Header Ads

৬ নং দফার সুপারিশ বরাকবাসী মানবে না



শিলচর : আসাম চুক্তি ৬ নম্বর ধারা বাস্তবায়িত করতে কেন্দ্রীয় সরকার বিচারক বিপ্লব শর্মার নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি হাই পাওয়ার কমিটি গঠন করে দিয়েছে । সেই কমিটি একটি প্রতিবেদন অসম সরকারের কাছে দাখিল করেছে । যেটা অসম সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়েছে । সেই রিপোর্টে কি বলা হয়েছে তা এখনও ভারতবর্ষের মানুষ জানে না । কিন্তু আসু কি করে এই রিপোর্ট জনসমক্ষে পেশ করল । সেটা অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় । আসুর কাছে এই রিপোর্ট গেল কি করে । নিশ্চয়ই এই হাই পাওয়ার কমিটির কোনো সদস্য আসুর কাছে এ রিপোর্ট ফাঁস করে দিয়েছে । সংসদে এখনো এ ধরনের বিল পেশ হয়নি । বিধানসভাতে এই বিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি । কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তই এখনো গ্রহণ করেনি । তার আগে আসু কি করে এই রিপোর্ট জনসমক্ষে নিয়ে এলো । আমি মনে করি আসুর এই কাজ শুধু অসংবিধানিক নয় , আইন বিরোধী এবং অনৈতিক কাজ । তাই আসুর বিরুদ্ধে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি দাবি জানাচ্ছি ।  আসাম চুক্তির ৬ নম্বর ধারার মধ্যে যে কথা বলা হয়েছে যে ৮০ শতাংশ চাকুরী অসমীয়া দের জন্য সুরক্ষিত থাকবে এবং আসামের জমিজমা , বাড়িঘর অসমীয়া ছাড়া কেউ ক্রয় করতে পারবে না এটাকে আমি কোন অবস্থায় মানিনা । কারন একটা কথা হচ্ছে যে এই ১১ সদস্য কমিটি কিন্তু সুপ্রিম অথরিটি নয় । যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকার এটাকে মেনে নিচ্ছে ।তাই আসুর এসব কথা বলা যুক্তিহীন । আসলে আসু চাইছে অসমীয়া এবং বাঙালি , হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে একটা বিভেদ সৃষ্টি যেন হয় । আসু যে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চলছে সেটা আগামী ২০২১ এর নির্বাচনে ফায়দা তোলার জন্য একটা অসমীয়া উগ্র জাতীয়তাবাদের সেন্টিমেন্ট গড়ে তুলতে চাইছে । অসমে বাঙ্গালীরা ৩০ শতাংশ। আমি মনে করি চাকরির জন্য যদি সংরক্ষণ থাকতেই হয় তাহলে বাঙালিকে ৩০ শতাংশ চাকরি দিতে হবে । এটা ন্যায্য দাবি । আসাম হল বহুভাষী রাজ্য । অসমে কেবল অসমীয়া থাকেনা । এখানে বড়োরা ৫০০ বছর ধরে রাজত্ব করছে , আহোম রয়েছে,  মিসিং রয়েছে,  ডিমাসা রয়েছে,  মনিপুরী রয়েছে , নেপালি রয়েছে । এতসব জনসংখ্যার মধ্যে শুধু অসমীয়া দের জন্য ৮০ শতাংশ চাকরির দাবি এটা একটা অনৈতিক দাবি । এই দাবিকে কোন অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না । আর আসু এটাকে নিয়ে রাজনীতি করছে আর অসমের আবহাওয়াকে বিষাক্ত করতে চাইছে । তাই অবিলম্বে আসুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আমি দাবি জানাচ্ছি । তবে আসাম সরকার ইতিমধ্যেই অসমীয়া দের জন্য ৮০ শতাংশ চাকুরী বন্দোবস্ত করে ফেলেছে। যতটাই মুখ্যমন্ত্রী কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলুন না কেন আসুর বক্তব্য ভিত্তিহীন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি । কিন্তু আসামে দেখুন সম্প্রতিকালে বিভিন্ন বিভাগে চাকুরী হয়েছে কিন্তু একজন বাঙালি চাকরি পায়নি এর জবাব সরকার কি দিবে সরকার। অসম সরকার বাঙ্গালীদের সঙ্গে বঞ্চনা তো করেই চলছে শুধু বঞ্চনা নয় সমগ্র বিষয়ে বঞ্চনা করছে । ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে তার ছিটেফোঁটাও নেই বরাক উপত্যকায় । এখানে ভাষা শহীদ স্টেশন নামাকরন এর জন্য কেন্দ্র সরকার সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে কিন্তু রাজ্য সরকার এটাকে আটকে রেখে দিয়েছে । কী উদ্দেশ্যে আটকে রেখেছে সেটা আমরা কেউ জানিনা। তাই আসাম সরকার যদিও এই ১১ সদস্য কমিটির কথা তুলতে চাইছে না তারা বরাকের সঙ্গে বঞ্চনা এবং বৈষম্য চূড়ান্তভাবে করে যাচ্ছে এর বিভিন্ন প্রমাণ আছে ।গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ডিব্রুগড় মেডিকেল কলেজে যেসব সুবিধা রয়েছে তা কিন্তু শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই । ৫০ বছরের পুরনো এই শিলচর মেডিকেল কলেজে একজন কার্ডিওলজিস্ট আর একজন নিউরোলজিস্ট দিতে পারছে না সরকার । এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় ।  শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ কোনো পরিকাঠামো নেই । আসাম এর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগামীকাল শিলচর আসছেন । তার কাছে আমার একটা প্রশ্ন রইল যে আপনি যে বলেছিলেন ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট কোভি ড কেয়ার সেন্টার এবং ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি কোভিদ হাসপাতাল নির্মাণ হবে তার কি হলো।

প্রদীপ দত্ত রায়
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকসা
আইনজীবী গৌহাটি হাইকোর্ট

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.