অসমে দুই কেন্দ্রমন্ত্রী এলেন এন আর সি, ডি ভোটার , ডিটেনশন ক্যাম্প, কা নিয়ে নীরব
অমল
গুপ্ত, গুয়াহাটি
অসমে কা
নিয়ে জোরদার আন্দোলন হল। ৫ জন
প্রাণ দিলেন। ১৬০০ লাখ খরচ
করে এন আর সি তালিকা প্রস্তুত হল। ১৯ লাখকে
বাদ দেওয়া হল। রেজিস্টার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া আজ পর্যন্ত
বিজ্ঞপ্তি জারি করল না। ঝুলে থাকল ১৯ লাখের
ভাগ্য। তার মধ্যে বাংলাভাষী হিন্দু-মুসলিমের সংখ্যা বেশি।
এক লক্ষ্যের বেশি মানুষ ডি
ভোটার। তাদের ভোট দানের অধিকার নেই। ডিটেনশন ক্যাম্পে ২৭ জন
প্রাণ হারান। স্বাধীন ভারতের জেলে কয়েকশ ভারতীয় নাগরিককে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
তাদের সিংহ ভাগ বাংলাভাষী হিন্দু মুসলিম মানুষ তাদের বড় অপরাধ তারা বড় গরিব। উকিলবাবুদের পয়সা দিয়ে মামলা চালাবার ক্ষমতা নেই।
নির্বাচন এলেই ডি ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প, এন আর সি, কা ইস্যু বড় হয়। এই
ইস্যুর সঙ্গে অসমের সংখ্যালঘু হিন্দু-মুসলিম মানুষ
জড়িত। তাদের সমর্থন আদায় করতে ভোটের তাগিদে নির্বাচন
এলেই রাজনৈতিক দলের নেতারা নানা ফন্দি ফিকির করে,
ছল-চাতুরি, ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। সাম্প্রদায়িক
বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়। এ আই ইউ ডি এফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল
গ্রাম অসমে সংখ্যালঘু অঞ্চলে সংখ্যালঘু
কার্ড খেলছেন। অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
বদরুদ্দিন আজমলকে আক্রমণের লক্ষ্য করে নিয়েছেন। এর ফলে
রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বিজেপি দলের শীর্ষ নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং
রবিবার উজান অসমে ৬/৭ টি জনসভায় ভাষণ
দিলেন। গতকাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরাণি এসেছিলেন। কারো মুখে
সংখ্যালঘুদের সংগে সম্পর্ক যুক্ত জ্বলন্ত
সমস্যা ডি ভোটার, এন আর সি, ডিটেনশন
ক্যাম্প নিয়ে একটি শব্দ খরচ করতে দেখা গেল না। ভোটে জেতার পরও কি বিজেপি জামানায় ১৯ লাখ এন আর সি ছুটদের ভাগ্য ঝুলে থাকবে? ডিটেনশন ক্যাম্পের অন্ধ কূপে পড়ে থাকবেন শ আটেক
বাঙালি? ডি
ভোটারদের সাংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ভোট দানের অধিকার
থেকে বঞ্চিত করেই রাখা হবে? আর
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এর কি হল? কেন্দ্র আজও রুল প্রস্তুত করেনি। তা সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদে কেন্দ্র
জানিয়ে দিল। এই আইন বাতিলের দাবিতে অসমে
জাতীয়তাবাদী দল সংগঠণগুলো এমন জঙ্গি আন্দোলন করলো যার ফলে
অসমে বাংলাভাষীরা প্রায় কোন ঠাসা হয়ে পড়ল, যাদের
আক্রমণের মুখ করা হল, পাঁচ জন প্রাণ দিলেন। তা হলে
কা কি নির্বাচনে জেতার হাতিয়ার ? বাংলা দেশ সহ পাঁচ দেশ থেকে নির্যাতিত হয়ে আসা হিন্দুদের
জন্যে রক্ষা কবচ নয়? প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি বাংলা দেশে যাবেন সেখানে
শেখ মুজিবর রহমানের সমাধি সৌধ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। এছাড়াও মতুয়া ধর্মের প্রবক্তা হরিদাস ঠাকুরের
জন্মস্থান, ওরা কান্দি ও যাবেন। বাংলাদেশ, সাবেক পুব-পাকিস্তান থেকে
পশ্চিমবঙ্গে আসা প্রায় তিন কোটি মতুয়া ভোটার
আছে। কা আইন যদি বাস্তবায়িত
হয়, তবে নাগরিকত্বহীন মতুয়া সমাজ উপকৃত হবে। বিজেপি র বক্তব্য
অসমে মাত্র ২০ লাখ, পশ্চিমবঙ্গে
তিন কোটির ও বেশি মানুষ উপকৃত হবে। মতুয়া ছাড়াও নিম্ন
শ্রেণির, উপজাতি গোষ্ঠীর
মানুষ নাগরিকত্বহীনভাবে বসবাস করছে পশ্চিমবঙ্গে সেই দিকে
তাকিয়ে বিজেপি এগোচ্ছে। আজ অসমে
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজ নাথ সিং
বলেন, শুনে সুখী হবেন ত্রিপুরার পর আবার অসমে বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গেও
বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। তিনি
অসমের সীমা সুরক্ষার কথা বলে দেশের সেনা বাহিনীর গৌরব গাঁথা তুলে ধরে বলেন সেনা
বাহিনী দেশের জন্য সর্বচ্চো পণ করেছে, সীমান্তে
সংযম রক্ষা করছে। অসমে সন্ত্রাসীদের দিন শেষ হয়েছে। গত
পাঁচ বছরে সন্ত্রাসবাদীদেরগুলি চলেনি। সব আন্দোলন
বন্ধ। অপরদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহ আশ্বাস দেন, আগামী পাঁচ বছরে অসমের বন্যা সমস্যা চিরকালের জন্যে সমাধান
করে দেবেন। তিনি বড় বড় পুকুর কেটে জলাশয় নির্মাণ করে অতিরিক্ত বন্যার জল ধারণের
প্রযুক্তির কথা বলেন। তিনি
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, রাহুল বদরুদ্দিন আজমলকে ঘাড়ে
চাপিয়ে জোট গড়েছেন। বদরুদ্দিনকে ভোট দিলে অনুপ্রবেশ কারীরা লাভবান হবে। তিনি বলেন,
কংগ্রেস সরকার বিগত অর্থবর্ষে ৮০ হাজার
কোটি টাকার বরাদ্দ করেছিল। বিজেপি সরকার এসে অসমের জন্যে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি
বরাদ্দ করেছে। অসমের প্রতিনিধি মনমোহন সিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেও কিছুই
করেননি। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অসমের জ্বলন্ত সমস্যা এন
আর সি, ডি ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প ইত্যাদি
নিয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না। এই জটিল সমস্যা ঝুলিয়ে রাখা
হল। লাখ লাখ বাঙালিদের ভাগ্য ও ঝুলে রইলো। ঝুলে থাকবে। কংগ্রেস আমল থেকে ঝুলছে। এখন
আরও জটিল হয়েছে। এই বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ভোট লাগে সমস্যা
সমাধান লাগে না। কংগ্রেস বা বিজেপি দুটি দলের ভূমিকা একই। কোন দলই এই সব
জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে আন্তরিক নয়, একথা বুক ঠুকে
বলা যায়। ( গোয়াল পাড়ার মাটিযা তে নতুন করে ডিটেনসন ক্যাম্প নির্মাণ চলছে তার ছবি)









কোন মন্তব্য নেই