রঞ্জিত দাস যা পারেন তা ডাক্তার রাজদীপ রায় তা পারেন না, বরাকের বিজেপি নেতাদের সৎসাহস নেই
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : শিলচর থেকে
সৌরাষ্ট্র চার লেনের মেগা সড়ক নির্মাণ ছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারীর স্বপনের
প্রকল্প। সেই প্রকল্পের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার অংশ
আজও সম্পূর্ণ হল না। যার স্বপ্নের প্রকল্প সেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারীর
আজ ছিল জন্ম দিন। শিলচরে বিশাল ব্রোঞ্জের প্রতিমূর্তি উন্মোচন করেন কেন্দ্রীয় সড়ক
পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গরগরি, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ
সনোয়ালের উপস্থিতিতে শিলচরের বিজেপি সাংসদ ডাক্তার রাজদীপ রায় কিন্তু রাস্তাটি আজও
অসম্পূর্ণ থাকায় বরাকের মানুষের দুঃখ যন্ত্রণার কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হলেন। বিজেপি
রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত দাস বাংলা হিন্দি ভাষণে বরাকের মানুষের অন্তরের কথা তুলে ধরে
মন জয় করে নিলেন। যা রাজদীপ পারলেন না। বিজেপির প্রথম কার্যনির্বাহী বৈঠকে দিসপুর
উঠে আসে বরাকে, বরাকের ১১জন ভাষা শহীদকে
আজও দিসপুর স্বীকৃতি দিলো না। বরাকের বাংলা ভাষাকে অমর্যাদা করেই চলেছে বিজেপি
সরকার। ডিটেনশন ক্যাম্পে ১০৪ বছরের চন্দ্র ধর
দাসকে পুরে দেওয়া হয়, বিদেশি কলঙ্ক মাথায় নিয়ে তার মৃত্যু হয়। এন আর
সি রূপায়ণের নামে রাজ্যের বাঙালিদের যেভাবে হেনস্থা করা হয়, ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠেলে
দেওয়া হয়, ২৭ জন বিনা চিকিৎসায় মারা যান। কংগ্রেসের
মুখপাত্র জামসের আলী আজ অভিযোগ করেন অমলা দাসের বৈধ নথিপত্র থাকা সত্তেও ডিটেনশন ক্যাম্পে
পুরে দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে তার স্বামী মারা যান। তাকে কয়েক ঘন্টার জন্যে ছাড়া
হয়েছিল। কেবল হাতের শাঁখা আর সিঁদুর মুছে
ফেলার জন্যে। তা না হলে স্বামীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে না। এই ধর্মীয় রীতি
মানার জন্যে জামসের আলীদের একান্ত অনুরোধ মেনে অমলাকে ছাড়া হয়। অমানবিক বিজেপি সরকারের
বরাকের একমাত্র শিল্প পাঁচগ্রাম পেপার মিলে গতকাল আবার একজন শ্রমিক ধনঞ্জয় পাঠক
বিনা বেতনে, বিনা চিকিৎসায়
মারা গেলেন। শ্রমিক নেতা মানবেন্দ্র চক্রবর্তী আজ এই অভিযোগ করে বলেন, ৪৮ মাস বেতন পাননি।
মৃত্যু মিছিল চলছেই। বরাকের কয়লা, বার্মিজ সুপারি, ইউরিয়া সার, গরু পাচার বড় শিল্প,
কোটি কোটি টাকার কালো
কারবার। সেই টাকার ভাগ কে পায়? কার পকেটে যায় তা নিয়ে সি বি আই তদন্তের কথা
শোনা গিয়েছিল। বরাকে এত বড় বিজেপি সমাবেশ হল, মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে
বরাকের বিজেপি নেতারা বরাকের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারতেন। কিন্তু মুখ খুললেই
টিকিট অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তাছাড়া, দুর্নীতি করলে বুকে সাহস জন্মায় না, তাই কি করেই বা ভাষা শহীদদের কথা, চন্দ্র ধর দাসদের
কথা, পেপার মিলের কথা বলবেন?









কোন মন্তব্য নেই