রিলিফের চালে কাঁচ, বালি, পাথর: মাথায় হাত মহিলা সমবায় সমিতির
নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, বিহাড়া : হিতাধিকারিদের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল বিনা
মূল্যের চাল। কিন্তু চালের বস্তা খুলেই হতবাক হলেন গড়েরভিতর মহিলা সমবায় সমিতির
সম্পাদিকা নীলা পাল। চালের বস্তার ভেতর রয়েছে অজস্র পরিমাণ বালু, পাথর ও কাঁচের টুকরো। ঘটনাটি ঘটেছে কাটিগড়া
বিধানসভা সমষ্টির অন্তর্গত গড়েরভিতর মহিলা সমবায় সমিতিতে। বৃহস্পতিবার ঐ চাল
হিতাধিকারিদের বন্টন করার সময় মহিলা সমবায় সমিতির সম্পাদিকা নীলা পাল ও বেশ কিছু
হিতাধিকারী তা প্রত্যক্ষ করেন। হিতধিকারীরা এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা
জানান, কাছাড়ের সাপ্লাই
বিভাগের এজেন্ট বিক্রমপুর সমবায় সমিতি এই চাল সরবরাহ করে। বর্তমান সরকারের আমলে
এধরনের চাল সরবরাহ হয় না। তাহলে বিক্রমপুর সমবায় কর্তৃপক্ষ এধরনের চাল কোথা থেকে
পেলেন? পাশাপাশি
গড়েরভিতর মহিলা সমবায়ে দেওয়া কাঁচ, পাথর ও বালিযুক্ত দুই বস্তা চাল অতিসত্বর বদলি করে দেবার জন্য বিক্রমপুর সমবায়
কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানায় তারা। মহিলা সমবায় সমিতির সম্পাদিকা নীলা
পাল বলেন, এধরনের চাল কোন
ভাবেই কোন মানুষ খেতে পারবেন না। একসাথে দুই বস্তা চাল এত খারাপ। কিভাবে যে
হিতাধিকারীদের চাল দিয়ে পোষাবেন এনিয়ে তিনি চিন্তিত। তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালের মে মাস থেকে আজ অবধি গড়েরভিতর মহিলা
সমবায় সমিতির জন্য সরকারী বরাদ্দ কমিশন ও পরিবহন খরচ তিনি পাননি। অন্য ডিলাররা
বিক্রমপুর সমবায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কমিশন ও পরিবহন খরচ সঠিক সময়ে পেয়ে যান।
কিন্তু গড়েরভিতর মহিলা সমবায়ের প্রাপ্য মিটিয়ে দিতে বিক্রমপুর সমবায় কর্তৃপক্ষ
অপরাগ বলে নীলা পাল অভিযোগ করেন। অনেক সময় পরিবহন খরচ এলেও বিভিন্ন খরচের কারণ
দেখিয়ে পরিবহন খরচ থেকে গড়েরভিতর মহিলা সমবায় সমিতিকে বিক্রমপুর সমবায় কর্তৃপক্ষ
বঞ্চিত রাখে বলে অভিযোগ নীলা পালের। এছাড়াও সরকারী বরাদ্দ মহিলা সমবায়ের প্রাপ্য
কমিশন নাকি মহিলা সমবায়ের অ্যাকাউন্টে ঢুকে আবার তা সরকারের অ্যাকাউন্টে চলে যায়
বলে তুঘলকি মন্তব্য বিক্রমপুর সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষের বলে অভিযোগ নীলা
পালের।নীলা পাল বিক্রমপুর সমবায় কর্তৃপক্ষের কাছে পাওনা চার হাজার টাকা দীর্ঘ দিন
ধরে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। লকডাউনের সময় সরকার জনগণের জন্য বিনামূল্যে চাল
বরাদ্দ করলেও এপ্রিল মাসে চালের মূল্যে কোন রেহাই দেয়নি বিক্রমপুর সমবায়
কর্তৃপক্ষ। সম্পাদিকা নীলা পাল আরও জানান উনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এর পাসবুক
দীর্ঘদিন থেকে আটকে রেখেছেন বিক্রমপুর সমবায় কর্তৃপক্ষ।









কোন মন্তব্য নেই