Header Ads

৭০ বছর সরকারি দাক্ষিণ্যে ধর্মগ্রন্থ কোরান পড়নো হয়েছে, হিন্দু-খ্রীষ্টানরা গীতা, উপনিষদ, বাইবেল পড়ানোর দাবি জানায়নি : হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

 

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : আজ বিধানসভাতে বহু বিতর্কিত দি আসাম রিপিলিং বিল-২০২০’  নামে বিলটি শিক্ষা মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা উত্থাপন করেন। এ আই ইউ ডি এফ এবং কংগ্রেস দলের তীব্র বাধার মধ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। এ আই ইউ ডি এফের রফিকুল ইসলাম, মামুন ইমদাদুল হক, নজরুল হক প্রমুখ বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে আরবি ভাষা তুলে দেবার চেষ্টা হয়েছেতা তারা মানবেন না। তারা বলেন, আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করে আরব দেশগুলোতে চাকরি করছে অসমের বেকার যুবককেরা শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু যুবকও আছেন। রকিবুল হোসেন বলেন, এই শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা হাইলাকান্দিতে বলেছিলেন আধ্যাত্মিক শিক্ষার জন্য মাদ্রাসার প্রয়োজন আছে, সেই শিক্ষামন্ত্রী মাদ্রাসা তুলে দিতে চাইছেন। শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জবাবে বলেন, প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলি যেমন আছে থাকবেতাছাড়া সরকারি মাদ্রাসা তুলে দেওয়া হলেও শিক্ষকদের চাকরি পেনশনের পুরো নিরাপত্তা থাকবে। বলেন, সরকারি অর্থে মাদ্রাসায় কোরান পড়ানো হচ্ছে, ৬০,৭০ বছর থেকে হিন্দু ক্রিস্টানরা কোনোদিন দাবি তোলেনি সরকারি অর্থে ভাগবত গীতা, বাইবেল পড়াতে হবে। ভারতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, সব ধর্মের সমান অধিকার, সরকারি মাদ্রাসা চলবে, আর কোরানের মত ধর্মগ্রন্থ পড়ানো হবে তা সমর্থন করা যাবে না। হাই মাদ্রাসায় ১০০  নম্বরের ধর্মগ্রন্থ কোরান সাবজেক্ট আছে। ধর্মের নামে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সরকারি টাকায় কি করে কোরান শরীফ পড়ানো হবে। জেহাদের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কাম, ক্রোধ, লোভ সংবরণ করার জেহাদ আজ অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মুসলিম পন্ডিতরাও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কোরান ধর্মগ্রন্থ পড়ানোর বিরোধিতা করেছেন। খারিজি মাদ্রাসা শিক্ষার জন্যে বিগত তরুণ গগৈ সরকার লাখ টাকা করে অনুদান দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাদানী সায়েব তার আপত্তি করেছিলেন। রকিবুল হোসেনও সেখানে ছিলেন। উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরে মাদ্রাসা শিক্ষা উন্নয়নের জন্য ৫৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেবানারস, আলীগড়ে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়অথচ অসমে তা বন্ধের চেষ্টা চলছে, তা আগামী ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। বিরোধীদের এই যুক্তি অগ্রাহ্য করে হিমন্ত বলেন, সরকারের টাকায় মাদ্রাসা চলবে নাধর্মগ্রন্থ পড়ানো যাবে না। আরবি ভাষার ক্ষেত্রে সরকারের আপত্তি নেই। কটন কলেজেও আরবি ভাষা পড়ানো হয়। তিনি স্বীকার করেন, আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করে আরব দেশগুলোতে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, একদিন হয়ত আরবের মানুষ ভারতে আসবে, ভাষার সংস্কার হলে সব সম্ভব। 




কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.