বাঙালি হিন্দুদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করছে বিজেপি: দাইয়ান
অনিন্দ্য ভট্টাচার্য, বদরপু্র : ভোট চাইবার আগে ১৯ লক্ষ এখনআরসি ছুটদের নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করতে মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র কাছে দাবি জানালেন বদরপুরে কংগ্রেস টিকিটের প্রবল দাবিদার অসম প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক দাইয়ান হোসেন। বিজেপি বিরোধীদের মহাজোট হবে কী না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে জোট হলেও কংগ্রেসের দখলে থাকা বদরপু্র আসনটি কংগ্রেসকেই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে প্রাথমিক আভাস এরকমই পাওয়া গেছে। আর এমনটা হলে জোটের প্রার্থী হিসেবে অন্যতম দাবিদার হচ্ছেন করিমগঞ্জের দাইয়ান হোসেন। শনিবার বদরপু্রে এক সাংবাদিক সম্মেলনে খোলাখুলিই নিজের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন দাইয়ান। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে এনআরসি, বরাকের উন্নয়ন, নিযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে বিজেপি সরকারের বাঙালি বিরোধী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সমালোচনায় মূলত: নিশানায় ছিলেন অসমের ডি ফ্যাক্টো চিফ মিনিস্টার হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কীভাবে তিনি 2016 থেকে বাঙালিদের নানা ভাবে বোকা বানিয়ে আসছেন তারই বিস্তারিত তুলে ধরেন দাইয়ান। করিমগঞ্জের প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন বা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি পদে বরাকের স্থানীয়দের নিযুক্তি নিয়ে সরকারি ভূয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি মত দুইকোটি চাকরি ও রাজ্য সরকারের পঁচিশ লক্ষ চাকরি কোথায় গেল? এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দাইয়ান। শুধু তাই নয়, মুসলিমরা নাহয় মোগলদের বংশধর, বিজেপির আ্যলার্জি। কিন্তু হিন্দু বাঙালিদের জন্য কী করেছে এই সরকার? কতজন বাঙালি হিন্দুকে চাকরি দিয়েছেন হিমন্ত? বলেও প্রশ্ন তোলেন দাইয়ান। তাছাড়া এনআরসি ছুট বা ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠাঁই পাওয়াদের বেশিরভাগই বাঙালি হিন্দু! কা--র টোপ দিয়ে এদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসাবে বিজেপি ব্যবহার করতে চাইছে? বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া মাদ্রাসা বা টোল তুলে না দিয়ে বরং সাধারণ স্কুলে বেদ-কোরআন পড়ানোর ব্যবস্থা নিলে ছাত্রদের উন্নতি হত বলেও মন্তব্য করেন দাইয়ান। বদরপুরের মানুষ মহাজোট গঠনের পক্ষে। আর হাইকমান্ড চাইলে তিনি জোটের প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। উচ্চশিক্ষিত তথা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীর বদরপুরে যে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি উঠেছে সেটাকে তেমন গুরুত্ব দিতে তিনি রাজি নন। বর্তমান বিধানসভায় মোট বিধায়কদের মধ্যে তেত্রিশ জনই নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য আসন থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করে এসেছেন। এর দৃষ্টান্ত বদরপুরেও আছে। তাই তিনি করিমগঞ্জের বাসিন্দা হলেও টিকিটের ব্যাপারে এটা অন্তরায় হবেনা এটা তার ধারনা বলে জানা গেছে।









কোন মন্তব্য নেই