Header Ads

পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক ন্যায়ের দাবিতে মুসলমান নেতৃত্ব

মনীষা মুখোপাধ্যায়

 

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান প্রকৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রান্তিক অবস্থানে থাকতে হয়েছে তা নিয়ে সাচার কমিটির রিপোর্টে বিস্তারিত বলা হয়েছিল। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে চাপান উতোর চলতে থাকে, কেননা দেখা গেল কংগ্রেস জমানার থেকেও খারাপ অবস্থা হয়েছে বামফ্রন্ট আমলে, কিন্তু এই দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়নি। সাম্প্রদায়িক আক্রমণ থেকে তাঁরা রক্ষা পেয়ে এসেছেন,ঠিকই, কিন্তু শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মনিয়োজন কোনোদিক দিয়েই মুসলমানদের সক্ষমতা গড়ে তোলার ব্যবস্থা হয়নি। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাচার কমিটির রিপোর্ট ও রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ কার্যকরী করার জন্য বিশাল আন্দোলন হয়েছিল। এর আগে মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক বঞ্চনার কথাটি এত জোরে কেউ বলেননি, অন্তত সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে এমন রাজনৈতিকভাবে দাবি ওঠে নি। এই সমস্ত মিলে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায়। সিদ্দিকুল্লাহ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলিকেও একত্রিত করতে পেরেছিলেন। কিন্তু নন্দীগ্রাম আন্দোলন জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকলে এবং প্রতিরোধ সংঘর্ষে পরিণত হলে আন্দোলনের লাগাম তৃণমূলের হাতে চলে যেতে থাকে। যাদের মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয় বলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দাবি করেছিলেন, সিপিএম-তৃণমূলের অস্ত্রের লড়াই শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সরে আসেন। গোটা পশ্চিমবঙ্গের খারিজী মাদ্রাসাগুলির কোনোটাতে কখনো অস্ত্রের কারবার চলে না এ কথাটা জোর দিয়ে বলতে এখনও অনেকের দ্বিধা আছে সন্তোষ রাণার মতো বামপন্থীরা ছিলেন ব্যতিক্রম। তিন দশকেরও বেশি বামপন্থী শাসন এই ভ্রান্তি নিয়ে ভাবেনি। এমনকি, মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে একেবারে গণ-উদ্যোগে, এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে সমীক্ষা করে তুলে আনা লিভিং ওয়ার্ল্ড অব দ্য মুসলিমস অব ওয়েস্ট বেঙ্গল” – এর মতো প্রামাণ্য রিপোর্ট, শঙ্খ ঘোষ ও অমর্ত্য সেনের হাত দিয়ে প্রকাশিত হবার পরও এ নিয়ে দপ্তরী বামপন্থীরা মাথা ঘামাতে আগ্রহী হননি। দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে এবার হয়তো তাঁরা অন্যরকম ভাবছেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.