Header Ads

বিশ্বে ২২ কোটি বাংলাভাষী, অসমীয়া দেড় কোটি, শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই চন্দ্রমোহন পাটোয়ারী

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : সারা বিশ্বে ২২ কোটি বাংলাভাষী  মানুষ, অসমকে ধরে সারা বিশ্বে মাত্র দেড় কোটি মানুষ  অসমীয়া ভাষী, বাংলাভাষা উন্নত ভাষা, রবীন্দ্রনাথের ভাষা, সমৃদ্ধ  ভাষা তাই শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিশ্বে হিন্দি ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা সংস্কৃত, নিরোদ সি চৌধুরী সংস্কৃতে   লিখে গেছেন।  বোরোলান্ডে  রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর শান্তি এসেছে। বিগত বড়ো  ত্রিপাক্ষিক চুক্তির সময় কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং বড়ো নেতৃত্ব বড়ো ভাষাকে সহযোগী সরকারি ভাষা করার দাবি জানিয়েছিলাম। সেই  সমঝোতা চুক্তিকে সম্মান জানানোর জন্য বড়ো ভাষাকে সহযোগী সরকারি ভাষা হিসাবে 'দি আসাম অফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ এমেণ্টমেন্ট বিল, 2120' বিলটি সরকার উত্থাপন করেন। এর অর্থ বাংলা ভাষাকে অসম্মান করা বোঝায় না। আজ বিধানসভার শেষ দিন সরকার এই বিলটি উত্থাপনকালে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে উত্তর করিমগঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক কমলাক্ষ‍্য দে পুরকায়স্থ প্রশ্ন তোলেন ৯০ লাখের বেশি বাংলাভাষী মানুষ অসমে  আছে। ১২ লক্ষ বড়ো ভাষী মানুষ। তবে বাংলা ভাষাকে না করে বড়ো ভাষাকে সরকারি সহযোগী ভাষা করা হল কেন?  মাতৃভাষা সহ সব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করে বলেন, তিনি বড়ো ভাষাকে সরকারি সহযোগী ভাষা হিসাবে দিতে আপত্তি নেই, তবে বাংলা কেন নয়। পরিষদীয় মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারী এর জবাব দিতে গিয়ে কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সবসময় বরাক ব্রহ্মপুত্রের ভাষা সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের উপর জোর দেন।আমাদের এমন কিছু করা উচিত সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। অধ্যক্ষ হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামির অনুরোধ সত্ত্বেও বিলের সংশোধনী প্রত্যাহার করতে রাজি হননি কমলাক্ষ‍্য, তিনি গোঁ ধরে থাকেন। বলেন বাংলা ভাষায় গান গেয়ে ভূপেন হাজারিকা কলকাতায় স্বীকৃতি লাভ করেন। বাংলা ভাষাকে সরকারি সহযোগী ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে বিধানসভাতে কেবল একাই লড়ে গেলেন কমলাক্ষ‍্য পাশে বরাকের বিজেপির কোনো বিধায়ককে পেলেন না। কমলাক্ষ‍্যকে নাছোড়বান্দা দেখে সরকারকে অসস্থির হাত থেকে উদ্ধার করতে নামেন অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা বিশ্ব বরেণ্য  ভাষা, রবীন্দ্রনাথের ভাষা। বাঙালিরা বিবেকবান, চিন্তাশীল, শান্তি প্রিয় জাতি, বিশ্ব বন্দিত বাংলা ভাষাকে তার মর্যাদা হ্রাস করে কি সহযোগী সরকারি ভাষা করা যায়? বৃহত্তর বাঙালি সমাজ তা মেনে নেবে কি? সদনে উপবিষ্ট শিলচরের বিধায়ক দিলীপ পালকে প্রশ্ন করেন, আপনি মানবেন কি? বলেন ১৯৮৫ সালে হিতেস্বর সইকিয়া মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় বড়ো ভাষাকে সহযোগী  সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। কোকড়াঝাড়, উদালগুড়ি সহ নিদিষ্ট কিছু এলাকায়, ১৯৬৮ সালে উপেন ব্রহ্মরা অসম ফিফটি ফিফটি জোরদার আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এখন শান্তি এসেছে, এখন যদি বড়োভাষার মর্যাদা হানিকর কিছু করা হয় তবে রাজ্যে ভুল বার্তা যাবে। হাগ্রামা মহিলারি, প্রমীলা রানী ব্রহ্মরা কি ভাববেন? বড়োরা ৮৫ শতাংশ ভোট দিয়ে পরিষদ গঠন করলো, শান্তি ফিরে এসেছে। অসমে উপজাতীয় গোষ্ঠীরা ভূমিপুত্র। তিনি প্রশ্ন তোলেন চার বছর পর  ভাষার প্রশ্ন  তুলে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে? বৃন্দাবন গোস্বামি বলেন, ভাষার প্রশ্নে সারা বিশ্বে আন্দোলন হয়, অসমে মিসিং, দেউড়ি প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতি সত্তার সামনে  চ্যালেঞ্জে এসেছে। রবীন্দ্রনাথ, আশুতোষ মুখপাধ্যায় প্রমুখ বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। এ আই ইউ ডি এফ এর আমিনুল ইসলাম অসমীয়া ভাষাকে সমগ্র রাজ্যে লিঙ্ক ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেবার দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত কমলাক্ষ‍্য তার সংশোধনী  প্রত্যাহার করলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার  পথ প্রশস্ত হয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.