নেতাজিকে নিয়ে কেজিবি-র না বলা কথা...
জয়দীপ মুখার্জি
ভারতের
ইতিহাসের বঞ্চিত মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র/বিসুকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা
কংগ্রেস সরকার দীর্ঘদিন যাবৎ করে চলেছে। কংগ্রেসের এই ষড়যন্ত্রে হাতে হাত
মিলিয়েছেন এ দেশের কমরেডরা। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করে
বাঙালিবিদ্বেষী গান্ধি-নেহেরু পরিবার ও কংগ্রেস দল বিগত ৬৭ বছর ধরে দেখানোর চেষ্টা
করেছে যে কংগ্রেসই দেশে স্বাধীনতা এনেছে। কিন্তু তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা
প্রমাণ করে দিতে ৬৭ বছর সময় লাগছে ভারতবাসীর। স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি
সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্যই ব্রিটিশরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ১৯৪৭
সালের স্বাধীনতার পর নেহেরু ঐতিহাসিক প্রতুল গুপ্তকে আজাদ হিন্দ ফৌজের ইতিহাস
লিখতে নির্দেশ দেন। প্রতুল গুপ্ত অত্যন্ত পরিশ্রম করে বহু তথ্য ও নথি জোগাড় করে
আজাদ হিন্দ ফৌজের ওপর আনুমানিক ৫০০
পাতার একটি বই তৈরি করেন। কিন্তু বাঙালিবিদ্বেষী নেহেরু ওই নথি চাক্ষুষ করা মাত্রই
তা নিষিদ্ধ করে দেন। সেই তথ্য সম্বলিত ঐতিহাসিক দলিলটি আজও দিল্লির ডিফেন্স
অ্যাকাডেমিতে রক্ষিত রয়েছে ক্লাসিফায়েড হিসেবে। ১৯৪৫ সালে আজাদ হিন্দ সরকারের
পতনের পর আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দি সৈনিকদের সিঙ্গাপুর থেকে নিয়ে আসা হয়। এই
তথ্য আজও অপ্রকাশিত রয়েছে ভারতের ইতিহাসে। যাঁদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভারতের ইতিহাসে সেই ঘটনার কোনও উল্লেখ নেই বললেই চলে। দেশের স্বাধীনতার জন্য
আত্মনিয়োগ করা
ওই আজাদ হিন্দ সৈনিকদের ন্যূনতম সম্মান জানায়নি
স্বাধীনত্বর ভারতের কোনও সরকার। লর্ড মাউন্টব্যাটনের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড
ছাপিয়ে গিয়েছিল ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকেও। কিন্তু
সেই সময় ইতিহাসের কণ্ঠরোধ
করেছিল ইংরেজ, পরে সেই জুতোয় পা গলিয়েছিল ভারতের স্বাধীন সরকার। আজাদ
হিন্দ ফৌজের আত্মসমর্পনের সময় লর্ড মাউন্টব্যাটেন অষ্ট্রেলিয়ায় ছিলেন।
সিঙ্গাপুরে রক্ষিত ফৌজের প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির বাটোয়ারা করবার
জন্য মাউন্টব্যাটেন
অষ্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যান। অন্যদিকে দিল্লি থেকে সিঙ্গাপুরে পাড়ি দেন জওহরলাল
নেহেরু। সিঙ্গাপুরের এমআই-৫ মেজর জেনারেল হিউটয়ের সামনে আজাদ হিন্দ ফৌজের
সম্পত্তি, যার আনুমানিক মূল্য ৭২ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল
পরিমাণ অর্থ ভাগ বাটোয়ারা হয় নেহেরু ও মাউন্টব্যাটেনের মধ্যে। সেই অর্থ কোথায়
গেছে তা আজও জানা যায়নি, বা জানতে দেওয়া হয়নি তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের
সৌজন্যে। বর্তমানে সেই জেনারেল হিউটয় বৃদ্ধ অবস্থায় লন্ডন শহরের অদূরেই বাস
করেন। আটের দশকে ভারতের স্বাধীনতা ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে কেন্দ্র করে একটি বই লেখেন
জেনারেল হিউটয়। গোপন তথ্য
ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত বইটি প্রকাশ করতে দেয়নি ব্রিটিশ সরকার। ১৯৪৫
সালে আজাদ হিন্দ সরকারের পতনের পর লর্ড মাউন্টব্যাটেনের বুদ্ধিতে জহওরলাল নেহেরু
বলপূর্বক দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতার পক্ষে সায় দেয়। এতে অবশ্য গান্ধিজির সায় ছিল
না। কারণ জহরলাল জানতে পেরেছিলেন ১৯৪৫ সালে তাইহকুতে বিমান দুর্ঘটনায় মারা
যাওয়ার কথা রটনা ছাড়া কিছুই নয়। আর রাশিয়াতে আশ্রয় নিয়ে নেতাজি আবারও আজাদ
