মদ্যপানের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে অসমের মহিলারা
নয়া
ঠাহর প্রতিবেদন, গুয়াহাটিঃ একজন মহিলা মদ্যপান করছেন, এমনটা শুনলেই
অনেকেরই ভ্রূ কুঞ্চিত হয়। অনেকেই ঘটনাকে
ঘৃণার চোখে দেখেন! মহিলাদের মদ্যপানকে সমাজ এভাবেই দেখে থাকে। নারীবাদীরা বলেন, পুরুষ মদ্যপান
করতে পারলে,
সুস্থ
মস্তিষ্কের একজন নারীও তা করতে পারেন।
এবার
অসমের মহিলা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মহিলাদের টপকে সুরা পানের ক্ষেত্রে প্রথম
স্থান দখল করেছে। এ ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
২০১৯-২০ সালের জন্যে
স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ পরিসংখ্যা প্রকাশ করা তথ্যে এ কথা প্রকাশ পেয়েছে।
তথ্যে
প্রকাশে পাওয়া গেছে,
অসমের
২৬.৩ শতাংশ মহিলারা সুরাপান করেন। ১৫ থেকে ২৯ বছর মহিলাদের মধ্যে একটি সমীক্ষা
চালানো হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এর গড় হচ্ছে ১.২ শতাংশ।
এদিকে, নাগাল্যান্ড, হিমাচল প্রদেশ, গোয়া এবং
কর্ণাটকে সবথেকে কম সংখ্যক মহিলার মদ্যপান করার তথ্য সামনে এসেছে।
উক্ত
রাজ্যগুলোর ০.১ শতাংশ মহিলা সুরাপান করে থাকেন বলেই সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, ১৫ থেকে ৪৯
বছরের তালিকায় দেশে অসমের ৩৫.৬ শতাংশ পুরুষ সুরা পান করেন।
এই
তালিকায় রাষ্ট্রীয় গড় হচ্ছে ২৯.২ শতাংশ এবং ৫৭.৬ শতাংশে প্ৰথম স্থানে রয়েছে
ত্ৰিপুরা।
তদুপরি, পুরুষের ১৫
থেকে ৫৪ বছরের তালিকায় অসম প্রথম স্থান দখল করেছে। এই বয়সের তালিকায় অসমের ৫৯.৪
শতাংশ পুরুষ সুরাপান করেন। রাষ্ট্রীয় গড় হচ্ছে ২৯.৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য
যে,
স্বাস্থ্য
এবং পরিবার কল্যাণ পরিসংখ্যা প্ৰকাশ করা এই তথ্যের পরই অসমের সচেতন মহল চিন্তিত
হয়ে পড়েছে। তবে মহিলার ক্ষেত্রেই যে শুধু চিন্তার বিষয় হবে এই ঘটনা এমন কোন কথা
নয়। প্রতিদিন নেশা-ভাঙ খেয়ে পরিবারের লোকেদের ওপর, স্ত্রী’র ওপর পুরুষের
অত্যাচারের অন্যতম কারণ এই মদ।
দেখা
গেছে,
লকডাউনের
সময় কোথাও মদ না পেয়ে নেশার তাড়নায় ব্যক্তিরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার খেয়ে ফেলেছেন!
অন্ধ্রপ্রদেশে এই ভয়াবহ ঘটনায় মারাও গেছেন বহু লোক।
এক
নারীবাদী এই বিষয়ে বলছেন,
“এ
নিয়ে এত হৈচৈ করার কী হল?
প্রথমত
এমন কখনো দেখা যায়নি যে,
মহিলারা
মদ্যপান করে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে মেরেছেন অথবা কারো ক্ষতি করেছে যে জায়গায় পুরুষ
অনেক বেশি নেশাগ্রস্ত। নিত্যদিন এই মদের জন্যে ঘরে ঘরে অশান্তি লেগে রয়েছে। বিকৃত
মস্তিষ্ক তো আছেই,
পাশাপাশি
মদ,
একেবারে
শেষ করে ফেলছে সমাজ”।









কোন মন্তব্য নেই