Header Ads

দিল্লির কৃষক আন্দোলন কাদের স্বার্থ পূরণ করছে? দেশের ৯৫ শতাংশ গরিব কৃষকের কি লাভ?

 

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : পঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষক অধিকাংশ ধনি, কৃষি কাজ না করে, জমিতে না গিয়ে ও এক বছর ধরে আন্দোলন করার হুমকি দেবার ক্ষমতা রাখেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের জলখাবার প্রত্যাখ্যান করে বলেছে তারা গরম জিলিপি, গরম দুধ, ঘি লাগানো রুটি খেতে অভ্যস্ত, তারা এত গরিব নন। দিল্লি হরিয়ানা সীমান্তে সিংঘুতে ২০ দিন ধরে কয়েক লক্ষ কৃষক আন্দোলন করছে। দিল্লির সাহীনবাগে আন্দোলনকারীদের যারা প্রতিদিন বিরিয়ানির মতো দামি খাবার সরবরাহ করতেন, আজ তারা দুবেলা ঘি লাগানো রুটি, পরোটা, লুচি, দুধ, লস্যি প্রভৃতি সরবরাহ করছে। এক বিরাট মেশিনে ২৪ ঘন্টা রুটি, লুচি তৈরির কাজ চলছে, সঙ্গে দামি ব্রান্ডের পানীয় জল। দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ গরিব কৃষক শ্রমজীবী মানুষ এই ভারতেই থাকে হার জিরজিরে বলদ, নিয়ে, ভুখা পেটে জমি চাষ করে অধিকাংশের নিজস্ব জমিও নেই, পরের জমিতে চাষ করে, পারিশ্রমিক খুবই কম। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক ঘি লাগানো রুটি, গরম দুধ, জিলিবির কথা ভাবতেও পারে না। আর চিকেন বিরিয়ানি সে তো আকাশের চাঁদ। করোনা উদ্ভুত জটিল পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ হারিয়ে, যান বাহন না থাকায় পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে গিয়ে পথেই প্রাণ হারালেন সেই পরিজায়ি শ্রমিকদের সমান্য রুটি আর পানীয় জল সরবরাহ করতে কোনো এনজিওকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। কারণ তাদের ভোট নেই। দেশের একাংশ সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনকারী কৃষকদের জন্যে দরদ উঠলে উঠছে। দেশে প্রতি মাসে গড়ে ৭০ জন ঋণগ্রস্থ কৃষক সুইসাইড করেন। গত ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরলে হাজার ৩৪০ জন সুইসাইড করেছেন। এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১৮ সালে ১০, ৩৪৯ জন সুইসাইড করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো কি করছে।

হরিয়ানা পঞ্জাবের কৃষকরা হাইব্রিড ফসল উৎপাদন করে অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন, ব্যাপক রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পরিবেশ প্রকৃতিতে দূষণ বাড়াচ্ছে। গঙ্গা-যমুনা, ব্রহ্মপুত্র সহ দেশের অধিকাংশ নদ-নদী জল বিষাক্ত। এর জন্যে অবশ্য কৃষকদের দোষ দেওয়া যেতে পারে না। কল-কারখানার বর্জ সবই নদ-নদীতে পড়ে, সরকারের কড়া কোনো নীতি নেই। ২০ দিনের কৃষক আন্দোলনকে বিদেশে পর্যন্ত ছড়িয়েছে দেশ বিরোধী খালিস্থানীরা। তা যেকোনোভাবে বন্ধ করতেই হবে। কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি কৃষি আইন এক সঙ্গে পাশ না করিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল এই ধরণের আইন বিগত কংগ্রেস সরকার ও সংসদে আনার চেস্টা করেছিল। উত্তরাঞ্চল রেলওয়ে ম্যানেজার আশুতোষ গঙ্গোল বলেছেন, কৃষকদের রেল অবরোধের ফলে রেলের ২৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আন্দোলনের জন্যে ঘুর পথে পণ্য পরিবহনের জন্য ৫০ শতাংশ বেশি সময় লাগছে নিত্যদিনের পণ্য সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। আন্দোলনকারী কৃষকরা তো বলেছে মাস থেকে বছর পর্যন্ত আন্দোলন করার রসদ সঙ্গেই আছে। কয়েক লক্ষ ট্রাক্টার আর দামি গাড়িতে ভর্তি করে খ্যদ্য সামগ্রী আনা হয়েছে। দেশের ৯৫ শতাংশ কৃষকের হাতে তো কিছুই নেই। এক বেলা কৃষি জমিতে কাজ না করলে দুবেলা ভাত রুটি ও জুটবে না। গরম দুধ, ঘি লাগানো রুটি, বিরিয়ানি তো তাদের কাছে স্বপ্ন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.