হিন্দ ফৌজ পুর্নর্গঠনের জন্য উদ্যোগী হবেন। নেহেরুসহ জাতীয় কংগ্রেসের
নেতৃত্ববৃন্দ আতঙ্কে
ছিলেন যে সুভাষচন্দ্র বসু আবারও রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে আইএনএ বা ইন্ডিয়ান
ন্যাশনাল আর্মি নিয়ে ভারতে প্রবেশ করবেন। তাই তড়িঘড়ি দেশের ব্যটন হাতে নিয়ে
পরিস্থিতির ওপর স্বনিয়ন্ত্রন জরুরি হয়ে পড়েছিল নেহেরুর পক্ষে। ১৯৪৬ সালে একটি
চিঠিতে দেখা যাচ্ছে নেহেরু চিঠি লিখছেন ইংল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
ক্লেমেন্ট এটলিকে। ওই চিঠিতে নেহেরু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে জানাচ্ছেন, সুভাষচন্দ্র
বসুর সংবাদ পাওয়া
যাচ্ছে রাশিয়া থেকে। সেই চিঠিতেই বোঝা
যাচ্ছে সুভাষচন্দ্র বসুকে আশ্রয় দেওয়াকে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না। এই চিঠিটি নেহেরুর পূর্বতন
সচিবসত্যনারায়ণ সিনহা প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। ১৯৪৫ সালের পর থেকেই নেহেরু এবং
জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ববৃন্দ নেতাজির ভয়ে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ফলে তারা
নেতাজির ভারতে ফেরার সবরকম পথ বন্ধ করতে উঠে পড়ে লাগেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন
ভারতবর্ষে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে কাজটি করেছিলেন, তা হল
রাষ্ট্র
সংঘের সঙ্গে ভারতবর্ষের একটি চুক্তি। যে চুক্তিতে সুভাষচন্দ্র বসুকে
যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দেখানো
হয়েছিল। যদি কখনও জীবিত বা মৃত অবস্থায় নেতাজিকে ভারতের মাটিতে পাওয়া যায়
তাহলে তাকে ভারত সরকার রাষ্ট্র সংঘের হাতে তুলে দেবে। এই চুক্তি এখনও বহাল রয়েছে।
সর্বোপরি মিত্রবাহিনী। কর্তৃক সুভাষচন্দ্র বসুর ‘বডি
ওয়ারেন্ট’ আজকের দিন পর্যন্ত বর্তমান ভারতবর্ষে। তাহলে
দেশবাসীর ভাবনার বিষয় যে কীভাবে একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ককে কাগজের
চুক্তিপত্রের মাধ্যমে দেশদ্রোহী প্রমাণ করা যায়? পাঠককুল
পর্যবেক্ষণ করবেন ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল
নেহেরু ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত (যতদিন স্তালিন বেঁচেছিলেন) ততদিন একদিনের জন্যও সোভিয়েত রাশিয়ায় যাননি। আর যোসেফ স্তালিনও কোনওদিন ভারতে আসেননি। ঐতিহাসিক নথি
বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে স্তালিন নেহেরুকে চরম অপছন্দ করতেন। তার জন্য আমরা দেখতে
পাই স্তালিন তার মাতৃভাষা জর্জিয়ান ভাষায় বিভিন্ন ডায়েরিতে একাধিকবার নেহেরু
সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর নেহেরু তার বোন বিজয়লক্ষী পণ্ডিত ও ড. সর্বেপল্লী
রাধাকৃষ্ণনকে সোভিয়েত
রাশিয়াতে পাঠান। সেখানে গিয়ে নেহেরু সহোদরা
স্তালিনের সাক্ষাৎপ্রার্থী হতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। জানা যায়, স্তালিন
বিজয়লক্ষী পণ্ডিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু ড. সর্বেপল্লী
রাধাকৃষ্ণনকে স্তালিন শুধু সাক্ষাৎই করেননি, তাকে
নৈশভোজে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। জানা যায়,
ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনকে দুর থেকে পেরিজিল কিনোর রাজবন্দি গৃহে বন্দি নেতাজিকে দেখানো হয়েছিল। রাশিয়া থেকে ফিরে ড, সর্বেপল্লী
রাধাকৃষ্ণণ তাঁর ও
স্তালিনের আলাপচারিতার কথা নেহেরুকে জানালে, শোনা গিয়েছিল সুভাষ সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে মুখ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন নেহেরু। তাঁর
