অসম-মিজোরাম সীমান্তে চাপা উত্তেজনা, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ
শিলচরঃ গত কিছুদিন ধরে অসম-মিজোরাম সীমান্তে যে চাপা
উত্তেজনা বিরাজ করছে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ
হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে প্রদীপ দত্ত রায় বলেন, মিজোরাম মেঘালয় অতিসত্বর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি
করা হোক। কেননা বিগত কয়েক দিন ধরে ওই দুই রাজ্যে যেসব সাম্প্রদায়িক কাজকর্ম চলছে
সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।কাছাড়ের
অসম মিজোরাম সীমান্ত এলাকায় একটি বাঙালি স্কুল বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমার প্রশ্ন এই সাধারন মিজোরা কোথা থেকে বোমা পেল। আমি আগেও বলেছি মিজোদের পিছনে
বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে। এবং সেই শক্তির উৎস হচ্ছে চীন। চায়না নজর পূর্বাঞ্চলের
দিকে। চায়না যদি কোনদিন ভারত আক্রমণ করে তাদের মূল টার্গেট হচ্ছে
উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখল করা । উত্তর-পূর্বাঞ্চল কে চায়না তাদের রাষ্ট্রে
অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে এটা কেন্দ্র সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে না । এমনকি
রাজ্য সরকার এই ব্যাপারে তেমন কোন গুরুত্ব দিতে চাইছে না । তার মূল কারণ হচ্ছে
মিজোরাম এবং মেঘালয় বিজেপি শাসিত সরকার রয়েছে সেই জন্য এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে
অবহেলা করছে । তারা একবারও ভেবে দেখছেন না রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের
দেশের স্বার্থ অনেক ঊর্ধ্বে । দেশের স্বার্থের কথা না ভেবে শুধু রাজনৈতিক
স্বার্থের কথা ভাবলে চলবে না । উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেডার সভাপতি হচ্ছেন রাজ্যের
প্রভাবশালী মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা । আশ্চর্যজনক ভাবে উনি নীরব । উনি কেন নীরব
এটাই রহস্যজনক । কেন্দ্রীয় সরকার ছোট করে দেখে তাহলে ভবিষ্যতে আফশোস করতে হবে
।খাসি স্টুডেন্ট' উনিয়ন শিলংয়ে
বাঙালির বিরুদ্ধে পোস্টার লাগানোর সাহস কোথা থেকে পেলে । পোস্টারে লিখছে শিলংএ
বসবাসকারী বাঙালিরা বাঙালিরা নাকি বাংলাদেশী । এই তথ্য ওরা কোথায় পেল ।বাঙালিরা
কোন ১৯৩০ সাল থেকে মেঘালয় এবং মিজোরামে বসবাস করে আসছে । অথচ বাঙ্গালীদের বলা
হচ্ছে বাংলাদেশী । এইযে বাঙালি বিরোধী মনোভাব এটা ওরা ওদের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের
পরিচয় দিচ্ছে । খাসি এবং মিজোরা বলছে তারা নাকি বাইক ব্লাড খাসি এবং মিজো ।
কিন্তু আমরা ভারতীয় দুর্ভাগ্যজনক বলে ওরা বলছে । ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যাবে
মিজোরা মূলত ভারতীয় নয় । এবং নিজেরা কোনদিনই নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে না ।
তার কারণ হচ্ছে এই মিজোরা এসেছে ভারতবর্ষের বাইরে থেকে । তারা মূলত এসেছে
কম্বোডিয়া থেকে ।কম্বোডিয়া থেকে মায়ানমার হয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেছে
।মিজোরামের পাশে বার্মা বর্ডার তারপর সেখান থেকে থাইল্যান্ড সেখান থেকে কম্বোডিয়া
।সুতরাং মিজো এবং খাসিয়ারা কোনদিনই নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করেন না । তাই আমি
মনে করি এ ব্যাপারে ভারত সরকার যদি গভীরভাবে চিন্তাভাবনা না করে তাহলে ভবিষ্যতে
তাদের অনেক অনুশোচনা করতে হবে ।এবং চায়না ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন
রাজ্যে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে , তাদের গুপ্তচররা
রয়েছে, মিজোদের মধ্যে
চায়নার লোক রয়েছে, যে কারণে তারা
ভারত বিরোধী কার্যকলাপ করতে সাহস পাচ্ছে । আমি প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর
নজরে আনতে চাই যে বিজেপি সরকারের স্বার্থ না দেখে রাষ্ট্রীয় সার্থকতা চিন্তা করুন
।কিন্তু রাস্তায় যদি খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় তাহলে ভারতবর্ষের অস্তিত্ব কোথায় গিয়ে
দাঁড়াবে। তাই আমি আবারো বলছি চায়নার মূল লক্ষ্য হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে
তাদের রাষ্ট্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া । তাই অবিলম্বে মেঘালয় এবং মিজোরামে
রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক ।
প্রদীপ দত্ত রায়
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকসা
আইনজীবী গৌহাটি হাইকোর্ট









কোন মন্তব্য নেই