শুভেন্দু’র বিধায়কপদে ইস্তফা নিয়েও জল্পনা শুরু !!
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়
নিয়মানুযায়ী হাতে লিখেই ইস্তফাপত্র বিধানসভার স্পীকারের কাছে জমা দিতে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্পীকারের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দিতে পারেন নি। দলীয় কর্মসূচীতে ব্যস্ত থাকার কারণে স্পীকার তাঁর অফিসে ছিলেন না। শুভেন্দু তাঁর পদত্যাগপত্র স্পীকারের সচিবের দপ্তরে জমা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু নিয়ম মেনে হাতে লিখে ইস্তফা জমা দিলেও তাতে নিয়মের ফাঁক রয়ে গিয়েছে। অধ্যক্ষের হাতে পদত্যাগ পত্র জমা দেননি তিনি এবং পদত্যাগপত্রে তিনি কোনো তারিখ দেন নি--তাই বিধানসভার স্পিকার সেই ইস্তফা গ্রহন করতে নারাজ। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুভেন্দুর ইস্তফা আপাতত গ্রহন করা হচ্ছে না। কারণ বিধায়কের ইস্তফা পত্র গ্রহনের অধিকার সচিবের নেই !
এদিন দুপুরে তিনি একটি অন্য গাড়িতে করে বিধানসভায় যান। সেখানে বিধানসভার সচিবের ঘরে বসে হাতে পদত্যাগ পত্র লেখেন। কারণ বিধায়ককে পদত্যাগ করতে হলে হাতে লিখে পদত্যাগ পত্র জমা দিতে হয় বিধানসভায়। সেই নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন শুভেন্দু--যদিও তাতে একটু নিয়মের ফাঁক থেকে যাওয়ায় তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যগ পত্র গৃহীত হবে কিনা তার অপেক্ষা শুভেন্দু করবেন বলে মনে হয় না। কারণ, তিনি জানেন বেশ কিছু দলবদলু পদত্যাগ না করেও দিব্যি তৃণমূল হয়ে বিধানসভা আলো করে বসে আছেন--স্পীকার তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেন নি ! সুতরাং এই বিষয়টি নিয়ে তিনি মাথা ঘামাবেন বলে মনে হয় না।
ইতিমধ্যেই মন স্থির করে ফেলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তাতে পুলিসের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু। এমনকী তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধেও পুলিস মিথ্যে মামলা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। শুভেন্দুর চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।
এদিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েই তিনি চলে যান পানাগড়ে তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে। সেখানে তাঁর আগেই পৌঁছে যান বিধায়ক ও আসানসোল পুরসভার প্রশাসক জিতেন্দ্রনাথ তিওয়ারি এবং কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু। সেখানে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তাঁরা আলোচনায় বসেন। আচমকা এই বৈঠকের খবরে রাজনৈতিক মহলে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুভেন্দুর আজ বিধায়কপদে ইস্তফার খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র চতুর্দিক থেকে বিদ্রোহের খবর আসতে শুরু করে। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ খবরটি হল--পানাগড়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই উত্তরবঙ্গ থেকে মমতার ফোন আসে জিতেন তিওয়ারির কাছে--কিছুক্ষণ কথাও হয়--তবু জিতেন তিওয়ারি বৈঠক বাতিল না করে শুভেন্দুর সঙ্গে আলোচনায় বসেন !
মমতা এখন উত্তরবঙ্গে। ফলে এটা আরও স্পষ্ট হল যে, মমতার পরে এমন একজন নেতাও নেই যিনি এইভাবে বিগড়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে সামলাবার ক্ষমতা রাখেন। এমন কী প্রশান্ত কিশোরও যে কোনো কাজেরই নন--সেটাও প্রমাণিত হল !









কোন মন্তব্য নেই