মানস বেড়াতে এসে বাঘ পেলাম না, অরণ্যের গভীরতাতে স্নান করলাম, মুগ্ধ হলাম
অমল গুপ্ত, মানস অভয়ারণ্য
ঝরা শিমুল, শীতের ঝরা পাতা, বন বাদার, অজানা গুল্ম লতা, সাবাই ঘাসের বন, খোকন, সিধা, গামারি গাছের মাথা উঁচু করে থাকার স্পর্ধা, রঙবেরঙের নানা প্রজাতির পাখি, সঙ্গে বন মোরগ আর অসংখ্য ময়ূরের পেখম মেলার খেলা,দল বেঁধে বুন হাতির দাপাদাপি, বার্কিং ডিয়ার, আর সম্বর, বুনো মহিষ, বহুবার দেখা গন্ডার এর পাশাপাশি নতুন বিপন্ন প্রজাতির গৌর। যাকে বাইসনও বলা হয়। পাযের নিচের রং সাদা, মহিষের মত প্রচণ্ড শক্তিশালী গন্ডারের পাশে দিব্যি ঘাস খেতে দেখলাম।
বাঘের জন্যে বিখ্যাত, যারা একদিন বাঘ মেরে শেষ করে দিয়েছে সেই চোরা শিকারিরা আজ অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসে বাঘ, গন্ডার রক্ষার কাজে নিয়োজিত। তাই অসমের বড়োল্যান্ড টেরিটটিয়াল রিজিয়নের অধীন বাক্সা জেলার ভুটান সীমান্তে পাহাড়ি বেঁকি নদীর কোলে অবস্থিত প্রায় ৪০০ বর্গ কিলো মিটারের মানস জাতীয় উদ্যান এবং টাইগার। প্রজেক্ট, সংলগ্ন চিরাং জেলার রিপু এলিফেন্ট রিজার্ভ, দেশের
নবম স্থানে মানসের টাইগার প্রজেক্ট, রাষ্ট্রসংঘের জৈব বৈচিত্র্যের হেরিটেজ সাইট। ১৯০৫ সালের রিজার্ভ ফরেস্ট ১৯৭০ সালে টাইগার প্রজেক্ট হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৯৯০ সালে জাতীয় পার্ক হিসাবে পরিচয় লাভ করে। বড়ো আন্দোলনের সময় মানস ছিল জঙ্গিদের ঘাঁটি, বাঘ হরিণ মেরে শেষ করা হয়। বাঘ আমাদের
সম্পদ বোঝানোর পর উগ্রপন্থীরা অস্ত্র ছেড়ে বাঘ রক্ষা শুরু করে। টাইগার প্রজেক্টের ফেল্ড ডিরেক্টর সঞ্জয় দেবরায়ের একান্ত চেষ্টায় মানস আবার প্রাণ ফিরে পায় বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বাঘের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়ে গেছে, চিতার সংখ্যা ৬০ এর মত, গন্ডার ৪২টির মতো, হাতি হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৪০০ প্রজাতির পাখি আছে। গোলা ঘাটের ডাক্তার রবিন ব্যানার্জী যেমন কাজিরাঙ্গাকে ভালবাসতেন, এক খড়গ বিশিষ্ট অসমের গন্ডারের ছবি ১৯৬২ সালে বার্লিন টিভিতে দেখিয়ে সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন। ঠিক তেমনি সঞ্জয় দেব
রায় মানসের বাঘ সম্পদ রক্ষা করতে প্রান পাত করেছেন।দিল্লিতে তার মৃত্যুর আগে মানস নদির জল চেয়ে পাঠিয়ে ছিলেনসেই জল খেয়ে দেব রায় মারা যান আজ মানস ঘুরতে গিয়ে এক ফরেস্টারের ছেলে বির বাহাদুর লামা এই বিস্ময়কর কথা জানান। দেব রায় এতটাই মানসকে ভালো বাসতেন। মানসে এখন বাঘ গণনা চলছে, আরণ্যক সহ অন্য এক এন জি ও গাছে
গাছে ক্যামেরা বেঁধে বাঘেদের গতি বিধি রেকর্ড করে বাঘের সংখ্যা নিরুপন করছে। ক্যামেরা বাঁধা গাছ গুলোর পাশ দিয়ে যেই যাবে তার ছবি উঠে যাবে। আমরা এই রকম এক গাছের পাশ দিয়ে গাড়িতে যাঁর ছিলাম, সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা ফ্লাশ জ্বলে উঠে। আজ আমরা কিন্তু একটিও বাঘ দেখতে পায়নি, তাতে কোনো
দুঃখ নেই। বাঘ দেখতে এসে অনেক কিছু দেখলাম। সাংবাদিক বন্ধু কুঞ্জ মোহন রায় সহ পরিবার পরিজনরা এসে ফ্লোরি ক্যান কটেজ এ কাটিয়েগেলাম, ভবিষ্যতের সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।
















কোন মন্তব্য নেই