পুরস্কারস্বরূপ পরবর্তী সময়ে ১৯৫০ সালে সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনকে ভারতের
উপরাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ করা
হয়েছিল। ১৯৫৩ সালে স্তালিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েত
কমিউনিস্ট পার্টিতে ‘ডিস্টালিনাইজেশন’ শুরু
হলে ক্রুয়েশ্চভ এবং বুলগানিন সোভিয়েত
রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে পৌঁছোন। তখন
তারা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে নতুন মিত্র রাষ্ট্রের খোঁজ করছিলেন। কারণ ততদিনে
পৃথিবীতে ‘কোল্ড ওয়ার’ (ঠান্ডা
লড়াই) শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময় থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলি দুটি লবিতে বিভাজন
হওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। তখন সদ্য জন্ম নেওয়া পাকিস্তান আমেরিকান লবিতে
স্থান পায়।। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ভারতকে মিত্রশক্তি
হিসেবে পাওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এই সুবর্ণ সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন ভারতের
প্রধানমন্ত্রী নেহেরু। তখন নেহেরু অবলম্বন করেছিলেন ‘গিভ
অ্যান্ড টেক পলিসি'। তিনি ভালোভাবেই জানতেন সুভাষচন্দ্র বসু রাশিয়ার আশ্রয়ে
আছেন। তাই সোভিয়েত
রাশিয়ার কাছে নেহেরুর আর্জি ছিল, ভারত তথা নেহেরু সোভিয়েত লবি মেনে চলবে। তাই সুভাষচন্দ্র বসুকে
রাশিয়ায় আশ্রয় দেওয়া। যাবে না। সেই অলিখিত চুক্তির ফলশ্রুতি হিসেবে ১৯৫৫ সালে
নেহেরু প্রথমবার রাশিয়ায় পা রাখেন। স্বাধীনতার দীর্ঘ আট বছর পর তিনি রাশিয়ায়
যান। লবি মেনটেন করতে পালটা জুয়েশ্চভ ও বুলগানিনও ভারতে আসেন। পাঠককুল লক্ষ করে
দেখবেন, ১৯৫০ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ার তৎকালীন
রাষ্ট্রপতি স্তালিনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন এ দেশের কমিউনিস্ট নেতা নেত্রীরা।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
ছিলেন, অরুণা আসাফ আলি, শ্রীপদ
ডাঙ্গে, অজয় ঘোষ,
বাসব পুনাইয়া সহ একাধিক কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। সেই সময় ডাঙ্গের
সঙ্গে স্তালিনের নেতাজিকে নিয়ে কথোপকথন
টেপ রেকর্ডারে আজও বর্তমান কেজিবি-র প্রকাশিত তথ্যে। শ্রীপদ ডাঙ্গের মেয়ে শৈলজার
কাছেও রক্ষিত রয়েছে সেই রেকর্ড টি। পাওয়া নথি থেকে দেখা যাচ্ছে, এদেশের
কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে নেহেরুর মাখামাখি ভালো চোখে দেখছেন না রাশিয়ান কমরেড স্তালিন। সেই কথোপকথনের একটি অংশে রয়েছে সুভাষচন্দ্র বসুর
প্রসঙ্গও। ১৯৫৫ সালের পর থেকে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদল হতে থাকে। ভালো করে লক্ষ করলে পাঠক বুঝতে পারবেন ১৯৫৬ সাল হচ্ছে
প্রকৃতার্থে ‘টার্নিং পয়েন্ট। ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির ২০-তম সম্মেলনের
অ্যাজেন্ডায় রয়েছেন সুভাষচন্দ্র বসু (সমস্ত নথি ও তথ্য বর্তমান)। তাহলে, ১৯৪৫
সালে যদি নেতাজি মারাই যান, ১) তাহলে ১৯৫৬ সালে কেন? সোভিয়েত রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনের
খসড়ায় স্থান পেয়েছেন তিনি। ২) ১৯৫৬ সালে ভারত-রাশিয়া মৈত্রেয়ী চুক্তি সম্পাদন
করছেন নেহেরু-ক্রুশ্চেভ। ৩)
নেহেরু রাশিয়া থেকে ফিরে গিয়ে ভারতবর্ষে শাহনওয়াজ কমিটি গঠন করছেন। অথচ এতদিন
নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনে
কোনও কমিশন বা কমিটি গঠন করা হয়নি। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় গেলে মানেটা এমনই
দাঁড়ায় যে ১৯৫৫ সালে নেহেরু-ক্রুশ্চেভ বন্ধুত্বের পর যে ‘গিভ
অ্যান্ড টেক’ পলিসি নেওয়া হয়েছিল তারই ফলস্বরূপ ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র
