অসমে নবগঠিত রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য
নয়া
ঠাহর প্রতিবদন, গুয়াহাটিঃ অসমে নবগঠিত রাজনৈতিক দল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এই
প্রথম প্রেস মিট করে এবং এরা প্রকাশ করে দলের উদ্দেশ্য, ডিমান্ড।
বরাক
উপত্যকা বঞ্চিত হচ্ছে সব দিক থেকে! আর্থ-সামাজিক
উন্নয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে বরাক উপত্যকার প্রতি দিশপুরের বৈষম্য আর
বঞ্চনা চোখে পড়ার মতো। এর প্রতিবাদস্বরূপ সম্প্রতি গঠন করা হয়েছে নয়া রাজনৈতিক দল ‘বরাক
ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’।
একনজরে
দলের উদ্দেশ্য দেখে নেয়া যাকঃ
১/
বরাক উপত্যকার মানুষের কল্যাণে সকল চিন্তাভাবনা এবং কাজ।
২/
বৈষম্যের বিরোধিতা করা।
৩/
২০১৪ সালের ভোটার তালিকা অনুসারে সবাইকে ভারতের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
৪/
ধর্ম-কাস্টের ওপর হওয়া বিভেদের বিরোধিতা। অর্থাৎ, বৈষম্য চলবে
না।
৫/
বরাক উপত্যকার মাতৃভাষা রক্ষা করা।
৬/
সংসদীয় গণতন্ত্রের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।
৭/
কল্যাণের জন্য চিন্তাভাবনা করা এবং নাগরিকের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া এবং বিভাগীয়
রাজনীতি যথাযথভাবে অস্বীকার করে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের পক্ষে কাজ করা ।
৮/
একটি উন্নত সমাজ গঠনে বিশ্বাস স্থাপন করা।
৯/
একটি সুখী এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উপত্যকা গঠন প্রভৃতি।
তদুপরি
বিডিএফ অনুভব করেছে যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সমস্যাগুলি
সমাধান করতে বিডিএফ অত্যন্ত যত্নের সাথে চেষ্টা/ কাজ করবে।
১/
শীঘ্রই কাছাড় পেপার মিল এইচপিসি, পাঁচগ্রাম খুলে দেয়া।
২/
২০১৪ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে সবাইকে ভারতের নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করা।
৩/
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিলচর রেলস্টেশনকে ভাষা শহীদ স্টেশন, শিলচর নামকরণ
করা। প্রভৃতি। বিডিএফ মূলত প্রতিবাদী দল। প্রভৃতি আরো অনেক।
একটা
বড় ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে এই দল।
মোট
৭ জন আহ্বায়ক এবং ষোলো জন সদস্য নিয়ে কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদুপরি
পাঁচজনকে নিয়ে একটি মিডিয়া সেলও গঠন করা হয়েছে। পাঁচ জনের মিডিয়া সেলে রয়েছেন ঋষিকেশ
দে,
সাদিক
মেহাম্মদ লস্কর,
কলপ্রর্ণব
গুপ্ত,
জয়দীপ
ভট্টাচার্য ও স্বপন ভট্টাচার্য।
উপদেষ্টা
মণ্ডলীতে আছেন বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বরা।
মণ্ডলীতে
সভাপতি হিসেবে আছেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ তপোধীর ভট্টাচার্য।
যিনি অসমের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি!
অন্যান্য
সদস্যদের মধ্যে আছেন,
অধ্যাপক
মানিক তালুকদার,
বীরেন্দ্র
বর্মণ,
এল.আর.লস্কর
(রিটায়ার্ড আই.এ.এস),
বিদ্যুৎজ্যোতি
পুরকায়স্থ (এক্স ডেপুটি ইন্সপেক্টর অব স্কুল), আভা শ্রীবাস্তব
এবং মহুয়া রায়চৌধুরী।
দল
‘বরাক
ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের’
মুখ্য
আহ্বায়ক আকসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী প্রদীপ দত্ত
রায় এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বরাক
উপত্যকার তিন জেলা থেকে আরও প্রতিনিধি এখানে যুক্ত করা হবে এবং গঠন করা হবে একটি
পূর্ণাঙ্গ উপদেষ্টা কমিটি।
মূলত
সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন প্রদীপ দত্ত রায়! বিজেপির বিরুদ্ধে রীতিমতো ফুঁসে
উঠেছেন প্রদীপ দত্ত রায়!
তাঁর
অভিযোগ,
অসমে
বাঙালিদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আর তাদের ঠকিয়েই যাচ্ছে সরকার! এভাবে আর কতদিন।
বিজেপি
বাঙালি বিরোধী দল। সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে এবং অসম সরকার বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে
বিভিন্ন চক্রান্ত করেই যাচ্ছে।
বরাক
উপত্যকায় ১৯৬১ সালে ভাষা আন্দোলনে যে ১১ জন শহিদ হয়েছিলেন তাঁদের স্মৃতিতে
ভাষাশহিদ স্টেশন নামাকরণ এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়পত্র দেওয়ার পরও অসম সরকার
কিন্তু সেটি আটকে দিয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই