৎ কী যেন একটা মনে পড়ল তাঁর, মাথা সোজা করে দাঁড়ালেন। রাতিয়ার দিকে তাকিয়ে ডাক দিলেন, “রাতিয়া, এই বাড়িতে আর এক মুহূর্তও বাপধনকে রাখা যাবে না। বাপধনকে আমি আজ থেকে তোর হাতে সঁপে দিলেম, আজ থেকে তুই বাপধনের মাহুত নয়, মালিক। যা নিয়ে যা। ওরা বাড়ি ফেরার আগেই তুই বাপধনকে নিয়ে নিজের বাড়ি চলে যা। শুনেছিস কি না, রাতিয়া?”









কোন মন্তব্য নেই