কামাখ্যা মন্দিরে ২০ কিলোগ্রাম সোনা দান মুকেশ আম্বানির
নয়া
ঠাহর প্রতিবেদন, গুয়াহাটিঃ যত দিন যাচ্ছে দীপাবলি এগিয়ে আসছে।
হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। উৎসবের আবহে সেজে উঠছে ৫১ পিঠের অন্যতম অসমের
কামাখ্যা মন্দির। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানি মোটামুটি ১০
কোটি টাকায় সতীপিঠ কামাখ্যা মন্দিরের পাত সম্পূর্ণ সোনায় মুড়ে দিচ্ছেন।
এর জন্যে সোনা লাগছে
প্রায় ২০ কেজি। ইতিমধ্যে সে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। দীপাবলির আগে আগেই শেষ করে ফেলা
হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিলায়েন্স
ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কামাখ্যা মন্দিরকে আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্যে এই
সোনা দিচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য
যে,
কামাখ্যা
মন্দিরের মূল গম্বুজে ইতিমধ্যে তিনটি সোনার কলসী আছে যদিও নতুন করে নির্মাণ করতে
চলা কলসীগুলির আকার আগের তুলনায় বড় হবে।
রিলায়েন্স
ইন্ডাস্ট্রিজ ইতিমধ্যে এই কাজের জন্যে গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকদের নীলাচলে
প্রেরণ করেছে এবং রিলায়েন্স জুয়েল এই কাজের তদারকি করছে।
শেষবার
যখন আম্বানি কামাখ্যায় এসেছিলেন, তখনই মন্দির কর্তৃপক্ষকে কথা
দিয়েছিলেন,
মূল
মন্দিরের চূড়া সোনা দিয়ে মুড়ে দিতে যতটুকুই খরচ হবে, তার সবটুকু
তিনি দেবেন। সে মতে কথা রেখেছেন আম্বানি।
মন্দিরের
ট্রাস্ট বোর্ডের প্রধান মোহিতচন্দ্র শর্মা কাজ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে জানাচ্ছেন, প্রাথমিক কাজ
শেষ হয়ে গিয়েছে। আশা করা হচ্ছে দীপাবলির আগেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। রিলায়েন্সের
তরফ থেকেই কামাখ্যা চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মোহিত
চন্দ্র শর্মা বলেন,
“আমরা
এখনো কোনধরনের বিভাগীয় খবর পাইনি যদিও কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আম্বানি দম্পতি
কামাখ্যা মন্দির দর্শনের জন্যে আসবেন বলেই আশা করছি”।
উল্লেখযোগ্য
যে,
বৈশ্বিক
মহামারি করোনার জন্যে অনেকদিন বন্ধ ছিল মন্দির। অবশেষে গত ১২ অক্টোবর খোলা হয়।
মন্দির খোলার পর অনেকেই মায়ের দর্শনে গিয়েছেন সুরক্ষাবিধি মেনে।
নীলাচল
পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির হচ্ছে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম।দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি
এখানে পড়েছিল। এ কারণেই প্রতিবছর এখানে জাঁকজমকে অম্বুবাচী মেলা হয়। হাজার হাজার
ভক্তের আগমণ ঘটে অসমের গুয়াহাটি শহরে। আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
তবে
এবার মহামারির জন্যে মেলার সময় পুরো শুনশান ছিল নীলাচল। এমন পরিবেশ আগে কখনো দেখা
যায়নি। এমনকি বিদেশ থেকেও ভক্তরা এখানে আসেন ভালোবেসে।
এই
মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দির রয়েছে। কামাখ্যা মন্দিরের গুরুত্ব
তন্ত্রসাধকদের কাছে অনেক বেশি।
মন্দিরে, নীলাচল পাহাড়ে
যে মানুষ কেবল পুজো দিতেই যান তেমনটা নয়। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মন প্রাণ কেড়ে
নেয়ার মতো!
অসমের
মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রায়ই কামাখ্যায় গিয়ে পুজো দিয়ে আসেন। সম্প্রতি তিনি
গিয়ে আসছেন।









কোন মন্তব্য নেই