শুরু হলো গুয়াহাটি গ্রন্থমেলা,মেলা প্রাঙ্গনে গ্রন্থপ্রেমী লোকের ভিড়
দেবযানী পাটিকর,গুয়াহাটি।
পাণ্ডুর ওম বাবা আশ্রমে ফুটে থাকা হলুদ ফুলগুলি আজও আমার স্মৃতিপটে সজীব। তথাগত রায়।
গুয়াহাটি বইমেলায় ছেলেবেলার স্মৃতিচারণায় ত্রিপুরার পূর্ব রাজ্যপাল ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথাগত রায়। ৩৩ তম গুয়াহাটি গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের ভাষণ প্রসঙ্গে ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। অসাম আমার মায়ের মত বলে তিনি বলেন ছেলেবেলায় আমিনগাঁও হয়ে ফেরিতে আসার সময় পান্ডুর ওম বাবা আশ্রম এর ফুটে থাকা হলুদ ফুলগুলি আজও আমার স্মৃতিপটে সজীব হয়ে রয়েছে।
মহাত্মা গান্ধীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে গান্ধীজী অসমকে জাদুকরী সৌন্দর্যের দেশ বলেছিলেন। আর এ কথা খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি আরো বলেন যে উত্তর-পূর্বাঞ্চল তার খুব প্রিয় জায়গা। এখানকার সবুজ উপত্যকা, নীল পাহাড় ,হলুদ ফুল, ব্রহ্মপুত্রে লাল জল সবই তার আত্মাকে ছুঁয়ে যায় ।আসামের সাথে রয়েছে তাঁর আত্মার যোগ।তাই এই জায়গা তার কাছে আনন্দের স্থল ও তার ছেলেবেলার অনেক স্মৃতি আসামের সাথে জুড়ে রয়েছে।
নিজের ভাষণে তথাগত রায় বলেন যে অসম আর পশ্চিম বাংলার সংস্কৃতির মিলন হওয়া উচিত। তিনি অসম আর বাংলার সংস্কৃতি ডঃ ভুপেন হাজারিকার গান ,কামাখ্যা মন্দির, শংকরদেব ,মাধবদেব ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির কথা উল্লেখ করে বলেন যে এই অসম- বাঙালির সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে।
আসাম প্রকাশন পরিষদের ৩৩ তম গ্রন্থমেলা মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর থেকে আসাম ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ময়দানে শুরু হয়েছে চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। গতবছর করোনার জন্য বই মেলার আয়োজন করা হয়নি। এবার এই মেলাই প্রথম মেলা যেখানে লোক আনন্দ উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করছে। এ বছরে বই তে ১২০ জন প্রকাশক অংশগ্রহণ করেছেন। যদিও লকডাউন এর সময় প্রকাশন উদ্যোগ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু এবারের বইমেলাতে অনেক প্রকাশকদের সংস্থাই ভাগ নিয়েছেন। প্রদীপ জ্বালিয়ে গুয়াহাটি গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথাগত রায় সাথে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা ঋষিকেশ গোস্বামী ও অরুণাচলের বিশিষ্ট সাহিত্যিক যেয়ে দরজে ঠঙসী বই মেলাতে অরুণাচল, রাভা, বোরো ও বিভিন্ন জনজাতির বারোটি গ্রন্থ উন্মোচন করা হয়।
মেলা তে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ঋষিকেশ গোস্বামী বলেন যে গ্রন্থ রেগিস্থানএর মরুদ্যান ।তিনি নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বই পড়ার উৎসাহ ও আগ্রহ জাগানোর কথা বলেন বলে বলেন যে বই এর অনেক শক্তি আছে যার দ্বারা আমাদের নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আত্মসম্মানবোধ বানাতে পারা যায় ।
অরুণাচলের বিশিষ্ট সাহিত্যিক যেয়ে দরজে ঠঙসী বলল যে চলতি বছরটা বিভিন্ন উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই পার হয়েছে। সবার মধ্যেই নিরাশা ছিল। আর এই করোনার সময়ে লোকেরা বই পড়া শুরু করেছে । এটা খুবই আশাজনক কথা আর এটা আমাকে খুবই উৎসাহিত করেছে। সমগ্র বিশ্বের লোকেরা অনলাইন যোগে লকডাউন এর সময় বই পড়তে শুরু করেছে ।করোণা মহামারীর সাহিত্যের ক্ষেত্রে অনেক ভালো কাজ করেছে। লেখকদের এর জন্য এই সময়টা অনেক ভালো ছিল, কারণ লেখকরা পড়ার ও লেখার অনেক সময় পেয়েছে, আর এই সময়ের সদুপযোগও তারা করেছেন। কারণ লেখকরা পড়া শোনার জন্য অনেক সময় সময় পেয়েছিল।
আসাম প্রকাশন পরিষদ এদিন বিশিষ্ট সংস্কৃত পন্ডিত ও অসমীয়া সাহিত্যিক ডঃ থানেশ্বর শর্মা আর বিশিষ্ট ভাষাবিদ রমেশ পাঠককে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।











কোন মন্তব্য নেই