বরাকের সব শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা দিতে হবে - দাবি বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের মূখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায়ের
বিডিএফ এর অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় বরাকের ভয়াবহ বেকার সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দত্তরায় বলেন যে জাতীয় স্তরে তথা আসামে বেকার সমস্যা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ,অথচ সরকারের কোনো হিলদোল নেই। তিনি বলেন জাতীয় স্তরে গত ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশ, যা নভেম্বরে ছিল ৬.৫ শতাংশ। আসামের বৃদ্ধির হার আরো উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বরে যা ছিল ১.২ শতাংশ ডিসেম্বরে তা দাঁড়িয়েছে ৭.৬ শতাংশে। তিনি বলেন লকডাউন এর সময় বেসরকারি চাকরি ছেড়ে যারা বরাক উপত্যাকায় ফিরে এসেছিলেন তাদের অধিকাংশই পুরোনো কাজের জায়গায় ফিরে যেতে পারেননি এবং বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। প্রদীপ বাবু জানান যে বরাক উপত্যকায় বর্তমানে নথিবদ্ধ বেকারের সংখ্যা তিন লক্ষেরও অধিক। তার বক্তব্য, সব মিলিয়ে বরাকের ৪০ লক্ষ জনগনের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ বেকার যুবক যুবতী রয়েছেন,যারা একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে যে কোনো রাজ্য সরকারকে পাল্টে দিতে পারেন। তিনি বলেন তারপরও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বরাকের কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বঞ্চনা ও বৈষম্য ক্রমবর্ধমান।সরকার ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সব পদ বরাকের স্থানীয় প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর উল্টোটাই করা হয়েছে।
তার প্রশ্ন - কোথায় গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি ? উল্টে বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গেল গত বছরে প্রায় ১ কোটি জনগন চাকরি হারিয়েছেন। তাই বোঝাই যাচ্ছে যে জাতীয় স্তরেই হোক বা রাজ্য স্তরে হোক এই বিজেপি সরকার বেকার সমস্যা সমাধানে চূড়ান্ত ভাবে ব্যার্থ হয়েছে।
প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে রাজ্য সরকার ছাত্র দের স্কুটি দিচ্ছে, কম্পিউটার দিচ্ছে অথচ বেকারদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন।
তিনি বলেন, বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট দাবি জানাচ্ছে যে সরকার যতদিন অব্দি বরাকের শিক্ষিত বেকারদের চাকরি দিতে না পারছে ততদিন বেকার যারা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ তাদের মাসিক ৫০০০ টাকা ,উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ দের ৭০০০ টাকা,স্নাতক দের ১০০০০ টাকা ও স্নাতকোত্তরদের মাসিক ১৫০০০ টাকা করে বেকার ভাতা দিতে হবে।
বরাকের সব বেকার যুবক যুবতীদের প্রতি প্রদীপ বাবুর আহ্বান - যে দল আপনাদের সমস্যা সমাধানে সঠিক এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেবে তাঁকেই আপনারা ভোট দিন।
বি ডি এফ এর মূখ্য আহ্বায়ক আরো বলেন যে বিডিএফ এই সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আন্দোলনে নামবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।









কোন মন্তব্য নেই