Header Ads

ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদের হাজার দুয়ারী উজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে

 


অমল গুপ্ত, লালবাগ, মুর্শিদাবাদ : ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ জেলার হাজারদুয়ারী প্রাসাদটি জেলার সৌধ সমূহের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্যর উজ্জ্বল নির্দশন। তিনতলা বিশিষ্ট এই মনোরম প্রাসাদটি নির্মাণ করেন নবাব নাজিম হুমায়ন ১৮২৯ সালে। এর সুসজ্জিত গোলাকার বৃহৎ কক্ষটি দরবার হল হিসাবে ব্যবহার করা হতএর প্রশস্ত কক্ষগুলি অফিস সংক্রান্তে ব্যবহার করা হতএর কয়েকটি কক্ষ উচ্চ পদস্থ ইংরেজ পদাধিকারী আবাস স্থল হিসাবে ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ মহকুমার গঙ্গাতীরের ঐতিহাসিক আসল নকল হাজার দুয়ারের এই স্থাপত্য কলার মনোরম সৌধটি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ ১৯৭৭ সালে সংরক্ষণ করে। এই সৌধের ভেতরে ব্রিটিশ ও অন্যানদের তৈল চিত্র, আলোক চিত্র, অঙ্কিত চিত্র,  রৌপ্য নির্মিত সিংহাসন, হাতির দাঁতের নির্মিত পালকি, শ্বেত পাথরের ভাস্কর্য, বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র, পোশাক-আশাক, মূল্যবান অলংকার, দুষ্প্রাপ্য লিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত আছে এই সুরম্য প্রাসাদের সামনে ইমামবাড়া বৃহৎ প্রাসাদ  সহ অসংখ্য ঐতিহাসিক প্রাসাদ ভগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে।

কলকাতা থেকে ১৯৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নবাব নাজিম হুমায়ন খাঁ-র নির্মিত ৮০ ফুট উচ্চতায় হাজার দুয়ারীর ১০০টি কৃত্রিম দরজা প্রায় ২৭০০টি অস্ত্রশস্ত্র,  আলিবর্দী ও সিরাজদৌল্লার ব্যবহার করা তরবারি এমন কি যে ছুরি দিয়ে মহম্মদি বেগ সিরাজকে খুন করেছিলেন সেই ছুরিও সংরক্ষিত আছে। মন্ত্রণাকক্ষর লুকোচুরি আয়না সোনা দিয়ে মোড়া কোরান শরীফ, বিশ্ববিখ্যাত সব ঘড়ি সংরক্ষিত আছে। বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সমাধি দর্শনে বিশ্বের পর্যটকরা আসেন। মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের প্রপৌত্র বাংলার সুবেদার আজিমু শানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে দেওয়ান মুর্শীদকুলি খাঁ দেওয়ানি সদর দফতর রাজধানী জাহাঙ্গির নগর বর্তমান ঢাকা থেকে মকসুদা বাদে নিয়ে এসে স্থাপন করেন। তাই আজ মুর্শিদাবাদ। দিল্লির মোগল সম্রাট ১৭১৭ সালে মূর্শিদকুলি খাঁ-কে বাংলার সুবেদার মনোনীত করলে ঢাকার পরিবর্তে মুর্শিদাবাদ রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.