Header Ads

অটলের জন্মদিনে মূর্তি বসাতে বাধা সরকারের, বাধা ঠেলেই মূর্তি বসালেন বিদ্রোহী সুদীপ

বিপ্লব বৈদ্য, আগরতলাঃ ত্রিপুরার বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের  বাধাকে রীতিমতো  বুড়ো আঙুল  দেখিয়ে দেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী  অটল বিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনে আগরতলার আঞ্চলিক  ক্যান্সার হাসপাতালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মর্মর মূর্তি নিজে দাঁড়িয়ে  থেকে বসালেন ত্রিপুরার বিদ্রোহী  বিজেপি বিধায়ক,প্রাক্তন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ। শুক্রবার  দুই  বিধায়ক  আশীষ সাহা ও সুশান্ত চৌধুরী সমেত  প্রচুর কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিজেপি দলের পতাকা কাঁধে বিশাল মিছিল করে ক্যান্সার হাসপাতালে  গিয়ে  বাজপেয়ীর মর্মর মূর্তি  বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার  দেবের প্রশাসনকে রীতিমতো  চ্যালেঞ্জ জানালেন  সুদীপ  রায়  বর্মণরা।  মূর্তি স্হাপন করে শ্রদ্ধা নিবেদন  শেষে সাংবাদিকদের সুদীপ বাবু রাজ্যবাসী ও বিজেপি দলের  কার্যকর্তাদের মনোবাসনা পূর্ণ  হয়েছে। ত্রিপুরায় প্রথম মূর্তি  বসল অটলজীর।  অটল বিহারী  বাজপেয়ী  যে মাপের  নেতা তাতে এই মর্মর মূর্তি  স্হাপন করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন কিছুই  না। যারা মূর্তি বসাতে বাধা দিয়েছিলেন তারাও বাজপেয়ী র মূর্তি  বসানো হয়েছে জানতে পারলে খুশি হবেন বলে কার্যত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তার অনুগামীদের টিপ্পনী  কাটলেন তিনি। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় অবস্থিত আগরতলা  আঞ্চলিক ক্যান্সার কেন্দ্রে বাজপেয়ীর মর্মর মূর্তি  বসানোর উদ্যোগ নিয়ে  ১৯ ডিসেম্বর বিধাশক রসমপ্রসাদ পাল, আশীষ কুমার সাহা ও সুশান্ত চৌধুরীকে নিয়ে ক্যান্সার হাসপাতালের সুপার গৌতম  মজুমদারের  সঙ্গে  কথা বলে জায়গা চিহ্নিত  করে আসেন। সরকারি জায়গায় মূর্তি  বসানোর অনুমতির জন্য লিখিত আবেদনও জানান হাসপাতাল সুপারের কাছে। মর্মর মূর্তির আবরন উন্মোচন করতে রাজভবনে গিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে  আসেন রাজ্যপালকে। অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি  হিসাবে  মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে ফোনে বারে বারে কথা বলার চেষ্টা  করে ব্যর্থ হয়ে ২২ ডিসেম্বর  মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি  দিয়ে  অামন্ত্রন জানানো হয় বলে নিজেই জানান সুদীপ বাবু। বৃহস্পতিবার মূর্তি  বসানোর জন্য শ্রমিকরা কাজ করতে গেলেই বাধে বিপত্তি। মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ দুই আমলা মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্য সচিব অতি তৎপরতা দেখিয়ে ক্যান্সার হাসপাতালের সুপারকে নির্দেশ  দেয় স্বদলীয় বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করতে। সঙ্গে  সঙ্গেই বিধায়কের বিরুদ্ধে   পুলিশে অভিযোগ  দায়ের  করেন  হাসপাতাল সুপার। অভিযোগ  পেয়েই পুলিশ ছুটে আসে।  গ্রেপ্তার  করে নিয়ে যায় ডেকোরেশনের কাজ করতে আসে শ্রমিকদের। সরকারের সঙ্গে  আলোচনা না করে হাসপাতাল  চত্বরে  মূর্তি  স্হাপনের সিদ্ধান্ত  একেবারে  বলে জানিয়ে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণকে চিঠি দেন রাজ্য সরকারের যুগ্ম সচিব এস রায় চৌধুরী । সরকারের দেওয়া  চিঠিতে  স্পষ্ট  করে বলা হয়, সরকারি জমিতে এই ধরনের অনুষ্ঠান  করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে শুধুমাত্র  রাজ্য সরকার। আপনি এই সম্পূর্ণ  অনৈতিক ভাবে অধিকারের সীমা লংঘন  করে  এই উদ্যোগ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আপনার এই সিদ্ধান্তে গভীরভাবে  মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছেন। আপনার এই উদ্যোগ অনভিপ্রেত। মুখ্যমন্ত্রী আশা করেন ভবিষ্যতে  এই ধরনের অনভিপ্রেত  উদ্যোগ থেকে বিরত থেকে বিধায়ক পদের মর্যাদা  রক্ষা করবেন। সরকারি  নিয়মনীতি  উপেক্ষা  করে সরকারি  জমিতে  এই ধরনের উদ্যোগ শুধু  বিস্ময়কর নয়, আশ্চর্যজনকও বটে। সরকারের কথায় পাত্তা না দিয়েই অটল বিহারী  বাজপেয়ীর মূর্তি স্হাপন  করে রাজ্য সরকারকে কার্যত বিপাকে ফেললেন সুদীপ বর্মনরা। সুদীপ বর্মনদের বিরুদ্ধে  আইনত কিংবা দলীয়ভাবে কোন ব্যবস্হা নিতে পারবে সরকার?  গোটা ত্রিপুরা  জুড়ে এখন এটাই চর্চার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.