Header Ads

করোনায় আক্রান্ত মার্কিন গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

ছবি, সৌঃ আন্তর্জাল


রত্নজ্যোতি দত্ত   

এবারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন হচ্ছে করোনা অতিমারির প্রেক্ষাপটে। করোনার নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে নির্বাচনের প্রচারে। নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরও করোনার প্রভাব থাকবে। করোনা যে এক অতিমারির রূপ ধারণ করবে তা রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম অবস্থায় আঁচ করতে পারেন নি। বিরোধীদের অভিযোগ আমেরিকায় পৃথিবীর সব থেকে বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কারণ রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প করোনার ভয়াবহতা শুরুতে অনুমানই করতে পারেননি। করোনার মতো সংক্ৰমণ আজ অবধি কোনও মহামারির ক্ষেত্রে দেখা যায় নি। করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মার্কিন অর্থ-ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ট্রাম্প করোনার জন্য চিনকে দায়ী করেছেন নিজের দায় এড়ানোর জন্য। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন ট্রাম্পের করোনা শুরুর দিনগুলোর প্রতি দর্শানো লঘু মানসিকতার উপযুক্ত জবাব সাধারণ মানুষ দেবেন ভোটের সময়।

 ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন রাষ্ট্রপতির করোনা মোকাবিলায় বিফলতার প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেননি। এদিকে, ট্রাম্প স্বয়ং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বাইডেন বলেছেন যারা কোভিড সতর্কতা গুরুত্ব সহকারে নেন না তারাতাদের ক্ষেত্রে যা ঘটে তার জন্য দায়ী। প্রচার-শৈলীর এক ভিডিওতে ট্রাম্প বলেছেন তাঁর করোনায় আক্রান্ত হওয়া জনগণের নেতা হওয়ার দায়বদ্ধতার এক দৃষ্টান্ত।

  সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রথম বিতর্কের পর ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী সমীক্ষায় প্রায় দশ শতাংশ মতামতের হারে এগিয়ে ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোভিড অতিমারি উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি, মানবাধিকার, অর্থনীতি, জাতি বিদ্বেষের মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে।

 ভারতীয় সমর্থন

   বাইডেন উপ-রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ভারতীয় বংশোদ্ভুত কমলা হ্যারিসকে বেছে নিয়েছেন। হ্যারিসের উপস্থিতি বাইডেনকে প্রভাবশালী ভারতীয় আমেরিকানদের সমর্থন আদায় করতে সহায়ক হবে। আমেরিকায় প্রায় চার কোটি ভারতীয়ের বসবাস রয়েছে। এক কোটি আশি লক্ষ ভারতীয় মার্কিন এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। প্রায় চব্বিশ কোটি মার্কিন জনগণ নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। দুই পার্টিকেই ভারতীয় মার্কিনরা প্রচুর পরিমাণে দান করেন।

  মার্কিন রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকদের প্রভাব এবং গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ভারতীয় আমেরিকানরা সংখ্যায় সামান্য হলেও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী। স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য প্রযুক্তি, শিক্ষা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভারতীয় আমেরিকানদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাট উভয়ের কাছে তাই ভারতীয় মার্কিনিদের সমর্থন জরুরি।

   ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কিনা তা ফলাফল না ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হিসাবে ঝুলে থাকবে। তবে যেটা নিশ্চিত, তা হল করোনার পুরো প্রভাব থাকবে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে।

ভারতবন্ধু বাইডেন দ্বিপক্ষীয় নীতি

  বাইডেন সত্তর দশক থেকেই ভারতের বন্ধু হিসাবে পরিচিত। সে সময় তিনি পোখরানে পরমাণু বিস্ফোরণের পর সেনেটে ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের জয় বিশ্বের দৃষ্টি আবার মানবধিকার কার্বন শূন্য অর্থনীতির ওপর ফিরাবে। বাইডেন জামানায় ভারতের কাশ্মীর অবস্থান নাগরিকত্ব বিষয় নিয়ে উদ্বেগজনক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। বাইডেনের সহযোগী কমলা হ্যারিস অবশ্য ক্ষেত্রে এক স্বস্তির কারণ হতে পারেন   

  ভারতীয় পর-রাষ্ট্রনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে এক দ্বিপক্ষীয় নীতি অনুসরণ করে চলে। ভারত সরকারের চোখে দুই পার্টিই সমগোত্রীয়। মার্কিন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারই আসল।

  কমলা হ্যারিসের মনোনয়ন ভারতের উপস্থিতির জানান দেয়। করোনার জন্য বিধ্বস্ত মার্কিন অর্থনীতি চিনের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি মার্কিন জনমানসে চিনের প্রতি সামগ্রিকভাবে এক বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করেছে।

 ট্রাম্পের ভাগ্য মোদির হাসি

  ট্রাম্প যদি নভেম্বরের নির্বাচনে হেরে যান, তবে পশ্চিমবঙ্গ অসমের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে স্পর্শকাতর নাগরিকত্ব বিষয়টি আরও সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হবে। দুই রাজ্যে নির্বাচন আসন্ন। পরবর্তীতেও, নাগরিকত্ব ইস্যুটি ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সময় দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একা হয়ে যাবেন। হারাবেন চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য সম্মুখ সমরে পাশে থাকা ভরসা করার মতো একজন বন্ধুকে।

   এ বছরের মার্কিন রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে চিন ভারত দুটি দেশই বিশেষভাবে উপস্থিত রয়েছে। মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যের অভিযোগে ফেসবুক ১৫৫ টি ভুয়ো' চিন থেকে চালিত অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছে। সরিয়ে নেওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মধ্যে কিছু আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন বিরোধিতা করার মত পোস্ট ছিল। চিনের বিরুদ্ধে বাইডেনকে পরোক্ষভাবে সমর্থনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

  ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার জয়লাভ বন্ধুবর মোদিকে ২০২৪- সাধারণ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো জয়লাভের আস্থা যোগাবে। ট্রাম্পের বিজয়ীর হাসি মোদির মুখমণ্ডলে প্রতিফলিত হবে কিনা তা করোনা প্রভাবিত পুজোর পরই জানা যাবে। এখন শুধু কিছুদিনের অপেক্ষা।

সৌঃ নয়া ঠাহর পুজো সংখ্যা ২০২০

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.