বসুকে আর রাশিয়ায় আশ্রয় দেওয়া হবে কি না তা সিদ্ধান্ত স্থির করতেই সুভাষচন্দ্র
বসু সংক্রান্ত অ্যাজেন্ডায় রাখা হয়েছিল। স্তালিন পরবর্তী জমানায় খুব সহজেই
নেহেরুর নতুন বন্ধু ক্রুশ্চেভের মতামত পলিটবুরোয় প্রাধান্য পেয়ে যায় যে স্তালিন পরবর্তী
সময়ে নেহেরুকে নিয়েই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে রাশিয়ার কমিউনিস্ট সরকার এগিয়ে
যায়। তার ফলে পুরোনো অবস্থান থেকে সরে এসে সুভাষচন্দ্র বসুকে আর
আশ্রয় দিতে চায়নি। এবং যার ফলশ্রুতি হিসেবে ভারত-রাশিয়া মৈত্রেয়ী চুক্তি করছেন
নেহেরু-ক্রুশ্চেভ। ১৯৫৬ সালে কেজিবি-র প্রকাশিত একটি নথি থেকে দেখা যাচ্ছে যে
সাইবেরিয়াতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বন্দি বিভিন্ন দেশের এক লক্ষ সৈনিক কোনও এক
অজ্ঞাত কারণে হারিয়ে গিয়েছে। সহজেই অনুমেয় যে তাতে ভারতের এক বীর বঞ্চিত
বঙ্গসন্তানও হারিয়ে গিয়েছে ওই এক লক্ষের ভিড়ে। ১৯৫৬ সালের পর জহওরলাল নেহেরু ও
ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে সোভিয়েত
ইউনিয়ন ও সোভিয়েত
কমিউনিস্ট পার্টি এবং এদেশের কমিউনিস্ট পার্টির যে মাখামাখি শুরু হয়েছিল। তা
সুদূর সম্প্রসারিত হয়েছিল ১৯৯০ সালে সোভিয়েত
রাশিয়া ভেঙে যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত। ১৯৪৫-৫৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস এবং
কমিউনিস্টরা যৌথভাবে অপপ্রচার করে। নেতাজিকে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত প্রমাণ করার
চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই বঞ্চিত মহানায়কের মৃত্যু কিছুতেই বিশ্বাস করেনি ভারতবাসী।
তখনই বিভিন্ন সময়ে সুকৌশলে রাশিয়ার অধ্যায় ও কেজিবি-র ভূমিকাকে আড়াল করার জন্য
সুভাষচন্দ্র বসুকে বিভিন্ন সাধুবাবা সাজাবার কৌশল নেন। কখনও বা শৈলমারির বাবা,
কখনও বা ফৈজাবাদের বাবা সহ মোট আট
রকমের বাবা সাজিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে আজও তৎপর কংগ্রেস এবং গান্ধি-নেহেরু
পরিবার। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত
পতনের পর কেজিবি-র বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসলে এদেশে কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টির
অনেক নেতানেত্রীর আসল মুখোশ খুলতে
থাকে। যেমন ভারতের কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রীরা মাসেকত করে টাকা পেতেন কেজিবি থেকে,
পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের তথাকথিত সর্বহারা কমিউনিস্ট নেতারা কত টাকা করে
মাসোহারা পেতেন তাও প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতের
কংগ্রেস সরকার এখনও ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকবার চেষ্টা করছেন। রাশিয়ার
ওমসক শহরের কারাগারে হারিয়ে যাওয়া সুভাষচন্দ্র বসুর সত্য কিন্তু চাপা থাকবে না।
আজ তাঁর জন্ম দিবসে আসুন আমরা নেতাজি অনুরাগীরা শপথ নিই যে ষড়যন্ত্রকারীরা
সুভাষচন্দ্র বসুকে যোগ্য
সম্মান না দিয়ে ষড়যন্ত্র করে দেশে ফিরতে দেয়নি সেই সব দায়ী ভদ্রলোকবেশী মুখোশ খুলেদিয়ে প্রকৃত সত্যকেভারত তথা বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করতে হবে। নেতাজি
সুভাষচন্দ্র বসুকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা যতই করুন এ দেশের কংগ্রেস ও কমিউনিস্টরা,
তা সত্ত্বেও মজার বিষয় হল যে ভারতবর্ষের নবপ্রজন্ম নেতাজিকে
আন্তরিকভাবে সম্মান দেন, সেই সম্মান ভারতের অন্য কোনও ব্যক্তিত্ব পান না।
তাই তিনি হারিয়ে গেলেও, আজও অমর হয়ে আছেন ও থাকবেন।
লেখক : সম্পাদক নিখিল ভারত লিগ্যাল এইড ফোরাম, কলকাতা










কোন মন্তব্য নেই