রাজ্যে করোনা সন্ত্রাস অব্যাহতঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : ব্রিটেন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মারণ রোগ
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ওয়েভ মারাত্বক আকার ধারণ করেছে। ভারত অনেকটা
নিয়ন্ত্রণে। ১ কোটি ২১ লক্ষ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৪ লক্ষ ৮০ হাজারের মত। অসমে মৃত্যুর হার ১ শতাংশের নীচে। ১০৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৩৯ জন আক্রান্ত
হয়েছে। দেশের চারটি রাজ্যে প্রথম টিকাকরণের মহড়া শুরু হয়েছে। তারমধ্যে অসমও
আছে। আজ বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান, করোনা মহামারীর সন্ত্রাস আজও অব্যাহত। তাই বিভিন্ন
জেলাতে এই রোগ প্রতিরোধে কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। বিধানসভায় আবুল
কালাম রশিদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা জানান। লকডাউনের সময়
থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু
হয়েছে ১০৩৭ জনের। এছাড়াও এই সময়ে সর্বমোট মৃত্যু হয়েছে ১৩৫৭ জনের। মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের
অন্যান্য রোগ সহ করোনাতেও আক্রান্ত হয়েছিল। আসাম স্টেট কোভিড ডেথ অডিট বোর্ড অনুযায়ী
এই মানুষগুলোকে মৃত্যুর কারণ কেবল করোনা বলা যাবে না। তিনি বলেন, ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনা রোগ প্রতিরোধে ১০৩২,৪৯,৯৯,৪৮৫,০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কয়রেন্টিনের জন্য সরকার
মোট ১০৯৬,৮২,০০,০০০,০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কয়রেন্টিনে রাখার
জন্য অস্থায়ী কোভিড হাসপাতালের কাজে ২৭৮১ জনকে সাফাইকর্মী
হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। আগামীদিনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যে কোনো
নিযুক্তিতে এই সাফাইকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অসমে কেন্সার রোগী সম্পর্কে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কেন্সার রুগীর চিকিৎসার জন্য ডাক্তার বি বড়ুয়া কেন্সার
হাসপাতাল অসমের বৃহত্তম হাসপাতাল। অসমে কেন্সার রোগীর সংখ্যা ১১৬১৫ জন। গোয়ালপাড়া জেলাতে ৪৩৮ জন রুগী আছেন। তিনি বলেন, আই সি এম আর-এর তথ্য
অনুযায়ী ন্যাশনাল কেন্সার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রামের অধীনে প্রতি বছরে অসমে নতুন
সম্ভাব্য কেন্সার রোগীর সংখ্যা ৩৪,০৭৬ শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, অসম সরকারের
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ টাটা ট্রাস্টের সঙ্গে এক চুক্তিমর্মে অসমে ১৯টি কেন্সার
হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে ডিব্রুগড়, গুয়াহাটি, বরপেটা, তেজপুর, কোকড়াঝার, লখিমপুর, দরঙে কেন্সার
হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। বরাকের করিমগঞ্জ শহরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
নির্মাণ সম্পর্কে কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, ২০১৮,১৯ বাজেটে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব গ্রহণ করা
হয়। কিন্তু বাজেট প্রস্তাব এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তবে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
বরাকে এক মিনি সচিবালয় স্থাপন করার জন্যে গত ২০১৭,১৮ বাজেটে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৬ বিঘা জমি অধিগ্রগণ করা হয়েছে, সীমানা প্রাচীর
নির্মাণের জন্য ৪১৩,৬৩৩৬২ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজ চলছে। ২৫ শতাংশ কাজ হয়েছে।
বলেন, অসম সরকার বরাকে মিনি সচিবালয় স্থাপনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যতদিন সম্পূর্ণ
কাজ শেষ না হয়, ভাড়া বাড়িতে জরুরি
বিভাগের কাজ শুরু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী ২০১৯ সালের ২ মার্চ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।









কোন মন্তব্য নেই