প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন, 'কা' নিয়ে গুরুত্বপূর্ন ঘোষণা হতে পারে
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের জন্ম তিথিতে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আসবেন কিনা চূড়ান্ত নয়। তবে তিনি ওই দিন অসমে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। আজ একথা জানান মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আগামী ২৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও অসমে নির্বাচনী প্রচারে আসবেন। নির্বাচনের নিঘন্ট ঘোষণার আগে একদিনের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর প্রমান করছে বিজেপি অসম এবং পশ্চিমবঙ্গকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনদিন আগেই বিজেপি সর্ব ভারতীয় সভাপতি জি পি নাড্ডা অসমের বরাক সফর করেন। এবার প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিম্ন অসম ও উজান অসম সফরে যাবেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের মমতা সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদকে ডি সিংকে ই ডি গ্রেফতার করেছে তার কাছ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক গোপন খবর পাওয়া যাবে বলে রাজনৈতিক মহলের খবর। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুই রাজ্যের সফরে 'কা' নিয়ে কেন্দ্রের স্থিতি স্পষ্ট করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। 'কা' আইন হয়েছে, কিন্তু আজও কার্যকরী হয়নি। এই আইনটি কার্যকরী হলে পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়ের লাখ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব পাবে। এই সম্প্রদায় ছাড়াও বাংলার ২ কোটিরও বেশি উদ্বাস্তু এই আইনের বলে লাভবান হবেন। সেই তুলনায় অসমের ৩০-৪০ লাখ মানুষ যারা উদ্বাস্তু হিসাবে দেশ বিভাজনের বলি হয়ে অসমে এলেও ৬০-৭০ বছর বসবাস করলেও ভূমি পুত্রের স্বীকৃতি পায়নি। মাটির পাট্টা থেকে ব্যাংক ঋণ, সরকারি অনুদান প্রভৃতি থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন। কা লাগু হলে এই বঞ্চিতরা নাগরিকত্ব পাবে। অসমের জাতীয়তাবাদী দল সংগঠনগুলোর অভিযোগ আইনটি লাগু হলে বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি বাঙালি হিন্দু অসমে এসে অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলবে। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনীর প্রধান মহম্মদ সফিনুল ইসলাম। তিনি অসমে সাংবাদিক সম্মেলন বাংলাদেশের জি ডিপি ভারত থেকে অনেক বেশী, মাথাপিছু ২৩০০ ডলার আয়। তিনি আরও বলেছেন, অসমে এনআরসি-র কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি। একজনও বাংলাদেশে যাননি একজনও আসেনি। এর পরও অসমের জাতীয়তাবাদী দলগুলোর এক নেতা চা শ্রমিকদের মিথ্যা ভয় দেখান কোটি কোটি বাংলাদেশি হিন্দু চাবাগানগুলি ঘিরে সব দখল করে নেবে। এই দল গুলো একবারও বাংলাদেশি মুসলিমদের কথা বলছেন না। কেন? কা লাগু হলে অসমের ভয় পাবার কিছু নেই। ৫০-৬০-৭০ বছর ধরে বসবাস করছে।অসমের ভাষা সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছে কা তাদের স্বীকৃতি দেবে এই বাঙালি হিন্দুদের। নতুন করে লাভ করার কিছু নেই।হ্যাঁ লাভ হবে ১৪০ বছরের চন্দ্র ধর দাসের মতো মানুষকে টেনে হিজরে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তা হয়তো বন্ধ হবে। কেন্দ্রীয় সরকার কা লাগু করতে চলেছে তা নির্বাচনের আগে হবে। পরে নয়।









কোন মন্তব্য নেই