Header Ads

বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি, তাকে সাইবেরিয়ার জেলে বন্দি করে রেখে নির্য্যাতন চালানো হয় বলে কে জি বির অভিযোগ

অমল গুপ্ত, কলকাতা

আজ ঐতিহাসিক দিন, আমাদের  আত্মার আত্মা, বাঙালিদের বিশ্বের দরবারে  পরিচয় করিয়ে  দিয়েছেন  সেই আমাদের   ভালবাসার সিংহপুরুশ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র  বোসের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী, তাকে আন্তরিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে   বলতে চাই আজ আমাদের পারিবারিক জীবনে ও এক ঐতিহাসিক দিন  আজ আমাদের   ঠাকুরদা  শিবনাথ গুপ্তকে  শ্রদ্ধার সঙ্গে  স্মরণ করছিমুর্শিদাবাদবাসীর গর্ব, উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদির সমসাময়িক   আমাদের পরিবারের সুসন্তান শিব নাথ গুপ্তর ১৩৫ বছর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক   ডিগ্রি লাভ করে জেলার মুখ উজ্জল করেন। তার  সার্টিফিকেটের অরিজিনাল  কপি  আজ আমি  মাননীয় এস ডিওর হাত দিয়ে রামেন্দ্র সুন্দর  মিউজিমের হাতে  সমর্পণ  করবো। এই  মিউজিয়ামের কর্ণধার   বিশিষ্ট গবেষক  প্রণব আচার্য্যর  উদ্যোগে  আজকের এই স্মরণ উৎসব। আমাদের জীবনে মরণে  বাঙালি  সত্তার  উজ্জ্বল   ভাস্কর  যিনি জীবন আহুতি দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সেই নেতাজি আজ আমাদের  জীবনকে আলোড়িত করে না। অনুপ্রাণিত করেনা, শুধুই  জন্ম তিথির নিয়ম  রক্ষা। আমরা অকৃতজ্ঞ   জাতিআত্মকেন্দ্রিক জাতি বিলাস বৈভবে  ডুবে থাকি। ব্যক্তিগত  বা রাজনৈতিক  মুনাফার জন্যে   এগিয়ে আসি, দেশের জন্য নয়। দেশকে ভালবাসি না, মাকে   ভালোবাসি না। টাকা আর লোভ লালসার   বৃত্তে  আমরা আটকা পড়ে গেছি।  আমি   আমি তিন দশকের বেশি সময় ধরে অসমের গুয়াহাটি   শহরে সাংবাদিকতা করছি নেতাজির দেশপ্রেম আত্মত্যাগ আমাকে টানে। যেটুকু    সামান্য ইতিহাস ঘেঁটেছি তাতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানার  চেষ্টা করে যাচ্ছি আজও। সবাই জানে  ঐতিহাসিক  সত্য, প্রধানমন্ত্রী  জহরলাল নেহরু কোনোদিন  নেতাজিকে মেনে  নিতে পারেন নি। তিনি  জানতেন ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট জাপানের টাইহকুতে বিমান দুর্ঘটনার মিথ্যা  গুজব  ছড়ানো হয়।

ইতিহাসের নানা তথ্য বলছে ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে  রাশিয়ার স্ট্যালিন তার  ক্যাবিনেট আলোচনা করে  সাইবেরিয়ার  ওমসক  শহরে  রাখার পর  মিত্র শক্তি  ব্রিটিশ ও আমেরিকার চাপে  পরে সুভাষকে নজরবন্দি করা হয়। ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে  ভারতের  ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা  প্রকাশ করে নেতাজি রাশিয়াতে আছেনসোভিয়েত পত্রিকা  প্রাভদা দাবি করে সাইবেরিয়ার জকুটুক  yakutk জেলের ৪৫ নম্বর সেলে বন্দি আছেন, মিত্র শক্তির চাপে পড়ে  স্টালিন তা  করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

জেলবন্দি নেতাজির ওপর থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগ করা  হয়েছিল, দৃষ্টিশক্তি  ও বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে ছিলেন। সোভিয়েত নিযুক্ত ভারতের প্রথম রাষ্ট্র দূত বিজয় লক্ষ্মী পন্ডিত নেতাজির করুন পরিণতির কথা জানতেন কিন্তু দাদা জওহরলাল নেহরুর ভয়ে  সব চেপে যান। কে জি বির তথ্য বলছে  নেতাজিকে  যুদ্ধ অপরাধী  স্লেভ লেবার হিসাবে তাকে   গণ্য করা হত, বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ  সত্য নারায়ণ সিনহা খোসলা কমিশনে এফিডেভিট  দাখিল করে এই তথ্য দিয়ে ছিলেন ইতিহাস  সে কথায় বলছে।   নেতাজির যে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি বিচারপতি মনোজ মুখার্জি কমিশন তা স্পষ্ট বলে লিখে গিয়েছিলেন, কয়েক হাজার পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদন  নেতাজি দরদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন গ্রহণ করলেন নানেতাজির  অর্ন্তধান  সম্পর্কে ৪১ টি গোপন  ফাইল কেন প্রকাশ করছেন না? আজাদ হিন্দ বাহিনীর  ৭২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি কে  আত্মসাৎ করেছে? নেতাজি দরদি প্রধানমন্ত্রী তা  তদন্ত করাচ্ছেন না কেনখুব ভালো কথা জন্ম দিনটিকে পরাক্রম দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, জাতীয় ছুটি  কেন ঘোষণা  করা হল না? ১৯৯৭ সালে নেতাজির ১০০তম জন্ম দিনে তদানীন্তন কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় ছুটি ঘোষণা করে ছিলেন। আমরা সাধারণ মানুষ  আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করাচ্ছে বর্তমান কেন্দ্রের বিজেপি সরকারও নেতাজির ব্যাপারে লুকচরি খেলছেন, পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীরা তো সব  বিস্ময়করভাবে নীরব।  অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে জানে না। আমি আপাতত  প্রবাসী, অসমে বাঙালি হিন্দুদের উপর  ডিটেনশন ক্যাম্পের নামে, এন আর সি-র নামে যে মানসিক অত্যাচার চলছে তার পরেও এখানকার বুদ্ধুজীবীরা একটি  শব্দও খরচ করেনি। তাই  নেতাজিকে নিয়ে ভাববে তা আশা করা বৃথা। আমার ভুল ভ্রান্তি হয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

নেতাজি জন্ম দিবসে নয়া ঠাহর-এর সম্পাদক অমল  গুপ্তের ভাষণ, স্থান কান্দি রামেন্দ্র  সুন্দর ত্রিবেদী মিউজিয়াম, ওই দিন অমল গুপ্ত তার দাদু শিবনাথ গুপ্তের ১৮৮৬ সালের স্নাতক ডিগ্রির অরিজিনাল সার্টিফিকেটে  মিউজিয়ামের হাতে অর্পণ করেন


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.