অশ্রুভেজা জলে শেষ বিদায় গৌরী শঙ্কর চক্রবর্তীকে
সুব্রত দাস, বদরপুর : অশ্রুভেজা জলে শেষ বিদায় জানালেন স্বয়ংসেবকরা। রেখে গেছেন পাঁচ ভাই, ভ্রাতৃবধূ, ভ্রাতুষ্পুত্র-ভাইঝি, নাতি-নাতনি সহ সংঘের অসংখ্য গুণমুগ্ধদের। জালালপুরের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. খগেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তী এবং সুষমাদেবীর চতুর্থ সন্তান ছিলেন গৌরীশঙ্কর। জন্ম হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ৩০ নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের শ্রীহট্ট জেলার ছাতক থানার মহবৎপুরে। তাঁর বড়ভাই শিবশংকর চক্রবর্তীও ছিলেন একজন প্রচারক এবং খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক। অত্যন্ত মেধাবী ও অন্তর্মুখী স্বভাবের গৌরীশঙ্কর শৈশব থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। নিয়মিত শাখায় যাতায়াত তাঁর বিদ্যালয় জীবন থেকে। ১৯৬৭ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি গোটা রাজ্যের মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করেন। পরবর্তীতে গুয়াহাটি এসে কটন কলেজে পদার্থবিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়ে প্রথম বিভাগে খ্যাতির সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। চলে যান দিল্লি। দিল্লি গিয়ে কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং পরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি নেন। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও দুরারোগ্য এই ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করেন। তার পর ২০১৮ সালে মেরুদণ্ডের নানা উপসর্গ দেখা দেয়। দিল্লির হাসপাতালে অপারেশন করে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে শারীরিক কিছু অসুস্থতার জন্য তাঁকে দিল্লির এমডি সিটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ডাক্তারদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গেলেন বরাকের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ব্যক্ত করে প্রয়াতের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দিলীপ শইকিয়া, প্রদেশ সভাপতি রঞ্জিতকুমার দাস, মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সহ অনেকে । গৌরীদা হিসেবেই তিনি ছোট-বড় সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লী থেকে গৌরী শঙ্কর চক্রবর্তীর পার্থিব শরীর নিয়ে আসা হয় প্রান্ত কার্যালয় শিলচরে। সেখানে সকল স্বয়ংসেবক,বিভিন্ন সংগঠনের কার্যকর্তারা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। তারপর শব গাড়ি করে নিয়ে আসা পাঁচগ্রাম। সেখানে পাঁচগ্রাম ও হাইলাকান্দি কার্যকর্তাগণ শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন। তারপর বদরপুর ঘাট সিদ্ধেশ্বর মন্দিরের সামনে,কাঠিগড়া,কালাইন,ঘুমড়া দেওয়া হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি। সর্বশেষে নিয়ে পৈতৃক গ্রামের বাড়িতে । সেখানে সহস্রাধিকের কার্যকর্তাদের উপস্থিতিতে বিধি অনুসারে অন্তিম কার্য সমাপন করা হয়।









কোন মন্তব্য নেই